বাইপাসের কিনারে আমাদের কমপ্লেক্সে একতলায় প্রায় হাঁটুজল। বাইরে কোমরজল। বিগত ৩৫ ঘন্টায় জল একই রকম, কমার কোনো লক্ষণ নেই। গৃহস্থালির বর্জ্য যে ড্রামগুলোয় জমা হয় সেগুলো ভেসে গেছে। জমা জলে সকল বর্জ্য ভাসছে। জল পচে দুর্গন্ধ উঠছে। গাড়িগুলো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে অর্ধেক জলে ডুবে আছে।
প্রায় পঁয়ত্রিশ ঘন্টা বিদ্যুৎ নেই। ফ্রিজে যেটুকু খাবার ছিল হয় শেষ না হলে নষ্ট। খাবার এবং পানীয় জল প্রায় নিঃশেষিত। অন্ধকার, দরজা জানালা বন্ধ রাখলে গরমে সেদ্ধ হচ্ছি আর খুলে দিলে প্রচন্ড মশা ছেঁকে ধরছে। ঘুমোনো এখন বিলাসিতা!
ফোনে চার্জ দিতে পারছি না। পাওয়ার ব্যাঙ্কও নিঃশেষিত। টিভি চলছে না। নিজেদের কাঁদুনি গাইছি কিন্তু ফোনেই দেখেছি বহু মানুষের এর চেয়েও বেশি দুর্দশা। সবচেয়ে খারাপ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু মিছিল। আমাদের কাছেই অভিষিক্তার মোড়ে একজন হতভাগ্যর এই দশা । বেশি বৃষ্টি হলেই এরকম মৃত্যু এখন যেন গা সওয়া। কিন্তু আপনারাই বলুন, এই মৃত্যু কি কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায়? চার্জ শেষ হয়ে গেলে বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাব এবার। আর খবর পাবো না। সেই বোধহয় ভালো!
বৃষ্টি আর তো হয়নি কাল থেকে। কিন্তু ৩৫ ঘন্টা পরেও জল এতটুকু সরছে না কেন জানি না। এই নারকীয় অবস্থায় আর কতক্ষণ কাটাতে হবে জানি না তাও। শরীর খারাপ লাগছে এবার। এই শহরে প্রশাসন বলে কিছু কি আছে?
কী আর বলব। আমরা উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছি!!










