বড় অস্থির তুমি।
এভাবে চললে পরে কদিন পেরোলে ঠিক দেশদ্রোহী হবে।
শোনো, বলছি উপায় এই রোগ সারানোর,
পেয়াদারা ধরে ফেলে কবে,
ফেঁসে যাবে বেলহীন জেলের গরাদে,
প্রমাণ লাগে না কিছু আজ অপরাধে,
অভিযোগে বিঁধলেই হয় ।
তোমার জন্য মনে রোজ জমে ভয়,
বড় অস্থির তুমি,
নিয়ত বলছো হেঁকে ভুগছে জন্মভূমি ভেদাভেদ কালকূট বিষে,
এসো বলে দিই এত ছটফটেভাব নিরাময় হতে পারে কিসে।
প্রথমে বন্ধ করো চোখ।
দৃষ্টি আপদ বিষম, ঘটনা আপনি ফেলে দেখে,
তাছাড়া ফেক কি আসল, সেসবও দেখতে পারে ছেঁকে,
যদি শোনে ওদিকে প্রগতি,
সন্দেহ হেনে তার প্রতি
হাঁক পাড়ে আরে এ যে ঢালু, পথ ক্রমে নিচুপানে যায়,
অতীতে বদল হলে কিছু, দেখলেই ভীষণ চেঁচায়,
আরে বাবা শাসকের দেশ,
জল উঁচু নিচু তাঁর মতে,
অন্ধতা হলে অভ্যেস, অর্ধেক কেল্লাটি ফতে…
চোখ বোজা শেষ নয়, শুরু,
বাকি রয়ে গেছে আরো কাজ,
আশপাশ থেকে কান বেয়ে ঢুকবে যে নানান আওয়াজ,
ওই কারা দিলো হুংকার,
কারা যেন করে হাহাকার,
মারলো যে ঈশ্বর অজুহাত দিয়ে,
মরলো যে ঈশ্বর দোষারোপ নিয়ে,
খুনীর সে উল্লাস, লাশের অন্তশ্বাস চিৎকার হাহুতাশ
সব কান শোনে,
চোখ বোজা থাকলেও মন সাড়া দিতে পারে সেই আলোড়নে,
ওই শোনো, কোথাও ভাঙছে কারো বাড়ি ,
আদালত নয় দরকারি,
মামলার হয়নি শুনানি,
কানারাও পারে কানাকানি, সুতরাং সাধু সাবধান,
অন্ধ হওয়ার পরে করে দাও তুলো ঠুসে বন্ধ দুকান।
চোখ বোজা, কান বোজা,
যদি ভাবো নিরাপদ এইবারে,
একদম নয়।
অন্ধ বধিরদেরও জিভ বিদ্রোহী হতে পারে,
সত্যি বলতে ওই চোখ কান বোজা,
জিভ আটকানো থেকে অনেকই তা সোজা,
সুতরাং, জিভ ভারী করো,
মনে ঝড় বয়ে গেলে জিভ তবু থাক জড়সড়,
বোবার শত্রু নেই , কথাটা কী শোনোনি কখনো?
দৈবাৎ ফাঁক দিয়ে যদি দেখো শোনো,
সেটা যেন কদাচিৎ না আসে জিভে,
ঘটনা-প্রভাব যাক ভেতরেই নিভে,
সঠিক পায়ের তলা চেটে যাওয়াটাই হোক কাজ জিহ্বার..
ব্যাস! অবশেষে নিরাপদ হয়ে গেছে জীবন তোমার।
অন্ধ বধির মূক
হলে পাবে যত সুখ,
চোখ কান জিভ আজ দ্রোহের অস্ত্র ছাড়া কিছু নয় আর।
ভুলেও কোরো না এই তিন ব্যবহার।










