
রাত বারোটায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মেডিকেল কলেজের এমার্জেন্সিতে এসে হুঙ্কার মারবেন। সমস্ত আহত দের বণ্ডে সই করিয়ে অ্যাপোলো পাঠিয়ে দেওয়া হবে। দ্যাট ইজ দ্যা নিউ হেলথ সিস্টেম।
আইভি প্যান্টোপ্রাজোল পাওয়া যাচ্ছে না। অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাভেলেইবেল নয়। একটা টার্শিয়ারি কেয়ার সেন্টারে বিকেলের পর থেকে সিসিইউ ছাড়া কোথাও এবিজি মেশিন কাজ করে না। রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য বেসিক ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড টুকু পাওয়া যায় না। তার মাঝেই ওই ইন্টার্ন গুলো কাজ করছিল। স্যারেরা চলে এসেছিল৷ ফাইল রেডি। ভর্তির প্রসেস কমপ্লিট। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা পেশেন্ট পাঠানো হবে অ্যাপোলোতে। চিকিৎসার একমাত্র শ্রেষ্ঠ ঠিকানা অ্যাপোলো কিংবা মণিপাল। ওষুধের অপ্রতুলতা, সিস্টেমের অভাবে ডিস্ট্রিক্ট হসপিটাল থেকে মেডিকেল কলেজে রেফার হলে সেটা জুনিয়র ডাক্তারদের দোষ! তখন ডাক্তার রা চিকিৎসা দিতে চাইছে না। আর রাত ১২ টায় কলেজ প্রেমিসে দায়িত্ব নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করার নির্দেশ দিলে সেটা তৎপরতা!
একদল চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিষেশজ্ঞ, সাংবাদিক, বুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক সমাজের গাত্রদাহ হচ্ছে যে কেন এমার্জেন্সি তে আপৎকালীন চিকিৎসা শুরু না করে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে । মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি। আসলেই ভুল। আমিও সহমত।
এই রাজনীতিটা অনেকদিন আগে থেকে আরো জোরালো ভাবে করতে হত। সত্যিই মেডিকেল কলেজের এমার্জেন্সিটা কোন পেটোয়া রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র হওয়ার অডিশানের জায়গা নয়। এটা শাসক দলের বুঝে নেওয়া দরকার। যারা সাংবাদিক সম্মেলন টা করেছিস – তোদেরও বুঝিয়ে দেবার দরকার আছে। এই গা জোয়ারি তে ৩৪ বছর ডুবেছে। ১৫ বছরও।
মেডিকেল কলেজ ওখানকার ছাত্রছাত্রীদের, ইন্টার্নদের, জুনিয়র ডাক্তারদের, রোগীদের, নার্সদের, স্বাস্থ্যকর্মীদের। স্বাস্থ্যপরিষেবায় পরিকাঠামোর গাফিলতি কোনোদিন মেডিকেল কলেজ মেনে নেয়নি। আজও নেবে না। তাতে রাত ১২ টা কেন ২৪ ঘন্টাও ম্যাটার করে না।
দু বছর পর সন্দীপ ঘোষ ছাড়া পেয়ে যায়, ডিউটি করতে গিয়ে আমার সহকর্মীকে খুন হতে হয়, পুজো দেখতে গিয়ে কিছু বাচ্চা ছেলে মেয়ে মারা যায়, মন্ত্রী এসে তাঁবেদারি করে গা জোয়ারি দেখিয়ে চলে যায়। মানুষের দাম দশ লাখ থেকে পঁচিশ লাখ হয়। বইয়ের রাস্তা আটকায় বুলডোজার আর এত কিছুর পরও কিছু মানুষ এখনো জুতোর নীচে জিভ লাগিয়ে চাটতেই থাকে।
সেদিনও উৎসবে ফিরতে পারিনি।
আজকেও পারছি না।
আমি লজ্জিত যে একটি ইতর অপদার্থ অশিক্ষিত শাসকের রাজ্যে আমরা বাস করি।











