আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের খুন ও তার অভিঘাতে জন্ম নেওয়া অভয়া আন্দোলনের ফলে এই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে — সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নির্বাচনের ফলাফলে অন্যতম নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে, এটা এখন এই রাজ্যের শাসকদলের মন্ত্রীরাও স্বীকার করেন। এবং যাঁরা এই শাসকদলকে নির্বাচিত করেছেন তাঁদের অনেকেই আশা করেছিলেন যে এই রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটবে ও সরকার মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
কিন্তু বাস্তবে সম্পূর্ণই অন্যরকম পরিস্থিতি এই রাজ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।পরের পর বিভিন্ন জায়গায় মেয়েদের ওপরে নির্যাতন বেড়েছে, পাশাপাশি সংখ্যালঘু পরিবারের ও নিম্নবর্গের মানুষের ওপরে শাসকদলের প্রশ্রয়পুষ্ট দুষ্কৃতীদের আক্রমণ অসহনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে।
যদিও আমরা সন্দিহান ছিলাম, যে রাজনৈতিক দল মনুবাদী পুরুষতান্ত্রিক ও বর্ণবাদী, সেই আদর্শের দ্বারা পরিচালিত কোনো সরকার সামগ্রিকভাবে মহিলাদের অধিকার নিরাপত্তা তথা নারীমুক্তি বিষয়ে উদার হতে পারে কিনা — এবং আমাদের আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তা সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।
এই ঘটনাপ্রবাহে সাম্প্রতিকতম সংযোজন ঝাড়গ্রামে শিলদা অঞ্চলে এক আদিবাসী মেয়েকে ধর্ষণ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, একটি আদিবাসী মেয়ের ওপরে শারীরিক নির্যাতন করেছে শাসকদলের কর্মী। এবং এসব ক্ষেত্রে বিগত সরকারের আমলে যা দেখা যেত অর্থাৎ অপরাধে জড়িত শাসকদলের দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের গড়িমসি, টালবাহানা — এখনও সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলিতেছে।
অভয়া মঞ্চ এর আগের ঘটনার সময়েও তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ঝাড়গ্রামের এই আদিবাসী তথা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মেয়ের ওপরে দুষ্কৃতীদের আক্রমণ আসলে আগ্রাসী পুরুষতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ, যা মেয়েদের ভয় দেখাতে চায়, সমাজের সর্বস্তরে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়।
অভয়া মঞ্চ এই ভয়ের রাজনীতি ও ক্ষমতার দুর্বিনীত ভাষা থেকে সমাজকে মুক্ত করতে চায়।
এই আদিবাসী মেয়েটিও এক অভয়া, তার ন্যায়বিচারের দাবিতে অভয়া মঞ্চ আন্দোলন গড়ে তুলতে দায়বদ্ধ।











