
খবরটা পড়ে রীতিমতো চমকে উঠলাম — তীব্র খাদ্য সংকটের কারণে আফগানিস্তানের অভিভাবকরা তাঁদের কিশোরী , তরুণী, যুবতী কন্যাদের বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। মানবিকতার কি নিদারুণ অবমাননা! স্ট্র্যাটেজিক অবস্থানের কারণে এই দেশটি বহুদিন ধরেই দুনিয়ার বৃহৎ শক্তিগুলোর হাতের পুতুল হয়ে থেকেছে। এরফলে আফগান জনগণ কখনোই এক নিশ্চিত নিরাপদ শান্তিপূর্ণ জীবনের আস্বাদ পায়নি। আত্মক্ষয়ী গোষ্ঠী সংঘর্ষের সাথে সাথে যুক্ত হয়েছে এলাকা দখলের ঘৃণ্য রাজনীতি। শাস্ত্রের শাসনের পরিবর্তে কায়েম হয়েছে শস্ত্রের শাসন, সাধারণ মানুষের জীবন যাপনের মৌলিক সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। এই অপশাসনের পরিণতিতে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা, ভয়াবহ খাদ্য সংকট, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের চরম অবনতি। মনে রাখতে হবে,এসবই রাষ্ট্রীয় অস্থিরতার ফল। ২০২১ সালে তালিবানদের নেতৃত্বে ক্ষমতা দখলের পর দেশ জুড়ে এক কঠিন কঠোর ইসলামি দর্শন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এই রাজত্বে নারীদের বঞ্চিত করা হয়েছে সমস্ত রকমের নাগরিক সুবিধা থেকে, কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাঁদের সমস্ত নাগরিক অধিকার, রুদ্ধ হয়েছে বিকাশের পথ, বাধ্য করা হয়েছে অন্ধকারে ঢাকা এক পর্দানশীন জীবন যাপনে। মালালা ইউসুফজাইয়ের কথা স্মরণ করলেই গোটা পরিস্থিতির সম্যক ধারণা লাভ করা সম্ভব হবে। আজকের অভাবী আফগানিস্তান এসবের মিলিত হল।
দা ইউনাইটেড নেশনস এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে আফগানিস্তানের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন নিজেদের দৈনন্দিন ন্যূনতম চাহিদা পরিপূরণে সম্পূর্ণভাবে অপারগ। দেশজোড়া ভয়ানক কর্মহীনতা, চূড়ান্তভাবে অবহেলিত গণস্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা , হ্রাসমান বৈদেশিক সাহায্য দেশের আর্থসামাজিক ব্যবস্থাকে এক গভীর খাদে ফেলে দিয়েছে। দেশের একটা বড়ো অংশের সাধারণ মানুষ এই মুহূর্তে দুর্ভিক্ষের প্রহর গুনছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্থানের ঘোর প্রদেশের অবস্থা সবচেয়ে কঠিন। পরিবারের কর্তাদের কাছে কোনো কাজ নেই। রোজগার করতে না পারলে সাংসারিক চাহিদাগুলো কীভাবে পরিপূরণ করবে তাঁরা? নিজেদের খিদের জ্বালা মেটাতে না পেরে আজ তাঁরা বাধ্য হচ্ছে নিজেদের সন্তানদের বিক্রি করে দিতে। এ এক ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে কন্যা সন্তানদের ঠেলে দিতে বাধ্য হচ্ছে তাঁরা।
আব্দুল এই মুহূর্তের আফগানিস্তানের বাস্তব পরিস্থিতির প্রতীক। আব্দুলের মতো মানুষের সংখ্যা আজ প্রতিদিন বাড়ছে, বাড়ছে অসহায় মানুষের বুক ফাটা আর্তনাদ। আব্দুল চাইছে কেউ তাদের মেয়েদের বিয়ে করে নিয়ে যাক্ অথবা গৃহস্থালি কাজে লাগাক। কিন্তু বাস্তবে অবস্থাটা কতটা আশঙ্কার তা আব্দুল রশিদ আজমি জানেন। তবে সব জেনেশুনেও তাঁকে মুখবুজে সবকিছু মেনে নিতে হচ্ছে।
আজকের আফগানিস্তান মানবিকতার বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। আব্দুলরা জানেন না ঠিক কোথায় দাবি জানালে তাঁদের এই অবস্থার পরিবর্তন হবে। শেষ কবে পেটভরে সপরিবারে খাবার খেতে পেয়েছে তা ঠিকঠাক মনে করতে পারেন না ওঁরা।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, টাইমস্ অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন।
মে ২২. ২০২৬












রহমতের দেশের এই মর্মস্পর্শী কহিনি আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। কোন দিকে যাচ্ছি আমরা?
আগামী পৃথিবী এক ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। যে মানবিকতায় ভর করে আমরা আরও সুন্দর পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখি তাই যে আজ বিপন্ন। অশনি সংকেত।
ভয়ঙ্কর অবস্থা ! এতগুলি সভ্য দেশ থাকতে একটি দেশের লোক না খেয়ে থাকছে! আশ্চর্য লাগছে।
রহমতের সঙ্গে আলাপ হওয়ার সময় থেকেই দেশটির প্রতি একটা টান অনুভব করি।হয়ত সেটা রহমতের ঝুলি বা আবদুর রহমানের পাগড়ির রহস্যময়তার কারণে ।
সভ্য বলে দাবি করার মতো অবস্থা কি আর আমাদের আছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে আমাদের সকলকেই।
সভ্য বলে দাবি করা আর বোধহয় আর সাজেনা। আমাদের সংবেদনশীল মনটাই ক্রমশ সভ্যতার (?) গোলকধাঁধায় বাঁধা পড়ে যাচ্ছে।
রহমতের দেশের এই করুন কাহিনী পড়ে মনটা শুধুই ভারাক্রান্ত হয়ে। জানিনা কবে মানুষের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে। দেশগুলো যুদ্ধ বিগ্ৰহ ও ধ্বংসের রাজনীতি র পথ ছেড়ে আবার সুস্থভাবে বাঁচার কথা ভাববে।😉😓😓
আমাদের দেশি প্রবাদ – রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়/ উলুখাগড়ার পরাণ যায়। যুদ্ধ বিদ্ধস্ত রহমতের দেশের এমন পরিণতি চোখের কোল জলে ভিজিয়ে দেয়। খালি সচেতন থাকাটাই আমাদের ভবিতব্য হয়তো।
কি আর বলবো? এভাবেই দুর্বল মানুষের শোষণ চলছে বিশ্বজুড়ে। আমাদের নিজের দেশেরই বা কি অবস্থা? এক এক করে মন্ত্রীরা যাচ্ছে জেলে? কারা চালায় আমাদের দেশ? দুর্নীতিবাজ সব মন্ত্রীরা। কারো ওপর আর ভরষা থাকে না। আর কিই বা কামনা করতে পারি? কাবুলিওয়ালার দেশ স্বনির্ভর হোক। জাগ্রত হোক বোধ সারা পৃথিবীর নেতৃত্বদের। লেখাটি খুব ভালো লাগলো। পৃথিবীর এক কোনায় একটি মানুষও যে ভালো কথা বলছে, সেই তো অনেক ভালো।
কাবুলিওয়ালার দেশ এখন গভীর সমস্যার জটিল জটে আটকে আছে । এর থেকে মুক্ত হওয়া মোটেই সহজ নয়। তবে আশাবাদী হতে তো কোনো বাধা নেই।