পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পুজোয় বুকস্টলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে নামা দেখে দুজন ব্যক্তির কথাই মনে আসছে। এই দুই কুখ্যাত ব্যক্তি হলেন বকতিয়ার খিলজি ও হিটলার।
বকতিয়ার খিলজি আজ থেকে প্রায় নয়শ বছর আগে তৎকালীন ভারতের জ্ঞান ও সভ্যতার শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় গুলো আক্রমণ করেন। নালন্দা, ওদন্তপুরী, বিক্রমশীলা তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ই ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন। সেসময়কার সমস্ত মুক্তচিন্তার মানুষকে হত্যা করেন। যাবতীয় বই পুড়িয়ে ফেলেন। শোনা যায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বই পোড়াতে তার এক মাসেরও বেশি সময় লেগেছিল। তিনি ছিলেন ঘোরতর মুসলিম মৌলবাদী।
আধুনিক যুগে হিটলারও খুব বেশি পিছিয়ে থাকেননি। ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি বিরোধী মতবাদের বই দেখলেই পোড়াতে ও ধ্বংস করতে নির্দেশ দিয়েছেন। নাৎসি বাহিনী বিভিন্ন লাইব্রেরীর বই পোড়ানো রীতিমতো উৎসবে পরিণত করেছিল।
চার্চও পুড়িয়ে ছিল। কোপারনিকাসের বই। গ্যালিলিওর বই। যেখানেই স্বার্থের ঘা লেগেছে চার্চ বই পুড়িয়েছে। এমনকি বইয়ের পাশে দাঁড়ানো মানুষকেও পুড়িয়েছে। জিওদার্নো ব্রুনো নামক এক অকুতোভয় মানুষ, চার্চকে বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁকেও পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।
আজ আবার এই রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের বাংলায়, এই লালন ফকিরের বাংলায় ক্ষমতার কাছে থাকা বহু মানুষ বই ধ্বংস করতে, বুকস্টল ভাঙতে উঠে পড়ে লেগেছে।
শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সকল মানুষের রুখে দাঁড়ানো দরকার। পড়ার কোন শেষ নেই। সব মতবাদের, সব ধরনের বই পড়া উচিত। প্রচুর পড়লে তবেই মুক্তচিন্তা জন্ম নেয়। অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী। আমাদের রামায়ণ মহাভারত পড়তে হবে, গীতা পড়তে হবে, পুরান উপনিষদ পড়তে হবে। এমনকি হিটলারের লেখা মেন ক্যাম্প পড়তে হবে। আমাদের বিশ্বের ইতিহাস পড়তে হবে। বিবেকানন্দের জীবনী পড়তে হবে, রামকৃষ্ণ কথামৃত পড়তে হবে। ম্যাক্সিম গোর্কির মা পড়তে হবে। নিকোলাই অস্ত্রভোস্কির ইস্পাত পড়তে হবে।
আমাদের নেতাজী, ভগৎ সিং এর জীবনী পড়তে হবে, তাদের লেখা পড়তে হবে। প্রীতিলতার, কল্পনা দত্তের, বীণা বসুর কথা জানতে হবে। আমাদের বিনয়- বাদল দিনেশের কথা, বাঘা যতীনের কথা, মাস্টারদার কথা- জানতেই হবে।
আমাদের রবীন্দ্রনাথ পড়তে হবে, নজরুলও। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়,, বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর সব পড়তে হবে। সুকান্ত সমগ্রকে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু বলে ভাবতে হবে।
একটা ছোট জীবন। জ্ঞানের মহাসমুদ্র। প্রাণপণে সাঁতার কাটতে হবে, যতটা যাওয়া যায়।
আর যারা জলে নামতেই ভয় পায়, তারাই বই ধ্বংস করে।
ছবিঃ নাৎসি বাহিনীর বাহিনীর বই পোড়ানোর উৎসব।












দারুণ
বীণা দাস হবে, ভুল বশত বসু হয়ে গেছে। আমি আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী – ঐন্দ্রিল
বই যাঁরা পুড়িয়ে মজা পাচ্ছে দানবীয় উল্লাসে তাঁরা আর যাইহোক মনুষ্য পদবাচ্য নয়। বাংলা এই যাপনের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। এ আমার তোমার পাপ।