Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

মরণোত্তর দেহদান বিতর্ক

Screenshot_2026-09-05-00-08-37-33_680d03679600f7af0b4c700c6b270fe7
Dr. Amit Pan

Dr. Amit Pan

Paediatrician, leader of doctors' movement
My Other Posts
  • September 5, 2026
  • 7:24 am
  • No Comments

আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে কারণেই হোক, ভেবে কিংবা না ভেবে, একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে এনেছেন। বাস্তবিক পক্ষে, এটা ঠিক একটা নয় তিনটে ভাগে বিভক্ত। ১) মারা যাওয়ার পর দেহ/শব দান, ২) অঙ্গ দান আর ৩) অঙ্গের মধ্যে পড়লেও যার আলাদা কিছু গুরুত্ব আছে তা হলো নেত্রদান। আমার অগ্রজ ডাঃ সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী বলেছেন, চক্ষুদানের অন্য মানে আছে তাই নেত্রদান বলাই ভালো।

এর মধ্যে পরিবারের সম্মতিক্রমে মৃতদেহ দান কতটা জরুরি সেটা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সত্যিই কি এর উপযোগিতা আছে, না আমরা প্রগতিশীল ধ্যানধারণার বশবর্তী হয়ে মৃত্যুর পরেও কিছু একটা করে যাওয়ার অদম্য উৎসাহেই এই পথের শরিক হবার প্রয়াসী হই? সত্যিই কি কোনো ‘মেডিকেল রিসার্চে’ এই শরীর কাজে লাগে?

আসলে, বর্তমান মেডিকেল শিক্ষার ক্যারিকুলামে অ্যানাটমি শিক্ষাদানে কিছু পার্থক্য হয়েছে, আমাদের বা পুরোনো সময়ের থেকে। আমরা কয়েকজন করে একটা ‘বডি’ ডিসেকসন করতাম নিজেরাই। শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে হলেও ডিসেকসন নিজেদেরই করতে হতো। তখন অ্যানাটমি পড়া হতো দু বছর ধরে। এখন, অ্যানাটমি শিক্ষার সময়সীমা কমেছে, আর তার ফলে কোপ পড়েছে অনেক সময় নিয়ে ডিসেকসনের উপর। এখন, মূলত শিক্ষকরাই ডিসেকসন করেন এবং ছাত্রছাত্রীরা তা দেখে জ্ঞানলাভের চেষ্টা করে। ফলে, ডিসেকসনের জন্য কলেজ পিছু ‘বডি’ তুলনামূলকভাবে কম লাগে। তবে, আমাদের সময়ে রাজ্যে মেডিকেল কলেজ ছিল সাতটি, আর এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে তা একচল্লিশ। সুতরাং, সব মিলিয়ে চাহিদা অন্তত কম থাকার কথা

এ ছাড়াও, বর্তমান পদ্ধতি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত কিনা সে প্রশ্নও আছে। ভালোভাবে ডিসেকসনের অভ্যাস ছাড়াই পরবর্তী কালে শল্যচিকিৎসায় অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা কতটা সঠিক হচ্ছে এবং এটাই মেনে চলা উচিত কিনা, সে প্রশ্নও রয়েছে।

ডিসেকসন ছাড়াও cadaver বা শব যে কাজে লাগে তা হলো হাতেকলমে অভ্যাস কোনো জটিল বা নতুন পদ্ধতিতে অপারেশন করার আগে। ডাঃ সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, মেডিকেল কলেজে heart transplant অপারেশন সাফল্যের সঙ্গে করার আগে বহুবার মহড়া দিতে হয়েছে শবদেহের উপরে। আর এই সফল মহড়ার পরেই মেলে মেডিকেল কলেজে রোগীর উপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের ছাড়পত্র বা প্রয়োজনীয় ‘লাইসেন্স’।

অর্থোপেডিক বা সার্জিকাল অপারেশনেও কোনো নতুন পদ্ধতি কতটা বাস্তবে সম্ভবপর, তা অন্তত প্রাথমিক ভাবে দেখার সর্বোত্তম ক্ষেত্র হলো শবদেহ।

আর, ডাক্তারি পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় bone, skeleton ও viscera এর উৎস তো এই শবদেহই…..

আমাদের সময়ে মেডিকেল কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে প্রথম দিনে সমস্ত department ঘুরিয়ে দেখানো হতো। জানিনা এখন হয় কিনা।
অ্যানাটমি ডিপার্টমেন্টে প্রফেসর সমর মিত্র সকলকেই তিনটি জিনিস বলতেন, ১) ওনার ঘরে একটি ছবি ছিল যেখানে একটি কঙ্কাল আলিঙ্গন করতে উদ্যত এক সুন্দরী রমণীকে আর একজন সাদা অ্যাপ্রন পড়া মানুষ চেষ্টা করছে তাকে ঠেকাতে। স্যার জিগ্যেস করতেন এর মানে কী, তারপর নিজেই বলতেন, “যত সুন্দরই হোক, মৃত্যু তাকে গ্রাস করবেই, ডাক্তারের কাজ সেটা যতটা সম্ভব ঠেকিয়ে রাখা”।

২) উনি অ্যানাটমি ডিপার্টমেন্টের হলে একটি ঘড়ির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন যাতে লেখা আছে, ‘Whatever thy hand findeth to do, do it at once.’ এটার বিশদ ব্যাখ্যা প্রয়োজন নেই। তবে, একটু সংশয় আছে, শেষের শব্দ দুটি নিয়ে। ‘at once’ ছিল বলেইতো মনে হচ্ছে, যদিও বাইবেলের বাণী ‘do it with thy might’.

৩) পরিশেষে জিগ্যেস করতেন, “Who will teach you the anatomy?” আমার মনে আছে, আমি যে ব্যাচে ছিলাম, সেই ব্যাচে ছিল বীরভূমের তপন মণ্ডল। সে বলে ফেললো, “স্যার আপনি”। অননুকরণীয় ‘টোনে’ স্যারের উত্তর, “No, dead body will teach you the anatomy.” সেই অমোঘ বাক্য যা মানব দেহ সম্পর্কে মানুষের এতো দিনের লব্ধ জ্ঞানের মূল সূত্র!!

কিন্তু মানবদেহ সম্পর্কে জ্ঞানলাভের এই সহজ রাস্তা কোনোদিনই সহজ ছিল না। মৃতদেহ নিয়ে সংস্কার-আচার, প্রচলিত রীতিনীতি, ধর্মীয় অনুশাসন চিরকালই দুর্লঙ্ঘ‍্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শব ব‍্যবচ্ছেদের। যেখানে যেটুকু হয়েছে, তাও অপরাধীদের মৃত‍্যুদণ্ড কার্যকর করার পরে।

প্রথম শব ব‍্যবচ্ছেদ কে করেন বলা শক্ত। ভারতবর্ষে সুশ্রুত কি শব ব‍্যবচ্ছেদ করেছিলেন? ‘সুশ্রুত সংহিতা’য় নাকি উল্লেখ আছে শবদেহের ব্যবচ্ছেদ ছাড়া মানবদেহ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ সম্ভব নয়,এই কারণে কী করে শবদেহ প্রস্তুত করতে হবে তাও উল্লেখিত আছে। কিন্তু, সরাসরি শব ব্যবচ্ছেদের বর্ণনা নেই। আসলে সুশ্রুতের আনুমানিক সময়কাল ও তার নামে প্রাপ্ত সর্বাধিক পুরাতন লিপি/পুঁথির ব্যবধান হাজার বছরেরও বেশি। বিভিন্ন সময়ের পর্ব, ধর্মীয় অনুশাসন এসব পেরিয়ে মূল ভাষ্য কতটা ও কী পরিমাণ রক্ষিত হয়েছে, বলা কঠিন। তাছাড়া, অনেক শতাব্দী ধরে ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্র, বিজ্ঞান, গণিত, দর্শনের পুরোনো পুঁথি ও জ্ঞানের ভান্ডার রক্ষিত থাকতো বৌদ্ধ মঠ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে। সেগুলি ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ায় হারিয়ে গেছে বিশাল ঐতিহ্য। জানা সত্যিই সম্ভব নয় বিভিন্ন বিভাগে তৎকালীন ভারতবর্ষ বিশ্ব জ্ঞানসম্পদে ঠিক কোন অবস্থানে ছিল।

অবাক ব্যাপার প্রায় দেড় হাজার বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাবিদ্যা চলে এসেছিলো পুঁথিগত শিক্ষা ও মানবতর মানে পাখি, বাঁদর, শুকর ইত্যাদির দেহ ব্যবচ্ছেদের উপর। আলেকজান্দ্রিয়ায় গ্রীক চিকিৎসক হিরোফিলাস ও তার সাথী ইরাসিস্ট্রেটাসের খ্রীষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে মানবদেহ ব্যবচ্ছেদের ইতিহাস থাকলেও তার কোনো নথি নেই, কারণ তা সবই ভস্মীভূত হয়েছিলো আলেকজান্দ্রিয়ার লাইব্রেরির অগ্নিকাণ্ডে। এর পরে যার কথা প্রায় ধ্রুব সত্য হিসাবে গণ্য করা হয়েছে তিনি হলেন রোমের গ্রীক চিকিৎসক ক্লডিয়াস গ্যালেন। গ‍্যালেনের মানবদেহ সরাসরি দেখার যথেষ্ট সুযোগ ছিল, কারণ তিনি ছিলেন গ্ল‍্যাডিয়েটরদের চিকিৎসক। কিন্তু তার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ রয়েছে এক ধরণের বাঁদর ও শুয়োরের উপর। তার ধারণা ছিল, এদের শরীরের আভ‍্যন্তরীণ গঠন মানবদেহেরই সমান। বস্তুত, প্রায় এক হাজার বছর ধরে গ‍্যালেনের পর্যবেক্ষণ ছিল ধ্রুব সত‍্য। প্রথম প্রশ্ন তোলেন আরব চিকিৎসক ইবন্-আল নাফিস ও পরবর্তী কালে ইবন্ সিনা, যদিও ধর্মীয় বিধিনিষেধ এড়িয়ে এরা কেউ নিজে শব ব‍্যবচ্ছেদ করেছিলেন, এ রকম কোনো তথ‍্য নেই। যদিও তাদের বর্ণনা অনেক ক্ষেত্রেই এতটা বাস্তবানুগ যা কারুর না কারুর পর্যবেক্ষণ ছাড়া সম্ভব নয়।

ইউরোপে প্রকাশ‍্যে মানবদেহ ব‍্যবচ্ছেদ করা হয় চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমে ইতালির বোলোগনাতে। মৃত‍্যুদণ্ড প্রাপ্ত অপরাধীর মৃত‍্যুর পরে তার শব ব‍্যবচ্ছেদ করেন মনডিনো ডি লিজজি। ধর্মীয় বিরোধিতা সত্ত্বেও সম্রাট ফ্রেডেরিক দ্বিতীয়র অনুজ্ঞা ও স্থানীয় বিচারকের উৎসাহ তার রক্ষাকবচ হয়েছিল। ষোড়শ শতাব্দীতে রেনেশাঁর প্রাণকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত ইতালির পাদুয়ার শিক্ষক চিকিৎসক আন্দ্রেআস ভেসালিউস মানবদেহের অভ‍্যন্তরের অসাধারণ সব চার্ট তৈরি করেন, যা অ‍্যানাটমি জগতের অমূল‍্য সম্পদ হিসাবেই গণ‍্য হয়। শুধু চিকিৎসকরাই নয় শিল্পীরাও তাদের শিল্পকে বাস্তবানুগ ও জীবন্ত করার উদ্দেশ‍্যে শব ব‍্যবচ্ছেদের সাহায‍্য নেন। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি নাকি একাই ত্রিশটির বেশি শব ব‍্যবচ্ছেদ করেন।আনতোনিও দেল পোলাইউলো ও তার ভাই, মাইকেলেঞ্জেলো এরাও কেউ পিছিয়ে ছিলেন না।

তবে, ভাবার কোনো কারণ নেই, চার্চ ও তার ধর্মীয় অনুশাসন এই সমস্ত কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দিয়েছিল। বরং ঠিক উল্টো।

স্পেনীয় চিকিৎসক মাইকেল সার্ভেটাস প্রথম ‘পালমোনারী সারকুলেশন’ এর সঠিক তথ‍্য প্রতিষ্ঠিত করেন (যদিও এ বিষয়ে গ‍্যালেনের ভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা আগেই করেছিলেন আরব চিকিসকরা)। সার্ভেটাসের কাজের পদ্ধতিতে ধর্মীয় সংস্থা এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিল, তার উপর আবার সার্ভেটাস প্রচলিত কিছু ধর্মীয় ধ‍্যানধারণা বিশেষত doctrine of trinity(ঈশ্বরের তিন রূপ, পরম পিতা-পুত্র যীশু-holy spirit) নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ফল হয় অতি মারাত্মক। প্রোটেস্টান্ট জন ক‍্যালভিনের নির্দেশে/অনুমতিক্রমে জেনেভায় তাকে জ‍্যান্ত পোড়ানো হয় heresy এর অভিযোগে, অন‍্যদিকে ফ্রান্সের ক‍্যাথলিকরাও তাকে মৃত‍্যুদণ্ড দেয় আর তাকে না পেয়ে, বহ্নুৎসব করে তার বইএর, প্রায় একই সময়ে। বস্তত তার সমস্ত বই এর সব কপি আগুনে দগ্ধ করা হয়। ‘পালমোনারি সারকুলেশন’ নিয়ে তার লেখা অবশিষ্ট ছিল গোপনে তিন বা চারটি লাইব্রেরিতে। সার্ভেটাস যীশুকে Eternal son of God হিসাবে স্বীকার না করে বলেন, Son of eternal God……

এর পঞ্চাশ বছরের মধ‍্যেই জীবন্ত দগ্ধ হন জিয়োরদিনো ব্রুনো, এবার সরাসরি পোপের এলাকায় ও নির্দেশে।

শব ব‍্যবচ্ছেদ কিন্তু বন্ধ হয়ে যায়নি, ধর্মীয় অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও। যদিও পাদুয়া, প‍্যারিস ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ‍্যালয়ে শব ব‍্যবচ্ছেদ চালু রাখতে নানা কৌশল করতে হয়। কখনো মৃত‍্যুদণ্ডের পর অপরাধীর দেহ সংগ্রহ করে, কখনো গরীব মানুষকে তার নিকট আত্মীয়ের funeral এর সমস্ত খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, আরও পরে স্রেফ কবর থেকে চুরি করে বা কবরচোরের কাছ থেকে দেহ ক্রয় করে, ব‍্যবচ্ছেদের ব‍্যবস্থা করা হতো। এডিনবার্গে দুজন আইরিশ তো আরও এক ধাপ এগিয়ে মানুষ খুন করে দেহ বিক্রি করতে আরম্ভ করে। তাতে নাকি পরিশ্রম অনেক কম ছিল।

এর আগে ব্রিটেনে তো বহুদিন শব ব‍্যবচ্ছেদ নিষিদ্ধ ছিল। আবার ব্রিটিশ চিকিৎসক উইলিয়াম হার্ভে যিনি পাদুয়া থেকে পাশ করে কেমব্রিজে যোগদান দেন এবং মানবদেহে রক্তসঞ্চালনের সামগ্রিক সত‍্যকে প্রতিষ্ঠা করেন, তিনি নাকি নিজের পিতা ও ভগিনীর মৃত‍্যুর পর শব ব‍্যবচ্ছেদ করেন।

অবশেষে ১৮৩২ সালে, ব্রিটেনে unclaimed bodyকে শব ব‍্যবচ্ছেদের জন‍্য ব‍্যবহার করার আইন পাশ হয়(Anatomy Act 1832)। নিকট জনের মৃতদেহ শব ব্যবচ্ছেদের জন্য দানকেও স্বীকৃতি দেয় এই আইন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই আইন পাশ হয় ১লা আগষ্ট। তার দু মাস আগেই মৃত‍্যুর পরে নিজের দেহের শব ব‍্যবচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে যান বিখ‍্যাত দার্শনিক ও জুরিষ্ট জেরেমি বেনথাম। তাঁর আরও একটা নির্দেশ বা অনুরোধ ছিল, সেটা হলো ব‍্যবচ্ছেদের পর যেন তাঁর স্মারক বা memorial তৈরি হয় তাঁরই দেহকে auto-icon হিসাবে ব্যবহার করে। University College London(UCL) এ স্টুডেন্টস্ সেন্টারের প্রবেশ পথে একটি কাঁচের সো-কেসে জামা-প‍্যান্ট-টুপি সজ্জিত তাঁর কঙ্কাল এখনো বসে আছে তাঁরই নিজস্ব চেয়ারে, হাতে তাঁর প্রিয় লাঠি।

অ্যানাটমি ডিপার্টমেন্ট একটা নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলো। ১৮৩৬ সালের ১০ই জানুয়ারিতে মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি হলে প্রথম শব ব্যবচ্ছেদ করেন মধুসূদন গুপ্ত, সাহায্যে রাজকৃষ্ণ দে, উমাচরণ শেঠ,দ্বারকানাথ গুপ্তু,নবীনচন্দ্র মিত্র।
দেহটা অবশ্যই ছিল কোনো unclaimed body..

এর একশো বছরেরও পরে, বিংশ শতাব্দীর ষাট – সত্তরের দশক থেকে মরণোত্তর দেহদানের রেওয়াজ শুরু হয় দুনিয়া জুড়ে, যা আমাদের দেশে গতিশীল হয় বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে। ২০১২ সালে IFAA(International Federation of Associations of Anatomists) মূলতঃ তিনটি recommendation করে, ১) First person voluntary body donation should be the only ethical primary source for anatomical dissection

২) explicitly denounce practice of use of unclaimed bodies or executed criminals.
যুক্তিটা ছিল এরা কেউ মৃত্যুর আগে নিজের দেহকে ব্যবহার করার অনুমতি দিয়ে যায়নি।

৩) it allowed institutions to charge nominal fees strictly to cover operational costs only, as for example preparation, maintenance and transport cost.

মানবদেহ বা কোনো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেনা বেচা কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়।

তিন নম্বর অধ্যায়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পৃথিবীতে বেশ কয়েকটি দেশ আছে, যাদের ডাক্তারি শবব্যবচ্ছেদের জন্য প্রয়োজনীয় body import করতে হয়। ঠিক কী কী শর্তে তারা import করে, নিশ্চয়ই তথ্য খুব পরিষ্কার নয়।

কয়েক বছর আগে ১৬৫ দেশে যেখানে মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, তাদের কাছে তথ্য চাওয়া হয় অ্যানাটমি ডিপার্টমেন্টে শবব্যবচ্ছেদ ও দেহের জোগানের উৎস জানতে। ৭১টি দেশ তথ্য পাঠায়, তার মধ্যে ৬৮টি দেশে মেডিকেল কলেজ/স্কুলে শবব্যবচ্ছেদ হয়। ২২টি দেশে পুরোটাই এবং ৬ টি দেশে বেশির ভাগ donated body দিয়ে, ২১টি দেশে পুরোটা ও ১৮টি দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে unclaimed body ব্যবহার করা হয়, একটিকে other source দেখানো হয়েছে। (Acad Med, 2018 Mar 20, Bodies for Anatomy Education in Medical Schools: An overview of the Sources of Cadavers Worldwide) তথ্য বহু দেশ পাঠায় নি, সুতরাং other sources এর সংখ্যাটা নিশ্চয়ই বাড়বে।

ভারতবর্ষে এই মুহূর্তে ৪৫০টি সরকারি ও ৩৭৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আছে, বেসরকারিতে আসন সংখ্যা সরকারির থেকে দশ হাজারেরও বেশি। সব মিলিয়ে এই বছরে ভর্তি হতে চলেছে প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার ছাত্রছাত্রী।এই তথ্যগুলি সামনে আসা ভীষণ জরুরি যে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজগুলো বিশেষ করে বেসরকারি

কলেজগুলো ডিসেকশনের শবদেহ কীভাবে জোগাড় করে বা কতটা জোগাড় করতে পারে। ভারতবর্ষ কিন্তু মোটেই donated bodyতে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। Demand ও supply এর মধ্যে ফারাক যথেষ্ট। NMC এর নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরে ভর্তি হওয়া দশজন ছাত্র পিছু dissection এর জন্য একটি করে body লাগবে, অন্য প্রয়োজন তো ছেড়েই দিলাম। বাস্তবিক ক্ষেত্রে যে ভাবে মেডিকেল কলেজ বিশেষত বেসরকারি কলেজ বাড়ছে, তাতে বহু কলেজে ২০ বা ৩০ নয়, ‘বডি’ পিছু ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ৪০-৫০ এও চলে যাচ্ছে। যে কোনো সময়ে এদের ‘স্বীকৃতি’ প্রত‍্যাহিত হয়ে যেতে পারে। সত্যি করে বলতে গেলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কলেজ ও আসন সংখ্যা বাড়িয়ে একটা চূড়ান্ত অরাজকতা তৈরি করা হয়েছে মেডিকেল শিক্ষা জগতে। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কে বোঝালো জানিনা voluntary body donation এর আর সেভাবে প্রয়োজন নেই। পশ্চিমবঙ্গে শুধু অ্যানাটমি ডিপার্টমেন্টে ডিসেকশনের জন্যই এই বছরে ‘বডি’ লাগবে ৭১৫টি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী অবশ্য পরে কিছুটা damage control এর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু একটা সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। বস্তুত, প্রায় দু হাজার বছর ধরে এই শবদেহ ব্যবচ্ছেদকে বাধা দিয়ে এসেছে সংস্কার, প্রচলিত রীতিনীতি ও সর্বোপরি ধর্মীয় অনুশাসন।

উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন‍্যায‍্য ধর্মীয় অনুশাসন ও সংস্কারের বিরুদ্ধে যে গণজাগরণ তৈরি হয়েছিলো, তা আবার নতুন করে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে কিছু মানুষের মধ্যে সংস্কার ও ধর্মীয় ধ্যানধারণার মূলে(fundamental) ফেরত যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টার ফলে। শুধু voluntary body donation নয়, যে কোনো বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই মৌলবাদ অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ।

সুশ্রুতের সময়ের পর ভারতে শল্যচিকিৎসা এগোনো দূরের কথা, আস্তে আস্তে হারিয়েই গেলো। নতুন করে শিখতে হলো ইউরোপীয়দের কাছে। কিন্তু, কেন? নিশ্চয়ই তৎকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় ব্যবস্থা ও পরিবেশ যথেষ্ট অনুকূল ছিল না বিজ্ঞানের অগ্রগতির পক্ষে।
আজকের দিনেও কিন্তু সেটাই সব থেকে বড় আশঙ্কা।

সর্বশেষে, আর জি কর আন্দোলনের সময় অভিযোগ ছিল প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষ নাকি body বিক্রি করতো anatomy department বা মর্গ থেকে। এই নিয়ে পরে কোনো অনুসন্ধান হয়েছে কিনা জানা নেই। আর অনুসন্ধান কে করবে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়া বাকি পুরো স্বাস্থ্যদপ্তর তো একই আছে, untouched.. সন্দীপ ঘোষ বোধহয় এখনো জেলে আছে, জানিনা কতো দিন থাকবে!!

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে একান্ত অনুরোধ, তিনি যখন বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, তখন পুরোটা দেখুন, চালু করুন Audit of cadavers specially the donated bodies, এটাকে আলাদা একটা কমিশন/বিভাগের অধীনে নিয়ে আসুন। প্রিয়জনের দেহ যারা দিয়ে আসছেন, তাদেরও তো জানার অধিকার আছে, সেই দেহ কী কাজে লাগলো বা আদৌ লাগলো কিনা।

এই স্বচ্ছতাটা তো নিশ্চয়ই আশা করা যেতেই পারে।

আর তার সঙ্গে চালু করুন দেহ/অঙ্গ দানের জন্য একটি কেন্দ্রীয় যোগাযোগের ব্যবস্থা, যেখানে মানুষ সরাসরি contact করতে পারে যে কোনো দিন যে কোনো সময়ে…….

পশ্চিমবঙ্গে বহু দিন কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন বোঝাই যেতোনা। এখন ভালোই বোঝা যাচ্ছে, তবে আশা করবো কথার থেকে তার কাজের পরিচয় আরও অনেক ফলপ্রসূ হবে, সর্ব অর্থেই……..

PrevPreviousনিরাপদ ক্যাম্পাস প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর মৌলিক অধিকার।
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

নিরাপদ ক্যাম্পাস প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর মৌলিক অধিকার।

September 5, 2026 No Comments

উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের নানান মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হাতাহাতি, বহিরাগতদের দ্বারা ছাত্রদের হুমকি ও মারধরের যে অভিযোগ সামনে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র

মহাজাগতিক

September 4, 2026 No Comments

চায়ের কাপে ছাইরঙা ভোর, ঝাপসা কাঁচে জলকবিতা, তুমি তো খুব দূরের মানুষ, মেঘের সঙ্গে কুটুম্বিতা। কাটছিল বেশ। একলা বিকেল – কুড়িয়ে নুড়ি জীবনপথের, মনখারাপি চরকাবুড়ি

মুক্ত সংস্কৃতি ও সুস্থ চেতনার ঐতিহ্যকে রক্ষা করুন

September 4, 2026 1 Comment

অ্যাকাডেমি এবং আনন্দবাজারের দেওয়ালে গেরুয়া রং। যাদবপুরের দেওয়াল থেকে কার্ল মার্কসের লেখা, বিখ্যাত চিত্রশিল্পী চিত্তপ্রসাদের ছবি, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের দেওয়ালে We want justice লেখা মোছার

জাহিরুলের হাসি

September 4, 2026 No Comments

আমি কেন, আমার বাপ-ঠাকুরদা, আমার চোদ্দপুরুষ এ গাঁয়ে থেকি গেছে। হেই যে দেখছেন ঐ পুরনো বাড়ি – ঐ একখান ঘর-ই শুধু পাকা।আমার ঠাকুর্দা করি গেছে।

বাঙালিয়ানা ও উত্তম কুমার: সংস্কৃতির দর্পণে এক অনন্য মহাকাব্য

September 3, 2026 No Comments

বাঙালি মানসের চিরকালীন রোমান্টিসিজম ও এক মহানায়ক বাঙালিয়ানা কোনো ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ শব্দ নয়, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক মানসিকতা, যাপনচিত্র এবং নান্দনিক চেতনা। এই চেতনার

সাম্প্রতিক পোস্ট

মরণোত্তর দেহদান বিতর্ক

Dr. Amit Pan September 5, 2026

নিরাপদ ক্যাম্পাস প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর মৌলিক অধিকার।

West Bengal Junior Doctors Front September 5, 2026

মহাজাগতিক

Dr. Sukanya Bandopadhyay September 4, 2026

মুক্ত সংস্কৃতি ও সুস্থ চেতনার ঐতিহ্যকে রক্ষা করুন

Abhaya Mancha September 4, 2026

জাহিরুলের হাসি

Dr. Goutam Bandopadhyay September 4, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

672868
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]