প্রজন্মকে বলতে হবে, কাদের পক্ষে লড়ছিলাম।
সেই যে যুগে ভয়ের কাছে শিরদাঁড়া রোজ চোর-নিলাম,
স্পষ্ট তখন খাদ বিপরীত খাড়াই কারা চড়ছিলাম,
নিকষ কালো আঁধার মুছে আলোতে বুক ভরছিলাম।
প্রজন্মকে জানতে হবে, দুর্বিষহ আগস্ট-কাল,
জানতে হবে শিরদাঁড়াময় হিমেল-স্রোতের সেই সকাল,
নয় তারিখে ধ্বস্ত হলো তোমার আমার সবার মেয়ে,
প্রজন্মকে জানতে হবে তার খুনীদের বিচার চেয়ে
আমরা কেমন দাবানলের কুটোর জোগাড় করছিলাম,
ভরসা-খেকো দানব রোধে মানব-শেকল গড়ছিলাম।
প্রজন্মকে শুনতে হবে আজ ‘জুনিয়র’ যাদের নাম,
কেমন করে সব সিনিয়র করলো তাদের জেদ সেলাম।
শুনতে হবে প্রতীকবিহীন অহিংস এক বিবেক-ভিড়
কেমন করে চিড় ধরিয়ে গুঁড়িয়ে দিলো থ্রেট-প্রাচীর,
শুনতে হবে ভয়কে কবে মুখের ওপর দোর দিলাম,
‘জো হুজুর’এর বদলে গলা নিজের বলায় জোর দিলাম।
প্রজন্মকে বলবো খুলে স্বার্থে ডুবে জোর ছিলাম,
যে যার মতো ক্ষইয়ে আয়ু ব্যর্থ হয়ে ঝরছিলাম,
নিচের দিকে টানছিলো খাদ, হু হু করে পড়ছিলাম,
ডাক দিলে কেউ প্রতিবাদের, পেছনদিকে সরছিলাম।
যখন আমার মেয়েটা গেলো, বেঁচে থেকেও মরছিলাম,
গড্ডলিকার ভিড়ের থেকে তাই বিপরীত নড়ছিলাম
হাঁক দিলো যেই সঙ্গে যাওয়ার অভয় সবুজ স্টেথোর দল
অমনি নড়ে চিরস্থবির না সাত না পাঁচ ভেতর-স্থল,
দেখতে পেলাম লড়ছে বটে সামনে রেখে গান্ধীকে,
কিন্তু ভগৎ বাঁ হাত ধরেন, সুভাষ থাকেন ডানদিকে।
প্রজন্মরা জানবে কেমন সক্কলে হাত ধরছিলাম,
তিলোত্তমা’র নামে সবাই বর্ম একই পরছিলাম।
সব শুনিয়ে বলবো তাদের ‘এই নে নতুন ভোর দিলাম।’










আসাধারণ লেখা হয়েছে 🙏🙏🙏