আজ সকালে দেখলাম, দেয়ালের গায়ে সাদা চুন গড়িয়ে পড়ছে ফোঁটা ফোঁটা। যে মুখটা এতদিন এই দেয়াল থেকে তাকিয়ে ছিল, যার চারপাশে লেখা ছিল “Peace”, “Paix”, “Paz”— শান্তির ভাষা তিনটি দেশের হরফে একসাথে— আজ তার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে চুনের ধারা। নিচে কোনায় এখনো পড়া যায় নামটা— চিত্তপ্রসাদ।

চিত্তপ্রসাদ ভট্টাচার্য (১৯১৫-১৯৭৮)— নৈহাটির ছেলে, ব্রাহ্মণ্য পদবি কখনো ব্যবহার করেননি, প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষাও নেননি। তেলরঙ ছেড়ে জলরং আর প্রিন্টমেকিং বেছে নিয়েছিলেন, কারণ সেটাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর ভাষা ছিল। ১৯৪৩-এর মন্বন্তরে ক্ষুধার্ত বাংলার যে ছবি তিনি এঁকেছিলেন, তা থেকেই “হাংরি বেঙ্গল” বই— ব্রিটিশ সরকার যেটা বাজেয়াপ্ত করে পুড়িয়ে দিয়েছিল। আজ সেই একমাত্র অবশিষ্ট কপিটাই তাঁর সবচেয়ে মূল্যবান দলিল।
দেশে তাঁর কাজ নিয়ে দিল্লি আর্ট গ্যালারি দিল্লি-মুম্বাই-কলকাতায় বিস্তৃত রেট্রোস্পেক্টিভ করেছে। বিদেশে ১৯৫৫-তে নিউ ইয়র্কের ইন্ডিয়া হাউসে, ১৯৫৬-তে প্রাগে একক প্রদর্শনী, তারপর ডেনমার্ক-হল্যান্ড-জার্মানিতে তাঁর কাজ পৌঁছেছে। ২০১৭-তে কাসেলের বিখ্যাত documenta 14-তে তাঁর স্কেচ স্থান পায়, আর ২০১৮-তে নিউ ইয়র্কে হয় ভারতের বাইরে তাঁর প্রথম বড় একক রেট্রোস্পেক্টিভ।
যে শিল্পী সারাজীবন প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কারের তোয়াক্কা করেননি, মৃত্যুর দশকগুলো পরে বিশ্ব যাঁকে খুঁজে নিয়েছে— তাঁর মুখ চুনে ঢেকে দিলে ইতিহাস মুছে যায় না। চুন শুকিয়ে যাবে, রং খসে পড়বে— কিন্তু যে সত্যকে ধরে রাখতে এই মুখ আঁকা হয়েছিল, তা আবার ফিরে আসবে।











