বছরের শেষটা সবদিক থেকেই খারাপ যাচ্ছে। খারাপ বলার সবচেয়ে বড় কারণ, এই অবস্থা থেকে যে পরে কিছু ভালো হবে সে আশাটাই করতে আর সাহস হয়না।
ঠিক জানিও না, একের পর এক যে সমস্ত বিপর্যয় আসছে, তার প্রতিকার কী !
মুর্শিদাবাদে যে এতো সব ঘটে গেলো তার পরিণাম কী হবে?
রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় সংগঠনগুলি একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে এবং কিছু সংবেদনশীল মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ডাক দিয়ে বা দু চারটে মিছিল-কনভেনশন করেই ক্ষান্ত হবে…..এই আর কী !!
এখানে প্রশ্ন একটাই, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ডাক দিলেই বা এই নিয়ে কিছু ভালো ভালো কথা বললেই দাঙ্গা থেমে যাবে? আমরা কার কাছে আবেদন রাখছি, দাঙ্গাবাজদের শুভ বুদ্ধির কাছে? মনে রাখতে হবে, দাঙ্গাবাজরা হলো সরাসরি গুণ্ডা(সম্ভবতঃ পেশাদারও), সে যে দলের বা যে সম্প্রদায়েরই হোক। তাদের কাছে সৎ উপদেশ বা সম্প্রীতির মহান ললিত বাণীর মূল্য কিন্তু যৎসামান্যই !!
যারা দাঙ্গা করে তারা জেনে বুঝে পরিকল্পনা করেই করে। দয়া করে গুণ্ডাবাজির হাল্কা সপক্ষে কোনো প্ররোচনার বা অন্য কোনো ভাবে আবেগতাড়িত হওয়ার যুক্তি আনবেন না। গুণ্ডাবাজি মানে গুণ্ডাবাজিই…..
প্ররোচনা বা ইন্ধন তো নিশ্চয়ই রয়েছে, কিন্তু সেটা কখনোই এরকম মারাত্মক চেহারা নেওয়ার পক্ষে যুক্তি হতে পারে না। মুর্শিদাবাদের দাঙ্গার পিছনে কিন্তু অনেক বড় পরিকল্পনা থাকতে পারে, বিশেষতঃ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে।এটাকে লঘু করার যে কোনো অতি লঘু প্রয়াসও কিন্তু পরিণামে অতি মারাত্মক হতে পারে।
এটা ঠিকই যে দাঙ্গা না হতে দেওয়া বা বন্ধ করার মূল দায়িত্ব প্রশাসনের। কিন্তু, যদি প্রশাসন ব্যর্থ হয় কিংবা নাই চায় তাকে আটকাতে, তাহলে মানুষের করণীয় কী?
খুব পরিষ্কার কথা, সেখানে মানুষের এমন কিছু সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে, যাতে দাঙ্গাবাজরা বোঝে যে ইচ্ছে করলেই, আর প্রশাসনের প্রশ্রয় থাকলেই যা খুশি করা যায় না। মোটেই সহজ কাজ নয়, কারণ সেক্ষেত্রে প্রতিরোধটা তৈরি করতে হবে নিজস্ব গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই, দাঙ্গাবাজদের বিচ্ছিন্ন করতে হবে তারই স্বজন বা সম্প্রদায় থেকে। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেই বেছে নিতে হবে্ এমন মানুষদের, যারা রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেন সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা ও নিরাপত্তাকে।
আসলে, দাঙ্গা রুখবো স্লোগান দেওয়া বা পোস্টার লেখা এক জিনিস, আর সত্যি করে দাঙ্গা রোখার প্রচেষ্টা আর এক জিনিস। এই দুটোর মধ্যে তফাৎটা বোধহয় ‘উপসাগরীয়(gulf)’ নয়, প্রায় অতলান্তিক মহাসাগরীয়!!
মুর্শিদাবাদের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিপর্যয় নয়, তার প্রমাণ পেতে বিশেষ দেরি হওয়ার কথা নয়। আমরা সম্ভবতঃ সময়ের বিপরীতেই যাচ্ছি, তাই সিদ্ধান্তটা তো তাড়াতাড়িই নিতে হবে।
কী করবেন, যা করছেন তাই, মানে তপ্ত আলোচনাতেই সমাপ্তি, না, এখন থেকেই সমস্ত দাঙ্গা রোখার প্রস্তুতি নেওয়া যেখানে উভয় সম্প্রদায়ের দায়িত্ববান মানুষেরা এগিয়ে এসে বলবে, আমার এলাকায় দাঙ্গা রোখার দায়িত্ব আমার??
একটু বেশি ভাবা বা আশা করা হয়ে যাচ্ছে না? ঠিকই, কিন্তু আর তো বিকল্প দেখছি না, অন্ততঃ শাস্তিতে না হলেও কোনোক্রমে বেঁচে বর্তে থাকার জন্য।বলতে পারেন,’Hope against hope..’
সত্যি করে বলতে গেলে, আগামী ১৪৩২ এর জন্য কোনো বিশেষ আশায় নয়, অপেক্ষা করছি ঘোর দুশ্চিন্তা নিয়ে………..










