দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষ জামিন পেলেন।
এমন আশঙ্কা আমাদের মনে ছিল না তা নয়, কিন্তু অনেকেই ভরসায় ছিলেন যে সন্দীপ ঘোষের শাস্তির প্রক্রিয়া এই সরকারের আমলে শুরু হবে।
বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা সম্পর্কে আমাদের ধারণা আছে, কিন্তু এমন একটি অতি সংবেদনশীল বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার অবহেলা ও ব্যর্থতা আমাদের শুধু বিস্মিত বা হতাশই করে না, ক্ষুব্ধ করেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এই দীর্ঘ দুই বছরে, অর্থাৎ এই গা-ছাড়া মনোভাব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অকর্মণ্যতার ফলে ইচ্ছে করেই আইনি প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হয়েছে। সন্দেহ হওয়া অস্বাভাবিক নয় যে এই প্রাতিষ্ঠানিক উদাসিনতা ও অসংবেদনশীল আচরণ কি কোনো উচ্চতর ক্ষমতার প্রশ্রয়ে ঘটেছে?যে ক্ষমতার চক্র অভয়াকে নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির কথা ভাবলেও প্রকৃত ন্যায়বিচার চায় না?
যদিও এক্ষেত্রে বলা হতে পারে, যে মামলায় সন্দীপ ঘোষ জামিন পেয়েছেন সেটা অভয়া হত্যা সংক্রান্ত মামলা নয়, দুর্নীতি বিষয়ক মামলা। কিন্তু সমাজের সমস্ত স্তরে একটা ব্যাপার যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে, যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের খুনের পেছনে বৃহত্তর দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্র জড়িত ছিল। ফলে এই বিষয়ক যে কোনো মামলায় সন্দীপ ঘোষের জামিন অর্থাৎ শাস্তি না হওয়া আসলে অভয়া হত্যার ন্যায়বিচারকেই পিছিয়ে দেয়।
অভয়া মঞ্চ এই ন্যায়বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রথম থেকেই সংশ্লিষ্ট সকল অভিযুক্ত ও সম্ভাব্য অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তৎকালীন সরকার তথা প্রশাসন তথা শাসকদলের বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি করেছে। অথচ এই রাজ্যের বর্তমান শাসকদল মুখে যদিও স্বীকার করেছে যে তারা অভয়া আন্দোলনের ফলে উদ্ভুত জনবিক্ষোভের রাজনৈতিক সুবিধে পেয়েছে, এতদসত্ত্বেও এই মামলায় তাদের ভূমিকা হতাশাজনক।
আমরা অভয়া মঞ্চর পক্ষ থেকে, যে প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে সন্দীপ ঘোষের জামিন হয়েছে, সেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অপদার্থতার বিরোধিতা করছি।
আমরা এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আমাদের গণতান্ত্রিক ক্ষোভ ও ক্রোধ প্রকাশ করছি।
অভয়া মঞ্চ অভয়াদের ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে, যতদিন পর্যন্ত না অভয়াদের ওপরে ঘটে যাওয়া নিগ্রহ ও অত্যাচারের সুবিচার পাওয়া যাবে।












