গত নয়ই অগাস্ট আর জি কর হাসপাতালে ঘটা ন্যক্কারজনক ঘটনা যখন সারা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং সারা দেশ অপরাধীদের বিচারের দাবিতে সরব সেই চুড়ান্ত দু:সময়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত হচ্ছে সঙ্গীতানুষ্ঠান। আর জি কর হাসপাতালে নির্যাতিতা নিহত মেয়েটি সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ধর্ষিত ও খুন হয়েছেন। অতএব তিনি সরকারি হেফাজতে থাকাকালীন খুন হয়েছেন। এই ঘটনার দায় প্রশাসনের ওপরেই পরে।
এইরকম শোকের ও ক্রোধের আবহে সেই সরকার ও প্রশাসনের উদ্যোগে জলপাইগুড়ি সরোজেন্দ্র দেব রায়কত কলাকেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছে গানের জলসা। এই কি আনন্দানুষ্ঠান আয়োজনের সময়? জলপাইগুড়ির কতিপয় সংস্কৃতি জগতের ও শিক্ষা জগতের মানুষ ডাক দেন প্রতিবাদের।
নির্ধারিত হয় সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ভাবে শান্তিপূর্ণ মৌন প্রতিবাদ কলাকেন্দ্রের সামনের রাস্তায় করা হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা একত্রিত হই। মাত্র ৮ জন মানুষ পোস্টার নিয়ে রাস্তায় মৌন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি। কিন্তু বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ মাত্র মিনিট দুয়েকের মধ্যে সবাইকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে। আমরা জিজ্ঞেস করি আমরা বেআইনী কোন কাজ করেছি কি? ১৪৪ ধারা জারি নেই, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মৌন প্রতিবাদ করার নাগরিক অধিকার কি আমাদের নেই? পুলিশ অত্যন্ত অসম্মানজনক স্বরে বলে “প্রতিবাদ করতে হলে মনসা পুজোর মেলায় করুন, এখানে সরকারি অনুষ্ঠান প্রতিবাদ করার জায়গা নয়।” আমাদের দু’ঘন্টা থানায় আটকে রাখা হয়। কোন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সংবাদ মাধ্যমে জানাজানি হওয়ায় আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক করা।হয়েছিল বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সঙ্গীত শিল্পী, নাট্যাকর্মী, সরকারি অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক। সঙ্গে দুজন মহিলা ও দুজন সিনিয়র সিটিজেন ছিলেন।
আমদের জিজ্ঞাসা আর জি কর কান্ডের বিচার চেয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী একদিন আগে পথে নেমেছিলেন। আমরা সেই একই দাবিতে মৌন প্রতিবাদ করতে চেয়েছিলাম তাহলে আমাদের কেন পুলিশি হেনস্থার শিকার হতে হল? তাহলে কি আমাদের প্রশ্ন সরকারকে বিব্রত করেছে? যদি করে থাকে তাহলে কেন?









