কয়েকটা কথা আপনাদের বলার আছে। তদন্ত সংস্থার শিরোমণি আপনারা। আপনাদের ব্যর্থতার দায় শেষমেষ তিরঙ্গা পতাকাকে নিতে হয়। আপনারা যে জায়গায় আরজি কর কেসের তদন্ত করছেন সেটার নাম বাংলা। সাতচল্লিশে দেশভাগ হত্যাকাণ্ড আসলে বাংলার বুকের ওপর দিয়েই হয়েছিলো। আরেকটি প্রদেশের বুক চিরেছিলো। তার নাম পাঞ্জাব। বাংলার মানুষ শান্তিপ্রিয়। আইন আদালত মেনেই চলে।আর জি করে খুন হয়েছে কোনো একজন ডাক্তার নয়। সেখানে খুন হয়েছে তাদের বাড়ির মেয়ে,এটাই বাংলার মানুষের উপলব্ধি।
বাংলার মানুষ আপনাদের ভরসা করতে চেয়েছিলো। আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছিল। তারা এখনো অধীর আগ্রহে বসে আছে শুধু এটুকু জানতে যে সেইদিন রাত্রে ঠিক কি ঘটেছিল তাদের বাড়ির মেয়ের সঙ্গে। তারা সত্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর জন্য আপনাদের ওপর ভরসা করেছে।
আপনারা সন্দীপ আর অভিজিৎকে গ্রেফতার করেছিলেন। এটা আমরা সবাই জানি নির্দিষ্ট প্রমাণ হাতে না থাকলে এই গ্রেফতারি আপনারা কিছুতেই করতেন না। বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কথা আপনারা বারবার কোর্টে বলেছেন। বৃহত্তর ষড়যন্ত্র কোনো একজন করে না। বৃহত্তর তখনই হয় যখন অনেক লোকজন তাতে জড়িত থাকে।এখন দিনের শেষে যদি একটি উলুখাগড়াকে দেখিয়ে বলেন সেই সব, তাহলে সেটা আর যেই বিশ্বাস করুক বাংলার জনতা করবে না।
আরেকটা জিনিস জেনে রাখুন। মৃতা নিজে একজন ডাক্তার। ডাক্তারদের ফরেনসিক সায়েন্স নিয়ে মোটামুটি কিছু জ্ঞান আছে। মৃতার শরীরে যে আঘাত আর অত্যাচারের চিহ্ন আছে সেটা যে একজনের পক্ষে সম্ভব নয় সেটা সব ডাক্তার জানে। আপনাদেরই একজন প্রাক্তন যুগ্ম অধিকর্তার মত হলো, খুনে জড়িত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন। এই বাস্তব সন্মত অনুমান ডাক্তারদের অনুমানের সঙ্গে মিলে যায়।
অকুস্থলে যাদের যে সময় থাকার কথা নয়, তারা সেখানে থাকলে তারা প্রত্যেকেই সন্দেহ ভাজনের তালিকায় পড়ে। সঠিক তদন্তের আওতায় সেই সমস্ত লোকজনের আসা উচিত। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করছি নর্থ বেঙ্গল লবির বহু মাথা সেখানে বিনা কারণে উপস্থিত ছিলো। আপনারা তদন্তে নর্থবেঙ্গল লবির লোকজনকে প্রায় ছেড়েই রেখে দিয়েছেন। এই ঘটনা আপনাদের তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমানসে সন্দেহ তৈরি করেছে।
আপনাদের চার্জশিট না দেবার ফলে সন্দীপ অভিজিতের জামিন হয়ে গেলো। এই চার্জশিট জমা না দেবার সুনির্দিষ্ট তিনটি কারণের কোনো একটি কারণ হবার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
১) আপনারা দাবি করলেও আসলে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের প্রমান জোগাড় করতে পারেন নি। এটা মেনে নেয়া একেবারেই সম্ভব নয়।আপনাদের হাতে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ফোন কলের লিস্ট, ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে। বহু মানুষের বিনা কারনে আর জি করে সেদিনের উপস্থিতির ছবি সহ প্রমাণ আছে। মানুষ সেগুলো জানে।
২) আপনাদের তদন্তকারী অফিসাররা ঘুষ নিয়ে থাকলে এরকম হতে পারে। এই কেসের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা একেবারেই নেই। যে ঘটনা সারা পৃথিবী তোলপাড় করেছে, সেই কেসের ক্ষেত্রে কোনো অফিসার ঘুষ নেবে এটা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাই এই অভিযোগ আমি একদম তুলছি না।
৩) কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক গোপন নির্দেশ। এটা একটা কারণ যেটা কিছুটা বিশ্বাস করা যায়। আপনারা বাংলায় অনেকগুলো তদন্ত করছেন। তার ফলাফল যা হয়েছে তাতে এটাই সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য কারন। কোনো কেসের ক্ষেত্রেই আপনারা বাংলায় মই বেয়ে ওপরে আর ওঠেন না। যখনই সেই দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই কোনো অজ্ঞাত কারণে আপনাদের তদন্ত গতি হারায়। আমি বা আমার মতো অনেকের মনে হচ্ছে এই তদন্ত অন্যগুলোর মতোই গতি হারালো। ফলে হাতে রইলো সেই সঞ্জয় রাই।
অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার একটি মৌলিক প্রভেদ আছে। এই ঘটনা বাংলার মানুষের অন্তরাত্মা আঘাত করেছে।মানুষ চারমাস পরেও রাজপথেই আছে। বিচার না মেলা পর্যন্ত রাজপথেই থাকবে। তাই আপনারা যদি ভাবেন সেটিং করে পার পেয়ে যাবেন তাহলে মস্ত ভুল করছেন। মানুষ কিন্তু ছাড়বে না।
আপনাদের কনভিকশন রেট সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ৭৪% এর বেশি। সেই রেট কোন জাদুবলে বাংলায় এসে শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, সেটা বাংলার মানুষ এবার জেনেই ছাড়বে।
সত্য জানা আমাদের অধিকার
পথ দেখাবে আর জি কর
তোমার আমার একই স্বর
জাস্টিস ফর আর জি কর।










