বাড়িতে ওষুধে আর বিশ্রামে শুয়ে থেকে থেকে শান্ত হয়ে যাচ্ছি এখন। আমার অত্যন্ত প্রিয় একটা প্রেমের গানের দৃশ্যায়ন, সম্পাদনা ইত্যাদি শেষ হয়ে এসেছিল মাস কয়েক আগে। কিন্তু প্রথমে বাংলাদেশের অভ্যুত্থান আর তার পরেই এখানে অভয়ার ধর্ষণ-খুনের জন্য পোষ্ট করতে ইচ্ছে করেনি। এখন আবার অশান্তির মেঘ ঘন হয়ে উঠছে। অভয়ার অবিচারে বুকটা ফেটে যায় আজও।
কিন্তু ভেবে দেখলাম এভাবে চললে কোনদিনই আর প্রেমের গান গাওয়া হবে না। শুধু প্রতিবাদ, শুধু লড়াই গেয়ে যেতে হবে। অবিরাম। আর আমার যত নিরালার গান, নির্জনতার গান, প্রেমের গান নীরবেই থাকবে লুকিয়ে? বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মত বলতে ইচ্ছে করছিল,
‘সে চেয়েছিল একটি সত্যিকারের প্রেমের কবিতা লিখতে/ তার তো একটাই জীবন/
মানুষের জীবনে প্রেমের চেয়ে নির্মল পিপাসার্ত জল/
আর কী থাকতে পারে?
সে আরও অনুভব করত প্রেমই তার কবিতার প্রাণ!/
কিন্তু তবু তার কবিতা/ একটার পর একটা তার নিজের লেখা কবিতা/
কি প্রেম কি জল, এমন কি পায়ের নীচের /
শক্ত মাটি পর্যন্ত খুঁজে পেলনা।
কবিতার জন্য তার দিবস রজনীর জাগরণ,/
যা ছিল তার জীবনের কঠিনতম সত্য/
প্রেম নয়, তাকে বারবার অপ্রেমের দারুণ আগুনে ছুঁড়ে দিয়ে বলত,
এখানেই তোর পরিশুদ্ধি!
এই যে আগুন, মানুষের পৃথিবী,/
আগে তার খিদে মেটা!/ তোর কবিতা, তোদের সমস্ত কবিতা/
সে তার ক্ষুধার্ত জিভ দিয়ে চেটে খাবে!’
আজ রোগ শয্যায় শুয়ে অমানুষতা আর নীতিহীনতার লির্লজ্জ আস্ফালন দেখতে দেখতে প্রেমের কাছেই আশ্রয় খুঁজলাম। নতজানু হলাম একটু শান্তির খোঁজে।
গানটা দিলাম।










