১৯.০৯.২৫ সকালে শিয়ালদহ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে চেপে আমি, ডাঃ শুক্লা কুন্ডু, পিয়ালী দাস ও পৌষালী গোস্বামী অভয়া মঞ্চের পক্ষ থেকে রামপুরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দিই, গত কয়েকদিন আগে নারকীয় অত্যাচারে খুন হয়ে যাওয়া বারমেসিয়া গ্রামের ১৩ বছরের শিশু কন্যার বাড়ি যাবার উদ্দেশ্যে।
স্থানীয় কয়েকজন মানুষের নিঃস্বার্থ সহযোগিতায় আমরা বেলা ১২টা নাগাদ সেখানে পৌঁছে যাই। শোকে বিহ্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়া মা, তাঁর স্বামী ও প্রথম কনয়ার বর সহ পাড়া প্রতিবেশী অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মায়ের শরীর খারাপ। পরীক্ষায় দেখা যায় বেশ ভাল ডিহাইড্রেশন রয়েছে। একমাত্র ORSই খাচ্ছেন। তাও যৎসামান্য। আরও বেশি ORS খাওয়ানোর পরামর্শ দেবার পাশাপাশি আমরা সংহতি জানালাম, বার্তা দিলাম পাশে থাকার।
তাঁরা ওর সর্বশেষ পরীক্ষার মার্ক্সশিট দেখালেন। ভালো ভালো নম্বর। এখন সব স্বপ্ন শেষ।
তবে কয়েকটি প্রশ্নে উত্তর এখনও অমিল।
- আসামীকে ১লা আগষ্ট ধরার পরেও ৪ঠা আগস্ট পুলিশ ছেড়ে দিয়েছিল কেন?
- কে বা কারা তাকে ছাড়াতে গিয়েছিলো?
- এ শিক্ষকের মানসিক বিকৃতির প্রমাণ এর আগেও একাধিকবার পেলেও বিদ্যালয় প্রশাসন নীরব ছিল কেন? কারও হাত নাকি এসব দেখভালের ব্যবস্থাই উঠে গেছে?
গভীর শোকাতুর পরিবেশ থেকে আমরা গেলাম সেই অভিশপ্ত খালের ধারে, অকুস্থলে, যেখান থেকে তার নিথর শরীর তুলে আনা হয়েছিল, যদিও সে শবদেহের নিম্নাংশ এখনও পাওয়া যায়নি।
তারপর হল অনেক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। দুপাশে খাদান থেকে তোলা পাথরের পাহাড়, পশ্চিম বাংলার প্রভাব শালীদের প্রতিপত্তি বাড়ানোর অপেক্ষায় দিন গুনছে যেন। তার মাঝ দিয়ে ওর বিদ্যালয়ে যাবার পথে শোনা গেল দু দশক আগে এই তাম্বুনি বিদ্যালয়ের প্রভূত সুনাম ছিল। গিয়ে দেখি জরাজীর্ণ অবস্থা। শুধু ও নয় বিদ্যালয়ও যেন ধর্ষিত।
আর তার পাশে হাই রোডের দখল নিয়েছে অগণিত আদিবাসী যুবক। আধুনিক জিন্স থেকে আদুল গা সকলেই সেই দলে। সুবিচার না পেলে তারা পাথর পাচারও আর হতে দেবে না। তাই পাথর ভর্তি লরির সারি, তার পাশে অপেক্ষমান পুলিশের বড় মেজ সেজরা সঙ্গে রেফ্।
আদিবাসীদের সংঘবদ্ধ দেখে রক্ত চাপ কর্তাদের উর্ধমুখী তা মুখ দেখলেই বোঝা যায়। অগত্যা ধৈর্য্য এবং আরও এক সুধার মাধুর্যে তারা নির্ভরশীল। ম ম করা গন্ধ আরো বিস্তারের আশায়, হয়তো বা তারাই যোগানদার। এ রাজ্যে পুলিশ পারে না এমন তো কিছুই নেই।
সকাল থেকে অনেক সতর্কিত হওয়ায় অনেক কুন্ঠা নিয়ে আমরা কজন যখন ওদের সামনে এগিয়ে গেলাম তখন ওই ভিড়ের মাঝে ওদের নেতাদের কোনো সভা চলছে। অভয়া মঞ্চ ও নিজেদের অন্য পরিচয় দেওয়ায় অবলীলায় নেতাদের সামনে সাদরে বসা গেল। বলা গেল অনেক কথা। আমরা শুনলাম ওদের ক্ষোভ। ওই প্রশ্নগুলোও ওদেরই। বহু জনের সাথে, তাদেরই অনুরোধে হল ফোন নং দেওয়া নেওয়া। আমরা সংহতি জানালাম। ওনারা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হলেই খবর করতে বললেন।
সব ক্ষেপা নদ ক্ষোভের সমুদ্রে মিশে যাক। সুবিচার আমাদের আনতেই হবে। বন্ধ করতেই হবে এই অনাচার।
ডা পবিত্র গোস্বামীর রিপোর্ট











