এই তো কদিন আগেই ৷ দুপুর থেকে গুমোট চলছিল ৷ গাছের পাতা নড়ছিল না ৷ স্কুলের বাচ্চাগুলো বড় বড় চোখে নিশ্চল পাতার দিকে তাকিয়ে চলছিল ৷ শ্রবণে অক্ষম বা sensory deprivation থাকা ছেলেমেয়ে তো সব ৷ প্রকৃতি সরব হয়ে অনেকসময়ই এদের ইন্দ্রিয়ের অক্ষমতা মিটিয়ে দেয় ৷ ফলে প্রকৃতি চুপচাপ হয়ে গেলেই দেখেছি –আমার বাচ্চাগুলো কেমন অনিশ্চিত মুখে বসে থাকে ৷ কেন গাছ ফুল আকাশ বাতাস এগিয়ে এসে তাদের সঙ্গে কথা কইছে না -এ নিয়ে একটা অভিযোগ খেলতে থাকে তাদের চোখে ৷
সেদিন অবশ্য খানিক পরে ঝুপঝাপ বৃষ্টি নামল ৷ স্কুল তখন শেষের মুখে ৷ মেঘ দেখবে বলে সবকটা আমার সঙ্গে দুমদাম পথে নামল ৷ এত কৃষ্ণ মেঘ যে ওই দুপুরেই পথের ধারের মুদিখানাগুলোতে হলুদ বাল্ব জ্বলে উঠেছে ৷ মেঘের ছায়া আর বাল্বের আলো মিলে ভিজে পথে অদ্ভুত এক আভা তৈরি করেছে ৷ ক্লাসের সবথেকে শান্ত ছেলেটি —যাকে কিনা speech এর ক্লাস করাতে আমাকে হিমশিম খেতে হয় –দেখি বারবার আমার হাত ধরে কী যেন দেখাবার চেষ্টা করছে ৷ মুখটি উজ্জ্বল –বোধহয় নিজে আগে দেখেছে বলে এবং নতুন কিছু দেখেছে ৷
ছেলেটির আঙুল অনুযায়ী ওপরে তাকিয়ে দেখি –গৃহস্থের বাড়ির দোতলার ছাদে একটিমাত্র টাটকা গোলাপ গাছ –তাতে একটা ফুল –আর আলসে বসে মন দিয়ে ফুলটা দেখে যাচ্ছে একটা baby চিল ৷ বৃষ্টির দানা তখন আরো বেড়েছে ৷ ওপরে তাকাতে গিয়ে চোখ ভারী হয়ে আসছে আমার ৷ দানাগুলো পণ করেছে ঝরে ঝরে চোখের পাতায় কবাট তুলে দেবে আমার ৷ নিজের দেখা ছাড়তে পারি তবু শান্ত ছেলের ওই চোখদুটিকে কি ছাড়তে পারি গো ! আবার তাকালাম ৷ বাচ্চা পাখিটা গোলাপ ছেড়ে উড়ে গেছে কখন ৷ গোলাপের পাপড়িগুলো কাঁপছে শীতে নাকি তাকে ছেড়ে পাখি চলে গেছে খাবারের খোঁজে –এই অপমানে ?
আবার শাড়িতে টান ৷ আমার ছাত্রের চোখ ব্যাথায় ভরেছে ৷ শিশু তো –বোঝে না জীবের খাদ্যের টান সুন্দরকে দেখার থেকেও বেশি ৷ বোঝালাম –পাখি আবার আসবে রে ৷ এবার একটা সুন্দর পাখি আসবে –যে পোকাভরা শব নয় -ফুলের গন্ধে ছুট্টে এসে মধু চোষে ৷ তার ঠোট মিষ্টি -জিভ মিষ্টি ৷
ছেলে এবার মন দিয়েছে রাস্তার সেই হলুদ আভায় ৷ উৎসের চেয়ে ঝর্ণাধারায় শিশুর অন্তর খেলে বেশি ৷ তা আলোই হোক -আর জীবনই হোক ৷ বলো না বাবা তোমরা !
সেদিন baby চিল হেরেছিল ৷
আমার টিফিন না আনা baby মেঘআলোতে সহিষ্ণু ছিল অনেকক্ষণ ৷
হ্যাঁ অনেকক্ষণ ৷
তার চোখে আমার সেই নতুন পাখি ৷
-চক্কাস ৷











