বিস্ময় প্রতিভা নজরুলের বিপুল সৃষ্টির ছোট্ট এক ঝলক প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী ও কমিউনিস্ট নেতা মুজফ্ফর আহমেদ এর লেখায়। উনি লিখছেন, ‘১৯২৬ সালে আমি নজরুলকে এই গানটি বাঙলায় তর্জমা করতে বলি।”
কোন গান? ভারতের বুকে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ার সেই প্রথম দিকে কমিউনিস্ট নেতৃত্ব চাইছিলেন যে পৃথিবীব্যাপী যে গান কমিউনিস্ট ইন্টার ন্যাশনাল নামে বিখ্যাত, ১৮৭১ সালে ফরাসি কমুনিষ্ট পার্টির প্রাক্তন সদস্য ইউগেন পট্টিয়ের রচনা করেছিলেন সেই গান।
কাকাবাবু আরও লিখছেন, “তার জন্যে গানের একটি ইংরেজী কপি তো তাকে জোগাড় করে দিতে হবে। চেষ্টা করেও আমি এমন এ্কখানা বই জোগাড় করতে পারলাম না যাতে ব্রিটেনের মজুররা যে তর্জমাটা গান, তা পাওয়া যায়। আমেরিকার তর্জমাটি পাওয়া গেল আপ্টন সিংক্লেয়ারের হেল্ (Hell, a Verse Drama) নামক নাটিকায়। ব্রিটেনে গাওয়া তর্জমার সঙ্গে দু’টি কিংবা তিনটি শব্দের শুধু তফাৎ। তাতে মানে বদলায়নি, সুর তো নয়ই। আমাদের কেউ তখন ইনটারন্যাশনাল সঙ্গীতের সুর জানতেন না, নজরুলও জানত না। নজরুল আমায় বলল — “এর স্বরলিপি (নোটেশন) জোগাড় করে দাও। তা হলে তা যন্ত্রে বাজিয়ে সেই সুরের চৌহুদ্দীর ভিতরে গানটি আমি তর্জমা করে দেব।” কিন্তু এই নোটেশন আমাদের কেউ দিতে পারলেন না। শেষে নজরুল একদিন আমাদের আফিসে (৩৭, হ্যারিসন রোডে) আসতেই আমি তাকে বললাম — “নোটেশন ছাড়াই তুমি গানটি অনুবাদ করে দাও। প্রথমে একবার তা “গণবাণী”তে ছাপতে দিই, তারপর দেখা যাবে কি করা যায়”। তখনই সেখানে বসেই সে গানটির অনুবাদ করে দিল। বাঙলা ভাষার সর্বোৎকৃষ্ট অনুবাদ তো বটেই, আমার বিশ্বাস ভারতীয় ভাষাগুলিতে যতসব অনুবাদ হয়েছে সে-সবেরও সেরা।”
বাংলা অন্তর-ন্যাশনাল সঙ্গীত রচয়িতা কবি কাজী নজরুলকে প্রণাম।











এ তো উজ্জ্বল উদ্ধার।
তোমার কাছেই এসব সম্পদ থাকে নাকি!,😚😔
Aha lovely
😍 🌹 💕🙏
কি সমৃদ্ধ পোস্ট টা গো।
বড়ো ভালোবাসাময়।