যুবভারতী বিষয়ে অনেক খবর পাচ্ছি, অনেক ভিডিও দেখছি – কিন্তু এই “মিনি-ফ্রেন্ডলি ডার্বি’-র রেজাল্টটা এখনও দেখতে পাচ্ছি না। কেউ একটু জানাবেন?
মানে, মেসির পাশে একবার সৃঞ্জয়বাবুকে দেখলাম, অরূপ বিশ্বাসকে তো দেখলামই, এমনকি, যদি খুব ভুল না করি, তাহলে দেবাশিস দত্তকেও দেখলাম। তাহলে কি মাঠে বাংলার পতাকা আরও একবার উঁচুতে তুলে ধরল “জাতীয় দল”?
কিন্তু সেক্ষেত্রে কুনালবাবু তো গর্ব করে কিছু পোস্ট করতেন! তাঁকে তো উলটে বিচলিত মনে হলো। তাহলে? তবে কি অন্য দল…
মোটের উপর ব্যাপারটা ঠিক কী? বড্ডো কনফিউজড লাগছে।
কী বলছেন? বাংলার লজ্জা, কলকাতার লজ্জা?
ধুর মশাই, কী যে বলেন!
হাজারে হাজারে চাকরি চুরি হয়ে গেছে, লাখ লাখ মানুষের সারাজীবনের সঞ্চয় চিটফান্ডে চৌপাট হয়ে গেছে – তাতে “বাংলার লজ্জা” হয়নি – আর যুবভারতী থেকে কয়েকখানা কার্পেট চুরি গেলেই “বাংলার লজ্জা” হবে?
শহরের মধ্যিখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডিউটি করতে করতে একটা মেয়ে রেপ হয়ে খুন হয়ে যায়, তাতে “বাংলার লজ্জা” হয় না – রাজ্যের শিক্ষা থেকে পরিবহন থেকে স্বাস্থ্য, সবই ভেঙে পড়েছে, তা নিয়ে কারও তিলমাত্র হেলদোল নেই – আর একটা স্টেডিয়ামের কয়েকখানা চেয়ার ভাঙলেই “বাংলার লজ্জা” হয়ে যাবে?
শুনুন, দশ-বিশ হাজার টাকা দিয়ে যারা, ফুটবলারের খেলা নয়, স্রেফ ফুটবলারের হাসিমুখ ও হাতনাড়া দেখতে যায়, তারা… যাক গে! তো তারা যা ডিজার্ভ করে, তা-ই পেয়েছে। না, ঠিক তা পায়নি – তামাশা চেয়েছিল, পুরোটা পায়নি, মানে যতটা পেলে মন পুরোপুরি তৃপ্ত হতো ততটা পায়নি – তাই খুব খুউব রেগে গেছে। স্বাভাবিক! তো অরূপ বিশ্বাসকে দেখতে পেল, স্বরূপ বিশ্বাসের সন্তানদের সঙ্গে মেসি-র ছবি দেখতে পেল… এমনকি শুভশ্রীকেও দেখতে পেল… এত অধৈর্য হয়ে না পড়লে হয়তো শাহরুখ এবং মাননীয়াকেও দেখতে পেত… তামাশা কি কম পড়ল নাকি?
ও হ্যাঁ, তামাশার নেক্সট পার্ট বাকি আছে তো! এই যে শতদ্রুবাবুকে ধরা হলো, দেখুনই না কী হয়। তামাশা-ই যখন দেখবেন, খোলা মনে দেখুন।
ছবিটবি তোলা হয়ে গেলে, ঝামেলা দেখে তড়িঘড়ি পালিয়ে যাওয়া ক্রীড়ামন্ত্রী… সে-ও আরেক তামাশা। কম তো নয়।
ওখানে আবার ক্রীড়ামন্ত্রী কেন? ক্রীড়া কিছু হওয়ার কথা ছিল নাকি আজ? যখন একজন খেলোয়াড় খেলবেন না, শুধুই হাত নাড়বেন – একথা জেনেও হাজার হাজার লোক হাজার হাজার টাকা খরচ করে স্রেফ সেই হাত নাড়া দেখতে যায়, ভাতা-অনুদানের রাজ্যে যখন সেই হাতনাড়া ঘিরে কোটি কোটি টাকার হাতবদল হয়… হ্যাঁ, তখন সেটা অন্য লেভেলের ক্রীড়া। এবং সেই ক্রীড়ার খুব উপযুক্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
এবং তিনি যে এর পরেও (নাকি এজন্যই?) অনেক অনেএএক ভোটে জিতবেন, সেটি আলাদা করে কোনও তামাশা নয়। কেননা, আপনি যদি ভাবেন যে আজ খেলা হয়নি, তাহলে ভুল করছেন। খেলা হয়েছে, খেলা হচ্ছে… এবং অবশ্যই, খেলা হবে।
এসবের মধ্যে খামোখা “বাংলার লজ্জা” ইত্যাদি আটভাট ইয়ে টেনে আনবেন না।
যুবভারতীর সামনে যান। মূর্তিটা দেখেছেন তো? ওইটাই বাংলার মুখ। লজ্জায় আগেই মাথা কাটা গেছে বলে মাথা নেই – দূরদর্শী শিল্পী মার্জিন রেখে কোমর অব্দি বাদ দিয়ে দিয়েছেন (কেননা মাথা কাটা যাওয়ার পাশাপাশি বাংলার কোমর ভেঙে গেছে – মেরুদণ্ডও নেই – অনেকদিন ধরেই)।
দুশ্চিন্তা করবেন না, বাংলার আর লজ্জাটজ্জার প্রশ্ন ওঠে না।









