
দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন বিভিন্ন আদিবাসী ও বনবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা – প্রকৃতির সঙ্গে যাঁদের জীবন নিবিড় সম্পর্কে বাঁধা। প্রকৃতির সামান্য অঙ্গহানি হলে এঁদের নিমগ্ন জীবনের ওপর তার গভীর ছায়াপাত ঘটে। যাদবের জীবনেও এমন ঘটনা ঘটেছিল যার জেরে তিনি মাজুলির চরের একাংশ জুড়ে নতুন করে বনসৃজনের কাজে নেমে পড়েন। আদি অনন্ত কাল ধরে নদীর চরের এইসব এলাকায় মিশিং উপজাতীয় মানুষদের বসবাস। জমির ওপর আলাদা করে ব্যক্তিগত দখলি সত্ব নেই, এই জমি সকলের। 
যাদব তখন ছোট। এক সামান্য মোষ বেচাকেনার ব্যাপারী ছিলেন তাঁর বাবা। নদীর ভাঙনে তখনও এই জমির অংশটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি। ব্রহ্মপুত্র নদ তখনও তাঁদের এলাকাকে এভাবে কেটেকুটে ভাগ করে দেয়নি অসংখ্য খণ্ড খণ্ড অংশে। যাদব সেই সব দিনের কথা ভুলে যাননি। প্রতিদিন এই ভূখণ্ডের মাটিতে পা রেখে তিনি একমুঠো মাটি তুলে নিয়ে কপালে ঠেকান। এই ভূমিখণ্ডের কাছে অশেষ ঋণী তিনি।
একদম শুরুতে এখানে গাছপালা কিছুই ছিলনা। শুধু ধু দু বালির চর। উজান থেকে ভেসে আসা মরা গাছের গুঁড়ি ছাড়া সবুজের নামমাত্র চিহ্ন ছিলোনা। ক্রমে ক্রমে চিন থেকে জলপথে বয়ে নিয়ে আসা ঘাসের বীজেরা থিতু হতে শুরু করে এই সব নয়া চরে। ঘাসেরাই প্রথম বসতি স্থাপন করে এই ভূখণ্ডের মাটিতে। এখন সেই চরের জমিতেই সবুজের বিপুল সমারোহ। ঘাস জমির মাঝে মাঝে উদ্ধত ভঙ্গিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য বড়ো বড়ো গাছ – যাদব মুলাই পায়েং এর একক কীর্তির স্মারক। এখন এখানে ঘাস খেয়ে হৃষ্ট পুষ্ট তুষ্ট হয় যাদবের পালতু গবাদিপশুরা।




ষাটোর্ধ্ব যাদব মুলাই পায়েং এখনো এতোদিনের চেনা রুটিন আঁকড়ে ধরে আছেন – ভোর ভোর উঠে নিজের বিছানো বনভূমিতে পৌঁছে যাওয়া, সারাদিন সেখানে কাটিয়ে বাড়ি ফিরে আসা। নতুন নতুন এলাকায় বনভূমিকে ছড়িয়ে দিতে তিনি এখনও অক্লান্ত। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই কাজই করে যেতে চান তিনি।
প্রকৃতির কাছে তিনি অশেষ ঋণী। সেই ঋণ শোধের প্রচেষ্টায় তাই তিনি আজও ক্লান্তিহীন।
তথ্য ও ছবির জন্য প্রচলিত উৎসগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ।
০৬.১১. ২০২৬











