নতুন সরকারকে স্বাগত। পুরোনো সরকারের নিরন্তর সমালোচনা করেছি। সে আমলের অপরিসীম দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন তাকেও স্বাগত। মানুষের প্রত্যাশা তেমনই।
কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেসব আপাতত থাক। একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার একটা গভীর সংশয় হয়েছে। সেটা একটু বলি।
মুখ্যমন্ত্রী দেখলাম বলছেন যে অনুপ্রবেশকারী বলে কেউ চিহ্নিত হলেই তাকে কোর্টে না পাঠিয়ে সোজা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন হল অনুপ্রবেশকারী বলে এক লহমায় চিনে ফেলা যাবে কী করে। ধরা যাক পথে ঘাটে কিংবা রেলস্টেশনে পুলিশের কাউকে অনুপ্রবেশকারী মনে হল। কিন্তু মনে হওয়াটাই সব নয়। অভিযুক্তকে এ দেশের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু তিনি কোন কাগজ দেখিয়ে চটজলদি প্রমাণ করবেন? কোন কোন কাগজ বৈধ? অর্থাৎ যে কোনো মানুষ, তিনি যেখানেই যান কোন কোন কাগজ সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হবে?
আবার এই কাগজ থাকলেই হবে না। সেখানে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির সমস্যা আছে কি না সেটাও নিশ্চয়ই তৎক্ষণাৎ দেখা হবে। কারণ এই কারণেই তো এই বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারেন নি ভোটের আগে।
এখন কথা হল এই মানুষগুলোর এত মাসেও যাদের নাগরিকত্ব প্রমানিত হল না, শুনছি নাকি কয়েক বছর লাগবে ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হতে, তাহলে এদের এই মুহূর্তে কী হবে? আর আমজনতার কাউকে পুলিশ যদি অনুপ্রবেশকারী বলে সন্দেহ করে তৎক্ষণাৎ সে কীভাবে নাগরিকত্ব প্রমাণ করবে যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিগত কয়েক মাসেও বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও ডিসক্রেপেন্সির গেরোতে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারেননি? আর পুলিশতো তাকে আদালতে তুলবে না, সোজা বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। আর সেখান থেকে বাংলাদেশে। তাহলে?









