- দেশভক্তি’র নামে ভিন্নমতের ওপর হামলার বিরুদ্ধে
- যুদ্ধ-বিরোধী মিছিলে বিজেপি গুন্ডাদের হামলাবাজী নিয়ে রাজ্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে
- ভারতের ওপর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দাদাগিরি ও খবরদারি বন্ধ করার দাবিতে
- যুদ্ধ-উন্মাদনার আড়ালে দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ-বিভাজনের বাড়িয়ে তোলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী গণমিছিল
৪ঠা জুন, ২০২৫ বুধবার দুপুর ২টোয়
মৌলালী রামলীলা ময়দান থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত।
———————————————–
সাথী,
আপনারা জানেন গত ২২শে এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে নারকীয় জঙ্গী হামলায় ২৬জন পর্যটকের মৃত্যুর পর ভারত-পাক সীমান্তে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। কিন্তু এই সংঘর্ষ সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নেওয়ার আগেই ১০ই মে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের সরকার ‘সংঘর্ষ-বিরতি’ ঘোষণা করে, যার ফলে সীমান্ত-উত্তেজনা অনেকাংশেই প্রশমিত হয়। আমরা ‘সংঘর্ষ-বিরতি’র এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে স্থায়ীভাবে রূপায়িত করার দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে আমরা আবারও পহেলগামে জঙ্গী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবী করছি যে অবিলম্বে এই জঘন্য ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে হবে। জঙ্গি হামলার খবর থাকা সত্ত্বেও বৈসরণ উপত্যকায় সেদিন কোনো পুলিশ/সেনাবাহিনী কেন মোতায়েন ছিল না তা দেশবাসীর কাছে প্রকাশ করা হোক। যাদের গাফিলতিতে এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারল তার প্রকৃত তথ্য সামনে আসা জরুরি। প্রকৃত অপরাধীদের কাউকে আজ অবধি গ্রেপ্তার করা গেল না কেন তার উত্তর দেশবাসী জানতে চায়। আমরা চাই এই কাণ্ডে দায়ী সকল ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি ।
আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে ভারত-পাক সংঘাতের আবহে ভারত সরকার নিঃশব্দে তার দেশের আদিবাসী জনগণের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে এক চরম মাত্রায় নিয়ে গেছে। দেশের খনিজ সম্পদের ওপর কর্পোরেট আধিপত্য কায়েম করতে ছত্তিশগড়ে দেশের জনগণের ওপর যে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আমরা তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শান্তি আলোচনার প্রস্তাবকে যেভাবে সামরিক বাহিনীর বন্দুকের ক্ষমতা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করছে ভারত সরকার, তা প্রতিবাদের অধিকারকে দেশ থেকে মুছে ফেলার সামিল।
আমরা লক্ষ করেছি, ভারত-পাক সীমান্ত সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে কায়েমী স্বার্থের কিছু প্রতিনিধি গোটা দেশ জুড়ে ব্যাপক ‘যুদ্ধ-জিগির’ তৈরি করতে নেমে পড়ে। সংবাদ মাধ্যমে যথেচ্ছ ফেক নিউজ ছড়িয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর রটিয়ে এরা সমাজে এমন একটা বিষাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করে, যাতে শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের ন্যূনতম স্বাধীনতাটুকুও কেড়ে নেওয়া যায়। মেকি-দেশপ্রেমের ধুয়ো তুলে এই কুচক্রীরাই গত ১২ মে কলকাতায় ও ১৩ মে শিলিগুড়িতে ‘সংঘর্ষ-বিরতি’র পক্ষে দাঁড়ানো শান্তিকামী সাধারণ নাগরিকদের ওপর সংগঠিত হামলা চালায়। কোথাও কোথাও প্রতিবাদী নাগরিকদের চিহ্নিত করে তাদের বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়। আমরা কঠোরভাবে এই হামলাবাজির নিন্দা করছি। এরাজ্যের সরকার তথা পুলিশ-প্রশাসন এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ তো করেই নি, উল্টে মৌনব্রত অবলম্বন করে নিষ্ক্রিয় থেকেছে, যা পরোক্ষে হামলাকারীদের নিরস্ত করার বদলে উৎসাহিতই করেছে। রাজ্য সরকারের এই অগণতান্ত্রিক ভূমিকার নিন্দা জানাই। ‘যুদ্ধ-জিগির’কে সুকৌশলে কাজে লাগিয়ে আমাদের রাজ্য তথা গোটা দেশ জুড়ে হিংসা ও বিভেদের রাজনীতি, অবিশ্বাসের বাতাবরণ ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ তৈরির যাবতীয় প্রচেষ্টাকে রুখতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আরও একটি কথা এই প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন। আমরা দেখলাম, ভারত এবং পাকিস্তান, দুটি দেশের সরকার ‘সংঘর্ষ-বিরতি’ ঘোষণা করার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সংঘর্ষ-বিরতি’র সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিলেন। পরবর্তীতে তিনি এও দাবি করলেন যে, ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার চাপ দিয়েই নাকি তিনি দুই দেশকে ‘সংঘর্ষ-বিরতি’-তে রাজী করিয়েছেন! আত্মমর্যাদা-সম্পন্ন যে কোনও দেশপ্রেমিক এবং গণতান্ত্রিক মানুষের কাছেই ট্রাম্পের এই ঘোষণা চূড়ান্ত অপমানজনক। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, স্বঘোষিত যে বীরপুঙ্গবের দল সমাজে এতদিন যুদ্ধ-উন্মাদনা ছড়াচ্ছিলেন, এক্ষেত্রে তাঁদের দেশপ্রেমে বিন্দুমাত্র আঘাত লাগলো না! আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অবাঞ্ছিতভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নাক গলানো ও দাদাগিরি অবিলম্বে বন্ধ হোক।
আসুন সাথী, সাম্রাজ্যবাদের অঙ্গুলিহেলনে অথবা দেশের জনগণের প্রকৃত সমস্যা আড়াল করার উদ্দেশ্যে দেশের শাসকদের বানিয়ে তোলা ‘যুদ্ধ-জিগিরে’ না মেতে আমরা সবাই মিলে যুদ্ধ ঘোষণা করি ক্ষুধার বিরুদ্ধে, দারিদ্রের বিরুদ্ধে, বেকারির বিরুদ্ধে, ন্যায্য অধিকারের দাবিতে। রাজ্যের সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন, শান্তিপ্রিয়, দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক মানুষের ঐক্য দীর্ঘজীবী হোক!
ধন্যবাদ সহ,
AWBSRU, IFTU, TUCI, CSTU, AIPWA, AIRWO, PDSF, PDSU(WB), PDSU, AISA, APDR, AIKMS, PYL.
শ্রমজীবী নারী মঞ্চ, রাত-দখল ঐক্য মঞ্চ, সা.বি.ম, জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র পরিবেশ রক্ষা কমিটি, ক্রমরূপান্তর, আমরা মনভাসি, আমরা এক সচেতন প্রয়াস, ফ্যাসিবাদ-বিরোধী নাগরিক উদ্যোগ (বেহালা), শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ, গণফ্রন্ট, জন আন্দোলন।
কুশল দেবনাথ, সুশান্ত ঝা, আলোক মুখার্জী, অতনু চক্রবর্তী, অলীক চক্রবর্তী, অমিতাভ ভট্টাচার্য, শৈলেন মিশ্র, মলয় তেওয়ারি, সামসুল হক, নীতিশ রায়, অমলেন্দুভূষণ চৌধুরী, ফারুক ঊল ইসলাম, ডাঃ পুণ্যব্রত গুণ, মিরাতুন নাহার, বোলান গাঙ্গুলী, সোমা মারিক, মেরুণা মুর্মু, অপরাজিতা মুখোপাধ্যায়, শতাব্দী দাশ, সৃজন সেন, মহাশ্বেতা সমাজদার, সিতাংশু শেখর, ডাঃ সুমিতা দাস, ডাঃ রমেন্দ্রনাথ পাল, আশিসকুসুম ঘোষ, অগ্নীশ্বর, অনুপম বসু, কাঞ্চন সরকার, কৌশিক ব্যানার্জী, অনুরাগ মৈত্রেয়ী, সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাস, সন্দীপ দাসগুপ্ত, অপূর্ব রায়।
যোগাযোগ : 7605823920










