নীতিশ কুমার যা করেছেন, তাকে আমার ‘মলেস্টেশন’ না হলেও ঔদ্ধত্য আর এনটাইটেলমেন্ট মনে হয়েছে। ডাক্তারদের শংসাপত্র দেওয়ার সময় তিনি একজন ডাক্তারি ছাত্রীর হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়ার আগে ইশারায় কিছু একটা বললেন, সম্ভবত নিকাব সরাতে বললেন। তারপর হেসে নিজে সেটা সরিয়ে দিলেন। এটা মলেস্টেশন বা যৌন নিগ্রহ কিনা তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। কিন্তু যা নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকা উচিত নয় তা হল, এত ঔদ্ধত্য আসে কোত্থেকে যে হাত দিয়ে টেনে নিজে নিকাব সরিয়ে দেবেন?
এটা কোনো হিজাব ফেমিনিজম বিতর্ক নয়। কেউ হিজাব /নিকাব/ বোরকা পরতে চাইলে বা না চাইলে আমি সেটা তার জাতিসত্তা বনাম নারীসত্তার একটা দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখি। এত সহজ নয় তার সমাধান। কিন্তু এই তর্কটা নারীরা নিজেরা করবে। নীতিশ কুমার কে?
নীতিশ কুমার নিজের সপক্ষে যুক্তি দিতে পারেন যে, তিনি ভেবেছিলেন মেয়েদের ঘোমটা বা নিকাব তাদের স্বাধীনতার বিপক্ষে, তিনি মেয়েটির ভাল চেয়েছিলেন৷ এরকম ভাল অনেকেই চান। অনেকেই নাকি বুঝতে পারেন না কোত্থেকে ম্যানসপ্লেনিং (mansplaining=man+explaining) শুরু হয়।
সেক্ষেত্রে কি আরেকবার ম্যানসপ্লেনিং কাকে বলে আর কাকে বলে না তা মনে করিয়ে দেব? মনে হয়, অনেকের কাজে লাগবে।
১) তিনি কি আপনার পরামর্শ চেয়েছেন? আপনার কি পরামর্শ দেওয়ার নৈকট্য আছে ও তাঁরও গ্রহণ করার ইচ্ছে আছে? দুটো উত্তরই যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আপনি ম্যানসপ্লেন করছেন না।
২) তিনি পরামর্শ চাননি? তাহলে কি আপনার মনে হচ্ছে বিষয়টা আপনি ভাল বোঝেন? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে, আপনার কি মনে হয় ওঁর স্থানে থাকলে যেকোনো পুরুষই এটা ভাল বুঝতেন? যদি এর উত্তরও ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আপনি ম্যানসপ্লেন করছেন।
৩) তিনি পরামর্শ চাননি? তাহলে কি আপনার মনে হচ্ছে বিষয়টা আপনি ভাল বোঝেন? উত্তর ‘না’ হলে, মানে আপনি তাঁর থেকে ওই নির্দিষ্ট বিষয়ে বেশি না জানলে, তবু পরামর্শ দিতে ইচ্ছে করলে, আপনি ম্যানসপ্লেন করছেন।
৪) তিনি পরামর্শ চাননি? কিন্তু আপনার মনে হচ্ছে বিষয়টা আপনি ভাল বোঝেন? উত্তর ‘নিশ্চিত নই’ হলে, আলোচনা করার অনুমতি নিন, নির্দেশ দেওয়ার নয়।
৫) তিনি পরামর্শ চাননি কিন্তু আপনার মনে হচ্ছে বিষয়টা আপনি ভাল বোঝেন? উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে, আপনি কি মনে করেন যে কোনো পুরুষই এটা ভালো বোঝে? এর উত্তর ‘না’ হলে, এবার প্রশ্ন হল, আপনি তাঁকে পরামর্শ দেওয়ার আগে অনুমতি চেয়েছেন? সারকাজম নয়, নম্রভাবে অনুমতি চাওয়া? চেয়ে থাকলে, ও তিনি ‘হ্যাঁ’ বলে থাকলে আপনি ম্যানসপ্লেন করছেন না৷
আপনি যদি পুরুষ হন, তাহলে নারীকে, ট্রান্সকে, ক্যুয়ারকে পরামর্শ দেওয়ার আগে আপনাকে অবশ্যই তার ইচ্ছা অনিচ্ছাকে মর্যাদা দিতে হবে। একইভাবে আপনি যদি সংখ্যাগুরু হন তবে সংখ্যালঘুর ভাল-মন্দ নিয়ে মন্তব্য করার আগে আপনাকে অনুমতি নিতে হবে। এটা দীর্ঘকালীন ক্ষমতাতন্ত্রের কুফল যে আপনাকে এত ভেবে কথা বলতে হবে। কিন্তু হবে।










