সত্যেন্দ্রনাথকে (১ জানুয়ারি, ১৮৯৪ – ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪) নিয়ে লেখার সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হল কি লেখা যায় এবং কতটুকু লেখা যায়। একদিকে, সত্যেন্দ্রনাথের নামে পদার্থবিদ্যার জগতে “বোসন” পার্টিকল-এর নাম চিরকালীন হয়ে যাওয়া; আরেকদিকে মাত্র ৩০ বছর বয়সে খোদ আইন্সটাইনের সাথে পত্রালাপের মধ্য দিয়ে বোস-আইন্সটাইন সমীকরণ বা স্ট্যাটিস্টিক্স তথা ডিস্ট্রিবিউশন সমগ্র পৃথিবীর শিক্ষিত মানুষের কমবেশি চেনা শব্দ হয়ে ওঠা – এসব মিলে এমন একটি জ্যোতির্বলয় (halo) তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে যে আসল মানুষটিকে চেনা মুশকিল হয়ে পড়ে।
এরসঙ্গে যুক্ত করুন CERN-এর গবেষণাগারে হিগস-বোসন পার্টিকল নিয়ে অনুধ্যায়ী গবেষণা। ৪ জুলাই, ২০১২-তে CERN-এর ডিরেক্টর জেনারেল Rolf Heuer-এর বিখ্যাত উক্তি – “It” was the Higgs Boson, the almost-mythical entity that had put particle physics in the global spotlight”। (https://alumni.cern/news/284579) এর ফলে জ্যোতির্বলয়টি আরও শক্তিশালী হয়েছে।
অবিভক্ত বাংলায় জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের (১৯০৫-১৯১০) অভিঘাতে প্রধানত দুটি বিষয় শিক্ষার অঙ্গনে এসেছিল – (১) বাংলা ভাষাকে বহুক্ষেত্রে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ, এবং (২) উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণামুখী দৃষ্টিভঙ্গীকে উৎসাহ দেওয়া। একসময়ে জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনের সাথে স্বল্পসময়ের জন্য যুক্ত স্যার আশুতোষ মুখার্জি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি টার্মে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯১৩ সালে তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্নাতকোত্তর পাঠক্রম চালু হল। জমি তৈরি হয়েই ছিল। ফসল ফলতে দেরী হলনা। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ২৫-৩০ বছরের মধ্যে বোস পরিসংখ্যান, মেঘনাদ সাহার তাপ আয়নন তত্ত্ব এবং সি ভি রমনের রামন-এফেক্ট আবিষ্কৃত হল।
শান্তিময় চট্টোপাধ্যায় ও এণাক্ষী চট্টোপাধ্যায়ের লেখা সত্যেন্দ্রনাথ বোস (১৯৭৮) গ্রন্থে তাঁরা একটি নজর করার মতো পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমার সত্যেন্দ্রনাথ বসু যখন তাঁর গবেষণাকর্ম শুরু করেছেন সেসময়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বযুদ্ধ বিজ্ঞানচর্চাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং বিজ্ঞানচর্চার অভিমুখের পরিবর্তন ঘটালো। লেখকেরা বলছেন – “প্রতিরক্ষার কাজে বিজ্ঞানকে প্রয়োগের বিপুল সম্ভাবনার কথা যুদ্ধরত দেশগুলির সরকার বুঝতে পারলেন ফলে সাধারণভাবে বিজ্ঞান গবেষণার উপর এর গভীর প্রভাব দেখা গেল। সরকারি ও আনুকূল্যে বিজ্ঞানের দিক পরিবর্তিত হল। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ছেড়ে সহস আরম্ভ হল বিশাল বিশাল সরকারী অর্থপুষ্ট উদ্যোগ। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গবেষণা ছাড়াও বিজ্ঞানের অন্যান্য বিভাগে বর্ষিত হতে লাগল সরকারী ও দাক্ষিণ্য, কারণ তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের বুনিয়াদ পাকা না হলে ফলিত বিজ্ঞান অথবা প্রয়োগধর্মী গবেষণা বেশি এগোতে পারেনা।” (পৃঃ ১০)
আজকের ভারতবর্ষে তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রে, আমরা অনেকেই বুঝতে পারি, গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। অশোক সেনের মতো একজন বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর “অস্কার ক্লাইন” পুরষ্কার (তাত্ত্বিক ফিজিক্সের অগতে যাকে নোবেল প্রাইজের সঙ্গে তুলনা করা হয়) পাবার মধ্য দিয়ে এই ক্ষতের নিরাময় সম্ভব নয়।
সত্যেন্দ্রনাথ যখন যুবক ও পরিণত হচ্ছেন তখন তাঁর বৈশিষ্ট্য বোঝাতে শান্তিময় চট্টোপাধ্যায় বলেছেন – “The family background explains much in S N Bose’s character – his urbanity and innate sophistication, his love of art and literature, his love for perfection, his liberal and open mind, his originality, a sense of family loyalty and national pride. Unlike many of his eminent predecessors and contemporaries, Satyendranath was city bred.” (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, ১৯৯৪, পৃঃ ৯)
চিরকালের অত্যন্ত কৃতবিদ্য ছাত্র, যাঁর চোখের পাওয়ার মাইনাস ১৪, সত্যেন্দ্রনাথ ১৯০৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পঞ্চম হয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হলেন। প্রফুল্লচন্দ্র তাঁর আত্মজীবনী-তে লিখছেন – “সেই স্মরণীয় বছরে এমন একদল মেধাবী ছাত্র প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হয় যারা ভবিষ্যতে গবেষণার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল।” এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, সত্যেন্দরনাথের পিতৃদেবের পড়ার বিস্তৃত পরিধির মধ্যে মার্ক্সবাদের পুস্তকও ছিল। (চট্টোপাধ্যায় ও চট্টোপাধায়, সত্যেন্দ্রনাথ বোস)
আমরা লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছি ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব কিরকম গভীরভাবেভাবে বাংলার মানসিক, বৌদ্ধিক, রাজনৈতিক এবং বোধের জগতকে প্রভাবিত করেছিল। উল্লেখ করেছি যে এর প্রভাব তখন কিশোর সত্যেন্দ্রর মনে কি গভীর ছাপ ফেলেছিল। বাংলায় এসময় তরুণদের মধ্যে স্বাধীনতার আগুন আগুন জ্বলে ওঠে। বহুসংখ্যক সশত্র গুপ্ত সমিতি তৈরি হয়। এরকম একটি সমিতি হল অনুশীলন সমিতি। “সত্যেন্দ্রনাথ ও তাঁর বন্ধু জীবনতারা হালদার এইসব গুপ্ত সমিতির ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ এইরকম একটি সমিতি পরিচালিত নৈশ স্কুলে পড়াতেন। স্কুলটির নাম ছিল ওয়ার্কিং মেনস ইন্সটিটিউট – এখানে শ্রমিকদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাদান করা হত।” (সত্যেন্দ্রনাথ, পৃঃ ২৩)
“Some of the others to join Presidency College in 1909 were Maniklal De, Jnanchandra Ghosh (who came from Giridih), Jnanendranath Mukherjee (who came from Bardhaman), Nikhilranjan Sen, Pulinbehari Sarkar and Amaresh Chakrabarty. 1909 was a remarkable year – it was the year ofthe Alipore Bomb Case. The political atmospbexe was highly charged. A year ago the first bomb had been thrown at Muzaffarpur at a British official. Khudiram was caught and hanged. Overnight he became a martyr and a darling of the people.” (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, ১৯৯৪, পৃঃ ১৩)
প্রথম শ্রেণীতে প্রথম এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে রেকর্ড মার্কস পেয়ে পাস করা যুবক ১৯১৬ সালে সেসময় সদ্যগঠিত বিজ্ঞান কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সঙ্গী অধ্যাপক ছিলেন সারাজীবনের বন্ধু দ্বিতীয় স্থানাধিকারী মেঘনাদ সাহা। (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২০)।
(এমএসসি পরীক্ষায় সত্যেন্দ্রনাথের রেকর্ড নম্বর পাওয়া মার্কশিটের প্রতিলিপি)
প্রসঙ্গত বলা ভালো, সত্যেন্দ্রনাথ একাধারে ফিজিক্স, অংক, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, দর্শন, খনিবিদ্যা, সাহিত্য, সঙ্গীত ও শিল্পকলায় আগ্রহী ও ব্যুপত্তিসম্পন্ন মানুষ। আবার নিজে ভালো বেহালাবাদক ছিলেন। সেসময় কলকাতায় যেসব সাহিত্য আড্ডা বসতো তার অনেকগুলোরই তিনি নিয়মিত সদস্য ছিলেন। নিজের চেষ্টায় সহজাত দক্ষতায় ফরাসী এবং জার্মান ভাষা শিখেছিলেন।
শিবপুর বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে এসময়ে (১৯১০-এর দশকে) এক জার্মান অধ্যাপক ছিলেন – পি জে ব্রুল। তিনি সত্যেন্দ্রনাথ ও মেঘনাদকে জার্মান ভাষায় লেখা ফিজিক্সের অনেকগুলো বই দেন। এর মধ্যে কয়েকটি স্বয়ং ম্যাক্স প্ল্যাংকের (পদার্থবিদ্যায় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের স্রষ্টা) লেখা বই ছিল। দুজনেই জার্মান ভাষা ভালভাবে জানতেন বলে সাবজেক্ট অনুযায়ী বইগুলো ভাগ করে নিলেন। মেঘনাদের ভাগে পড়লো থার্মোডায়ানামিক্স এবং স্ট্যাটিস্টিক্যাল মেকানিক্স। আর সত্যেনের ভাগে ইলেকট্রোম্যাগনেটিজম এবং থিওরি অফ রেলাটিভিটি। (সত্যেন্দ্রনাথ, পৃঃ ৩২)
১৯১৮ সালে সত্যেন্দ্রনাথের প্রথম গবেষণাপত্র (মেঘনাদ সাহার সাথে যৌথভাবে লেখা) “’On the Influence of the Finite Volume of Molecules on the Equation of State”, প্রকাশিত হয়েছিল Phil. Mag. (Ser. 6, 36, 199-203)-এ. “The equation of state proposed in the paper is generally known as the ‘Saha-Bose equation of state’. (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩১১)।
সত্যেনের নিজস্ব ৩য় আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র – “On the Deduction of Rydberg’s Law from the Quantum Theory of Spectral Emission’” – আবার প্রকাশিত হল Philosophical Magazine-এ (40, 619-27)। ১৯২১-এ জাপান যাবার পথে আইন্সটাইন খবর পান তিনি সেবছরের নোবেল প্রাইজ পাচ্ছেন।
১৯২৪ সালে Pauli দেখিয়েছিলেন যে মুক্ত ইলেক্ট্রন এবং বিকীরণ (রেডিয়েশন) উভয়য়েই থার্মাল ইক্যুইলিব্রিয়ামে থাকতে পারে (প্ল্যাঙ্কের ল অনুযায়ী)। Zeitschrift fur Physik-এ (সেসময়ের তাত্ত্বিক ফিজিক্সের সবচেয়ে বিখ্যাত জার্নাল) প্রকাশিত হল (১৯২৩-এ) পলি, আইন্সটাইন এবং Ehrenfest-এর পেপার। ১৯২৩-এই মেঘনাদ সাহা ঢাকায় আসেন। সত্যেন্দ্র সেসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক। সাহা এই পেপারগুলো প্রতি সত্যেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সালটি ১৯২৪।
এই পেপারগুলোর নতুনতর গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি লিখলেন যুগান্তকারী সেই পেপার “Planck’s Law and the Light-Quantum Hypothesis” এবং Philosophical Magazine-এ প্রকাশের জন্য। প্রকাশিত হলনা। ১৯২৪-এর ৪ জুন একটি চিঠি সহ এই পেপারটি পাঠালেন স্বয়ং আইনস্টাইনের কাছে, যাতে পেপারটি Zeitschrift fur Physik-এ প্রকাশিত হয়। ১৫ জুন, ১৯২৪-এ আরেকটি পেপার “Thermal Equilibrium in the Radiation Field in the Presence of Matter” পাঠালেন আইন্সটাইনকে। প্রথম পেপারটি নিজে জার্মানে অনুবাদ করে আইন্সটাইন পূর্বোক্ত জার্নালে পাঠালেন প্রকাশের জন্য। এবং সত্যেন্দ্রকে আইনস্টাইন ব্যক্তিগত চিঠিতে লিখলেন – “signifies an important step forward and I liked it very much . . . You are the first to derive the factor quantum theoretically, even though because of the polarization factor 2 not wholly rigorously. It is a beautiful step forward.”
(জার্মানে সত্যেন্দ্রকে লেখা আইন্সটাইনের চিঠি)
পূর্বোক্ত চিঠিটির একটি টাইপ করা চিঠিও আইন্সটাইন সত্যেন বসুকে পাঠীয়েছীলেণ।
বোসের ২য় পেপারও আইন্সটাইনের জার্মান অনুবাদে Zeitschrift fur Physik-এর সেপ্টেম্বর, ১৯২৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। আইনস্টাইন ভিয়েনায় প্রুশিয়ান অ্যাকাডেমির কনফারেন্সে প্রথম “Bose’s counting method” নিয়ে নিজের পেপার পাঠ করেন। (আমি এসমস্ত তথ্যের জন্য ঋণী (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, গ্রন্থের কাছে)
এরপরে অক্টোবর, ১৯২৪-এ বোসের বিদেশ তথা প্যারিস যাত্রা। সিলভাঁ লেভির সূত্রে পরিচয় হল বিশ্বখ্যাত ফরাসী পদার্থবিদ পল ল্যাঞ্জেভিনের সাথে। ল্যাঞ্জেভিন প্যারিসের বিখ্যাত ল্যাবরেটরি Maurice de Broglie-তে এক্স-রে স্পেক্ট্রোস্কোপি শেখার সুযোগ করে দেন।
এরপরে বোসের আইন্সটাইন সহ অন্য বিজ্ঞানীদের সাথে পরিচয় এবং আলাপচারিতা হয়। পরবর্তীতে তিনি লিখছেন _ “was very friendly with Franck, Einstein, Born, Ewald, Szilard and Mark”। এখানে উল্লেখিত বিজ্ঞানীদের নামগুলো শুধু খেয়াল করুন – সেসময় পদার্থবিদ্যার দুনিয়া যাঁরা তাত্ত্বিকভাবে ওলটপালট করে দিচ্ছিলেন সেসব বিজ্ঞানীরা। বার্লিনের ল্যাবরেটরিতে এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফির পাঠ নিলেন। ১৯২৬-এ পল ডিরাকের মতো বিজ্ঞানী সংযুক্ত করলেন “Bose and Fermi statistics of particles to the symmetry properties of their wave functions and names them ‘bosons’ and ‘fermions’.” (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩১৩)
(নীলস বোরের সাথে সত্যেন্দ্রনাথ)
“Bose applies for a Professor’s post at Dhaka University, with recommendations from Einstein, Langevin, and Mark. Later in the year, he returns to Dhaka, and is appointed Professor and Head of the Department of Physics, when D M Bose, the original appointee, declines the offer. In his Dhaka years, he reorganizes the Physics Department, developing special facilities for research work in X-ray spectroscopy, X-ray diffraction, magnetic properties of matter, optical spectroscopy including Raman spectra, wireless etc.” (পূর্বোক্ত)
১৯৩১ সালে পরিচয় পত্রিকায় প্রকাশিত হল তাঁর বাংলায় লেখা প্রবন্ধ “বিজ্ঞানের সংকট”। ১৯৩৭ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বিজ্ঞানের ওপরে প্রথম পুস্তক বিশ্ব পরিচয় উৎসর্গ করলেন বোসকে। কি বিচিত্র এবং দুর্ভাগ্যজনক গতিতে জীবন এগোয়। বোসের সংখ্যায়ন এবং আরও অন্যান্য বিষয়ে নতুন পথে গবেষণা করে যখন ডিরাক, পাউলি সহ একের পর এক বিজ্ঞানী যখন নোবেল প্রাইজ পাচ্ছেন সেসময়ে বোস ভারতে Agricultural Research Sub-committee of the Indian Central Jute Committee-র মনোনীত সদস্য হচ্ছেন কিংবা Weights and Measures Committee, Government of Bengal-এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন।
১৯৪৮ সালে, হয়তো বা হত-মনোরথ, সত্যেন্দ্রনাথ বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ-এর জন্ম দিলেন। ১৯৫১ সালে “As a Special Representative from India, Bose attends a meeting, sponsored by the UNESCO, at Paris, to consider the establishment of an international statistical centre. He visits Germany and meets Walther Bothe, Otto Haxel, J H D Jenson and H Meier Leibnitz in Heidelberg, and Otto Hahn, Werner Heisenberg and Houtermans in Gottingen.” (S N Bose: The Man and His Work, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৩১৭)
রাশিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গেলেও তাঁর কখনো আমেরিকা যাওয়া হয়ে ওঠেনি। এই নিয়ে এক মার্কিন লেখক তাঁকে প্রশ্ন করলে তিনি পরিহাসছলে বলেন – “আপনাদের সেনেটর ম্যাকার্থি হয়ত আপত্তি করতেন। আমি আগেই সোভিয়েত রাশিয়া ঘুরে এসেছি যে।” (চট্টোপাধ্যায় ও চট্টোপাধায়, সত্যেন্দ্রনাথ বোস, ১৯৫৮, পৃঃ ৭৪-৭৫) রসিকতার ছলে বললেও বোসের মানসিকতা এই উক্তিতে ধরা পড়ে।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার যে অপচয় ঘটছে সত্যেন্দ্রনাথ এ সম্পর্কে অবহিত। মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ধারাকে প্রতিষ্ঠা করা তাঁর শেষ জীবনের আরব্ধ কর্মের একটি ছিল – “শিক্ষক ছাত্রের মধ্যে সরাসরি ভাবের আদান-প্রদান দরকার। এই আদান-প্রদানের পথে ভাষার অন্তরায় না থাকাই বাঞ্ছনীয় … স্নাতকোত্তর পর্যায়েও শিক্ষার মাধ্যম মাতৃভাষা করে দেওয়া উচিত।” (পূর্বোক্ত, পৃঃ ৯৪)
তাঁর মৃত্যুর পরে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর মতো পত্রিকায় বড়ো করে মৃত্যুর খবর ছাপা হয়েছিল – ফেব্রুয়ারি ৬, ১৯৭৪, পৃঃ ৪০)
সেখানে লেখা হয়েছিল – “CALCUTTA, India, Feb. 5 (AP) — Satyendranath Bose, theoretical physicist who influenced the work of Albert Einstein, died yesterday at the age of 80.
Prime Minister Indira Gandhi led the nation in mourning the man named in 1958 a “national professor,” belonging to no single institution or state, because of the international acclaim his work won for the country.
A Paper Proves Catalyst
Professor Bose, a graduate of Calcutta University, was working in Europe in 1924 in the field of atomic theory in which Max Planck, Albert Einstein, Ernest Rutherford and Niels Bohr were pioneering.
In a short paper entitled “Planck’s Law and the Hypothesis of Light Quanta,” Bose ventured the idea that radiation could be considered as a form of gas consisting of photons. He sent a copy to Albert Einstein at the University of Berlin.”
এরপরে আরও বলা হয়েছিল – “According to Ronald W. Clark in “Einstein: The Life and Times” (1965), “Einstein was so impressed by the paper that he himself translated it into German and sent it to the editor of the ‘Zeitschrift für Physik,’ who published it that July.”
Einstein had seen immediately, according to Mr. Clark, that the statistical methods worked out by Bose could be extended to ordinary atoms under an assumption being developed concurrently by Louis de Broglie—that material particles had the simultaneous wave and particulate properties that Einstein himself had also assumed many years earlier.
Wave Mechanics Emerges
Einstein delivered two papers on what he called “Bose‐Einstein statistics” before the Prussian Academy of Science. The second of these papers stimulated the thinking of the Viennese physicist Erwin Schrödiner, who proceeded in the next four months to erect, in Mr. Clark’s words, “the basic structure of what became known as wave mechanics.”
Thus Bose participated in the significant interchange of ideas and insights that moved the understanding of physics ahead in this period. A few years ago he said of Einstein:
“His quick and immediate response … proved ultimately to be the turning point in my career as a scientist.”
Upon his return to India, Bose became head of the physics department at the University of Dacca. In 1946 he was invited to fill the physics chair at the University of Calcutta, where he remained until 1956. In 1958 he was elected a fellow of Britain’s Royal Society.” (নিউ ইয়র্ক টাইমস, ফেব্রুয়ারি ৬, ১৯৭৪, পৃঃ ৪০)















