১১।১২।২৫
সাধারণ জনগণের করের টাকা নয়ছয় করে, প্রশাসনিক কুৎসিত প্রতিহিংসা পূরণের উদগ্র লালসায়, তথাকথিত দামী ও নামী আইনজীবীদের নিয়োগ করে এবং আর্থিক অঙ্কে তাদের অশ্লীল উদরস্ফীতি ঘটাতে কোষাগারকে রক্তশূন্য করে— রাজ্য সরকার, একবার নয়, অযুত বার, একাধিক সাম্প্রতিক ঘটনায় হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট– সর্বত্র খেয়ে চলেছে বিরাশি শিক্কার থাপ্পড়। তবু ‘শরম’ শব্দবন্ধের সামান্যতম উপস্থিতি, এই রাজ্য প্রশাসনের অভিধান থেকে উধাও।
সাম্প্রতিকতম সংযোজন– অভয়া আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী মুখ ডাঃ অনিকেত মাহাতোর উপর স্বাস্থ্য প্রশাসনের নগ্ন প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চূড়ান্ত নিয়মবহির্ভূত ও স্বচ্ছতার দফারফা করা পোস্টিং সংক্রান্ত আইনী মামলা। হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ, ডিভিশন বেঞ্চ এবং শেষে দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়েও রাজ্য সরকারের একটার পর একটায় শোচনীয় ধাক্কা। তবু জনগণের করের টাকা কাড়ি কাড়ি খরচ করে যাওয়া এবং গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কালা সংকেত পাঠিয়ে ভয় দেখিয়ে চলা– প্রশাসন কেবল এই একটি কাজেই ক্লান্তিহীন। যদিও শেষ বিচারে তারা ব্যর্থ — বিশেষত প্রতিবাদী জনতার অনুভূতির বৃহত্তর পরিসরে।
সুবিচার মিলেছে অনিকেতের। সুপ্রিম চপেটাঘাত পড়েছে আজ। একই গোত্রভুক্ত, অভিন্ন মাত্রার মামলা বিচারাধীন হাইকোর্টে– যেখানে আক্রান্ত ডাঃ দেবাশিস হালদার এবং ডাঃ আসফাকুল্লা নাইয়া। তারাও দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে– এও একপ্রকার নিশ্চিত। অভয়া আন্দোলনকারীদের ভীত ত্রস্ত করে রাখতে জুনিয়র ডাক্তার সহ একাধিক সিনিয়র চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের সাজানো মামলার ঢল–অদূর ভবিষ্যতে সেখানেও প্রশাসনের জন্য আরো বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছে–স্বাভাবিক বিচারের শাশ্বত সূত্র ধরেই এ কথা স্পষ্ট।
কিন্ত এই প্রশাসনিক অনাচার, সরকারী দুরাচার বাধাহীন ভাবে চলতে দিতে চায় না জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টরস,পঃবঙ্গ সহ তামাম সোজা শিরদাঁড়ার লক্ষ লক্ষ বঙ্গবাসী। রাস্তার লড়াই তীব্র করে, আইনী যুদ্ধ তীক্ষ্ণ করে বার্তা দিতে প্রস্তুত আমরাও– প্রত্যেকটি আঘাতের প্রত্যুত্তরে স্পর্ধার সমুচিত প্রত্যাঘাত নিয়ে।
আমরা জোরালো দাবী রাখছি—-
১। ডাক্তার অনিকেত মাহাতোর বিরুদ্ধে আইনী মামলায় জনগণের যে টাকা সরকার খরচ করেছে , তা অনতিবিলম্বে রাজ্যের প্রধান স্বাস্থ্য সচিব এবং অধিকর্তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হোক।
২। স্বাস্থ্য ক্ষেত্র সহ যে কোনও পরিসরে নক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কন্ঠরুদ্ধ করতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা বন্ধ হোক আর কথায় কথায় কোর্টের অঙ্গনে জনগণের কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে দ্রুত ইনসাফ এর প্রক্রিয়াকে রুদ্ধ করার প্রশাসনিক কুচক্রী মতলব অবিলম্বে বন্ধ হোক।
আমরা আবারও বলছি– প্রশাসন সংযত হোন– নচেৎ জনতার আদালতে জমতে থাকা চার্জশিটে প্রশাসনের মাতব্বরদের শেষের সাজা বড়ই ভয়ঙ্কর। আন্দোলনের আগুনে খাক হয়ে যাবেই বড় মেজ সব আমলাদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার সব সুপ্ত বাসনা।









