
যুদ্ধ মানেই হলো বিবেক বুদ্ধি আড়ালে রেখে হিংস্রতার অনর্থক আস্ফালন। অবশ্য আমাদের মহাকাব্য দুটির মূল প্রতিপাদ্যই যে যুদ্ধ তা ভুলি কি করে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আজ ত্রয়োদশ দিনে পড়লো। তৈল ক্ষেত্রগুলোর ওপর যথেচ্ছ মিসাইল হানার পর এখন আক্রমণের শিকার হচ্ছে এই অঞ্চলের জল লবণ বিমুক্তিকরণের পরিকাঠামোর ওপর। কি নিদারুন আগ্রাসন! ইরানের তৈল ক্ষেত্রগুলোর ওপর বোমাবাজির পর এখন ইরানের ডিস্যালিনেশন প্লান্ট গুলোকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করে তুলেছে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী।
একেবারে গোড়ার দিকে ইরানের পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন ক্ষেত্র এবং সামরিক বাহিনীর ঘাঁটিগুলোতেই আক্রমণ চলছিল। পরবর্তী সময়ে লক্ষ্যবস্তু বদলে দুপক্ষই পরিকাঠামোর ওপর হামলাকে জোরদার করছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর ঘাঁটি ধ্বংসের নামে ইরান দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরের লাগোয়া পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জল শোধনাগারের ওপর আক্রমণ শানিয়েছে। ইউনাইটেড আরব এমিরেটসের ফুজাইরা শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র সংলগ্ন জল শোধনাগার এবং কুয়েতের পশ্চিম দোহা ডিস্যালিনেশন প্লান্টের ওপরেও হামলা করেছে ইরান।
এই পদ্ধতির পাশাপাশি আরও একটি উপায়ে জলকে শোধন করে ব্যবহার্য করা হয়। বিশেষ ধরনের ছাঁকনি দিয়ে জলের মধ্যে দ্রবীভূত লবণকে আলাদা করা হয়। ছাঁকনির ফাঁক দিয়ে জল গলে বেরিয়ে গেলেও লবণকণা আটকে যায়। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে রিভার্স অসমোসিস পদ্ধতিতে জল শোধন করা হয় জলের ঘাটতি পূরণের জন্য। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই এখানে। ২০২০ সালে আল্ জাজিরার রিপোর্ট সূত্রে জানা গেছে যে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে জলের চাহিদা মেটানোর জন্য ভৌম জল এবং পরিশোধিত জলের ওপরই নির্ভর করে থাকার কোনো বিকল্প নেই।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে জলের জোগান দিতে এই ডিস্যালিনেশন প্লান্টগুলোর অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য। ফলে যে কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলোর সামরিক হানার লক্ষ্য করা হচ্ছে এগুলোকে।
বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞ নাসের আলসায়েদ আল্ জাজিরার সাংবাদিককে জানান এই এলাকার মানুষের জীবনের সঙ্গে জল শোধনাগারের সম্পর্ক নিবিড় । এগুলোর ওপর আক্রমণ করা হলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তার গভীর প্রভাব পড়বে। উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হবে। যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্যই হলো জনজীবনকে ব্যতিব্যস্ত, বিভ্রান্ত করা। ফলে এগুলো হলো সফট্ টার্গেট।
দ্বিতীয়ত, এই অঞ্চলের দেশগুলোর মানুষ এই পরিশোধিত জলের ওপরই নির্ভর করে থাকে। বাহেরিন,কাতার, কুয়েতের মতো দেশের মানুষের কাছে এই পরিশোধিত জলের কোনো বিকল্প নেই। ফলে এই ডিস্যালিনেশন প্লান্ট গুলোকে বিধ্বস্ত করা হলে তা যুদ্ধ জয়ের পথকে প্রশস্ত করবে বলে মনে করেন তিনি।
যুদ্ধ কখনোই কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করে না। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মানুষ জলের জন্য এই কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল । ফলে একটু একটু করে গড়ে তোলা এই ব্যবস্থায় কোনো রকম বিপর্যয় গোটা ব্যবস্থাপনাকেই বিশৃঙ্খল করে দেবে। এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে নেমে আসবে গভীর সংকট, তাঁদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এই অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত বড়ো দেশগুলোর পক্ষে যে ধরনের জল সরবরাহের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, তুলনায় ছোট দেশগুলোর পক্ষে তেমনটা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে এই আক্রমণ এলাকায় নতুন অসমতার জন্ম দেবে। মনে রাখতে হবে যে জল কেবলমাত্র একটি পানীয় নয়,জল হলো প্রাণের স্পন্দনরেখা। জলের অভাবে অর্থনীতির গতি রুদ্ধ হবে, ভেঙে পড়বে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থা। এক গভীর অনিশ্চয়তায় ভরে উঠবে এই অঞ্চলের দেশগুলো

** পৃথিবীর বুকে শান্তি আসুক নেমে।
ঋণ স্বীকার
আল্ জাজিরা
টাইমস্ অব ইন্ডিয়া।
মার্চ ১২,২০২৬









জল জল কর সখা জলে তোমার কে আছে?
মনেতে ভাবিয়ে দেখো জলে সবার প্রাণ আছে।
টুসু গান। পরিবর্তিত।
জল বিণা ক্যামনে বাঁচি ভাই
টলমল ঐ জলের লাইগা
প্রাণ করে আইঢাই।
জল হইলো প্রাণের দোসর
তারে নষ্ট না করিও।
যতন করে রাখো ধরে
আইলে বরষারই প্রহর।
ওগো বরষারই প্রহর।
ব্যতিক্রমী প্রতিবেদন এর জন্যে ধন্যবাদ দাদা। যুদ্ধের করাল ছায়া থেকে পানীয় জলও বাদ যাচ্ছে না। স্কুল, হাসপাতাল তো আগে থেকেই আক্রান্ত হয়েছে। সত্যিই মহাসংকট এ পড়েছে পৃথিবী।
সংকটকালে মানুষের বুদ্ধি নাশ হয়। আর যুদ্ধ হলো মহাসংকটের কাল।
Manuser subho budhhir udoy hok o bibek jagroto hok.
এমন প্রার্থনা ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই। মানুষের মান আর হুঁশ দুইই উধাও।