উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের নানান মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হাতাহাতি, বহিরাগতদের দ্বারা ছাত্রদের হুমকি ও মারধরের যে অভিযোগ সামনে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট (WBJDF) তাতে অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করছে ও তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছে।
একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা মুক্ত চিন্তা, মতপ্রকাশ, যুক্তি ও শিক্ষার নিরাপদ পরিসর। অথচ আজও আমাদের রাজ্যের একের পর এক ক্যাম্পাসে তৈরি হচ্ছে ভয়ের পরিবেশ। ছাত্রদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, বহিরাগতদের দিয়ে মারধর করা হচ্ছে, প্রভাবশালীদের দাপটে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে আর সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয়, অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসনের ভূমিকা কার্যত নীরব দর্শকের!
এই নীরবতা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এই নীরবতাই ভয়ের সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেয়।
গত দুদিন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে যে হাতাহাতি, বহিরাগতদের প্রবেশ, ছাত্রদের হুমকি ও মারধরের অভিযোগ সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কলেজ চত্বর যদি বহিরাগতদের দাদাগিরির জায়গা হয়ে ওঠে, ছাত্রদের যদি নিজেদের ক্যাম্পাসেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, আর প্রশাসন যদি চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে প্রশ্ন উঠবেই, আমরা কি আবার সেই ভয়ের রাজনীতির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি?
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে হুমকি দিয়ে, ভয় দেখিয়ে, পেশিশক্তি ব্যবহার করে, বহিরাগত এনে কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে কোনও ক্যাম্পাস চালানো যাবে না।
ক্যাম্পাসে থ্রেট কালচার কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ছোট ছোট হুমকি, সামান্য দাদাগিরি, প্রশাসনের নীরবতা এবং অন্যায়ের প্রতি প্রশ্রয়—এইভাবেই ধীরে ধীরে তৈরি হয় একটি সংগঠিত ভয়ের পরিবেশ। আজ যে হুমকিকে ‘ছোট ঘটনা’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, কাল সেটিই আরও বড় অন্যায়ের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তাই এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে। গোড়াতেই থামাতে হবে এই সংস্কৃতিকে।
প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে কার্যকর ICC ও Grievance Redressal Cell থাকতে হবে। সেখানে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত College Council Meeting-এ ছাত্রদের নিরাপত্তা, হুমকি, হয়রানি ও বহিরাগতদের অনুপ্রবেশের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রশাসনের কাজ কোনও পক্ষের দাদাগিরিকে রক্ষা করা নয়। প্রশাসনের কাজ হল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের গত দুদিনের ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে FIR দায়ের, নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিতকরণ এবং আইনানুগ কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। কোনও রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা প্রভাবশালী পরিচয় যেন তদন্তের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।
একইসঙ্গে রাজ্য সরকার এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি—
ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা চলবে না!
যে কোনও কলেজে হুমকি, মারধর, বহিরাগতদের দাদাগিরি কিংবা পেশিশক্তির প্রদর্শন ঘটলে প্রশাসনকে প্রথম দিন থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ ভয়ের সংস্কৃতি একবার শিকড় গেড়ে বসলে পরে সেটিকে উপড়ে ফেলা অনেক কঠিন।
আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস চাই যেখানে ছাত্রের পরিচয় হবে তার মেধা ও যুক্তি, কোনও গোষ্ঠীর ছত্রছায়া নয়। আমরা এমন একটি প্রশাসন চাই যারা ভয়ের সামনে মাথা নত করবে না।
আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য কাউকে হুমকির মুখে পড়তে হবে না।
থ্রেট কালচার কোনও সংস্কৃতি নয়।
গুন্ডামি কোনও ছাত্ররাজনীতি নয়।
ভয় দেখানো কোনও প্রশাসনিক পদ্ধতি নয়।
আর অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা কোনও নিরপেক্ষতা নয়।
WBJDF বিশ্বাস করে, নিরাপদ ক্যাম্পাস প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর মৌলিক অধিকার।
ভয়ের রাজনীতির বিরুদ্ধে, ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার পক্ষে, প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে।










