১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫
গতকাল ১৬.০৯.২৫ তারিখে জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টরস ও অভয়া মঞ্চের ৮ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যায়। এই দলে ছিলেন ডক্টর পুণ্যব্রত গুণ, ডক্টর পবিত্র গোস্বামী, ডক্টর অভিজিৎ সেনাপতি, ডক্টর আপন সামন্ত, অভিজিৎ দাস, আশা ভরদ্বাজ, অভয় ঘোষাল এবং বিশ্বজিৎ মিত্র। উদ্দেশ্য বেসরকারি ফেসিলিটি ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস এজেন্সি “রিলায়েবল ফেসিলিটি সার্ভিসেস প্রাঃ লিঃ” র ফেসিলিটি ম্যানেজার জাহির আব্বাস কর্তৃক একজন মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো। সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে প্রতিনিধি দল সেখানে পৌছলে সিকিউরিটি ও মেন্টেনান্স কর্মীরা সমবেত ভাবে তাঁদের স্বাগত জানান। বসার ব্যবস্থা করে সমবেত ভাবে কর্মীরা এই ঘটনার সাথে অন্য অনেক ঘটনা ও ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন।
তাঁদের ভাষ্যে স্বাস্থ্যকর্তাদের ড্রাইভার হিসাবে এই আব্বাসের হাসপাতালে যাতায়াত শুরু। আর উত্থান ও কুকাজের শুরু ২০১৮ থেকে, অভিযোগ রাজ্যের এক প্রাক্তন মন্ত্রী ও ওঁর কাছের কিছু মানুষ যাঁরা স্বাস্থ্যপ্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায়। কর্মীদের ক্ষোভ, জাহির এর আগেও প্রথমে প্রলোভন এবং অসফল হলে ভয় দেখিয়ে বহু মহিলা কর্মীর ওপর একই ধরনের জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। কেউ রাজি না হলে তাঁকে হাসপাতালের সব থেকে নোংরা কাজ গুলি করান হয়েছে। তাঁরা অনেকই চক্ষু লজ্জা বা ভয়ে মুখ খোলেন নি। পুরুষ কর্মীরাও এধরনের অত্যাচারের শিকার কম হন নি। আর স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের PF এর ১৮মাসের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। মাসে ৮ হাজার হাতে পান, আসলে সরকারি বরাদ্দ কত জানার কোনো অবকাশ কর্মীদের নেই।
টেন্ডার পাওয়া কোম্পানি বদলেছে বেশ কয়েকবার কিন্তু হাসপাতালে জাহিরের জায়গীর একটুও কমে নি। বরং লাগামছাড়া ভাবে বেড়েছে। মাথায় কাদের হাত? কর্মীরা, বিশেষত মহিলারা, এখনও ভীষণ আতঙ্কে সন্ধ্যায় ডিউটি শেষ হলে বাড়ি ফিরতে পারবেন তো?
স্থানীয় প্রতিবাদীদের নিয়ে মিছিল হল। তার পর পাঁশকুড়া থানায় দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসারের সঙ্গে দেখা করে কর্মীদের উদ্বেগ প্রশমনের দাবি জানান হয়।
অত্যন্ত কৌতুহলের বিষয় যে অন্যত্র যেখানে অপরাধী ধরাই পড়ছে না, পাঁশকুড়ায় সেখানে হতভাগীর আনুষ্ঠানিক অভিযোগের আগেই পুলিশ নাকি কানা ঘুষো শুনেই অপরাধীকে গ্রেফতার করে, ওই আধিকারিকেরই দাবি। যদিও তারপর “অভিযুক্ত নাকি জামাই আদরে আছে?” কর্মীদের এই অভিযোগ পুলিশের কাছে ওঠালে ওই আধিকারিক বেশ ক্রুদ্ধ হলেন বলে মনে হয়েছে।
পুরো ঘটনাটি শুনে আমাদের মনে হয়েছে যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মদতপুষ্ট দুর্বৃত্ত-দুর্নীতি ও থ্রেট চক্র রাজ্যের মহিলাদের উপরে প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধগুলিকে নিয়মিত সংগঠিত করছে (প্রায় একশোর বেশি ঘটনা) পশ্চিমবাংলা জুড়ে, বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অভয়া, তমান্না ও কসবার ঘটনা, সেই একই ধরনের প্রতিষ্ঠানিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে পাঁশকুড়ায়।
অভিযোগ রয়েছে যে রিলায়বেল, অর্থাৎ যে সংস্থার ফেসিলিটি ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই সংস্থার মালিকপক্ষ শাসক দলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অনেকগুলো হসপিটালের এবং স্বাস্থ্য ভবনের এরা ক্যান্টিন এবং ক্লিনিং সার্ভিসেস চালায়। উডবার্ণও এরা চালায়। আরও বাস্তব সত্য হল এই যে, রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে নিযুক্ত এই সমস্ত বেসরকারী এজেন্সিগুলোই শাসক রাজনৈতিক দলের অত্যন্ত স্নেহভাজন এবং তাদের নির্বাচনে স্বচ্ছতা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। আরও গূঢ় সত্য হল, এই সমস্ত এজেন্সিগুলো দ্বারা যে কর্মীদের নিয়োগ করা হয়, সেখানে সমস্ত রাজ্য জুড়েই চূড়ান্ত অস্বচ্ছতা, শাসক রাজনৈতিক দলের স্হানীয় নেতৃত্বের বেআইনী কর্তৃত্ব, দুর্নীতির ভয়ঙ্কর অভিযোগ, নির্দিষ্ট পদ্ধতির কোনও মানদণ্ডের অনুপস্থিতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ কর্মরত অংশই শাসকের সক্রিয় ক্যাডার। আসলে বিভিন্ন হাসপাতালেই একাধিক অনৈতিক কাজকর্মের অভিযোগ। প্রকাশ্যে হয়তো আসছে না। যেদিন বেআব্রু হবে,অনেক বড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। প্রশাসনের উচ্চ মহল হিরন্ময় নীরবতা পালনে যেন শপথবদ্ধ। তাই বেনিয়ম লাগামছাড়া।
আমরা পাঁশকুড়া হাসপাতালের পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি যাতে অপরাধী/অপরাধীরা এবং তাদের মদত যাঁরা দিয়েছেন, প্রত্যক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে, সবাইকে আইন ও বিচারের আওতায় আনা হয়। এবং একই সাথে উক্ত সমস্ত অব্যবস্হার আশু প্রশাসনিক পর্যালোচনা , তদন্ত, কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো দাবী রাখছি।
জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস, ওয়েস্ট বেঙ্গল
অভয়া মঞ্চ










