২৭ জানুয়ারি ২০২৫
অভয়া আন্দোলনের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে বিচারকরা বলেছিলেন প্রতিবাদীদের ওপর সরকার যেন কোনোরকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়।
অথচ আমরা দেখছি একের পর এক আক্রমণ নামিয়ে আনছে প্রশাসন।
মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে নিষিদ্ধ রিঙ্গার্স লেক্টেট সরবরাহের দুর্নীতি সামনে আসতেই দৃষ্টি ঘোরাতে কর্তব্যে গাফিলতির কথিত অভিযোগে সাসপেন্ড করা হলো ১৩ জন সিনিয়র ও জুনিয়র ডাক্তারকে। কোন মেডিকেল ক্যাম্পে রোগী দেখেছিলেন জুনিয়ার ডাক্তার ফ্রন্টের অন্যতম মুখ ডাক্তার আসফাকুল্লা নাইয়া। সংগঠকরা প্রচার পত্রে ডাক্তার আসফাকুল্লা নাইয়াকে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ এম এস বলে লেখে। নাইয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথনের এফ আই আর দাখিল করে তার গ্রামের বাড়িতে ৩০-৪০ জন পুলিশকে দিয়ে প্রেসক্রিপশন প্যাডের খোঁজে লন্ডভন্ড করা হয়। আন্দোলনের আরো একটি মুখ ডাক্তার কিঞ্জল নন্দ। সে চলচ্চিত্র অভিনেতাও বটে। অভিনয় করার সময় সে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছিল কিনা তা নিয়ে খোঁজ খবর শুরু করে মেডিকেল কাউন্সিল।
তারপর প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন আক্রমণ নেমে এল চারজন সিনিয়র সরকারি চিকিৎসকের ওপর। অধ্যাপক মানস গুমটা, অধ্যাপক উৎপল বন্দোপাধ্যায়, অধ্যাপক রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ডাক্তার সুবর্ণ গোস্বামীর বিরুদ্ধে মেডিকেল কাউন্সিলের অবৈধ রেজিস্টার মানস চক্রবর্তী এফ আই আর করলেন। তারা নাকি নিজের কাজে অনুপস্থিত থেকে মেডিকেল কাউন্সিলের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন।
দুর্নীতির আঁতুড় ঘর ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিল। মেডিকেল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার মানস চক্রবর্তী নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ২০১৯ এর পর থেকে পদ আঁকড়ে রেখেছেন। তার পর্যবেক্ষণে ২০২২ এ মেডিকেল কাউন্সিলে নির্বাচনের প্রহসন হয়েছে। অভয়া হত্যার ষড়যন্ত্রীরা বিভিন্নভাবে মেডিকেল কাউন্সিলে যুক্ত আছেন। অভয়া আন্দোলনকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য মানস চক্রবর্তী নিয়ম বহির্ভূতভাবে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লোক দেখানো ভাবে কেড়ে নিয়েছেন, থ্রেট কালচারের দুই নেতা অভীক দে এবং বিরুপাক্ষ বিশ্বাসকে কাউন্সিলের কাজকর্ম থেকে লোক দেখানো সরিয়েছেন। আন্দোলন একটু স্তিমিত হওয়ার পর আবার ফিরিয়ে এনেছেন দুই মূর্তিকে। আর সন্দীপ ঘোষ কে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ফেরত দেওয়ার জন্য বিচারসভা বসিয়েছেন সরকারি কমিটির তদন্তে দোষী সাব্যস্ত অভীক দে কে নিয়ে।
এসবের বিরুদ্ধে জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস আওয়াজ তুলে আসছে বহুদিন ধরে। তাই জয়েন্ট প্লাটফর্মের তিন নেতা এবং প্রতিবাদী অন্য এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মানস চক্রবর্তীর মিথ্যা অভিযোগ।
জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টরস রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দাবি জানায় মেডিকেল কাউন্সিল থেকে মানস চক্রবর্তীকে সরিয়ে দিন, অপসারণ করুন স্বাস্থ্য দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে।
সমস্যার কারণগুলিকে দূর না করে চিকিৎসকদের ওপর শাস্তির খাঁড়া নামিয়ে এনে সুবিধা হবে না। স্বাস্থ্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অভয়ার ন্যায় বিচারের দাবিতে চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলন জারি থাকবে।।
আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ বুধবার বেলা ৩ টায় ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিলের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনে শামিল হন।










