মানুষের বদ স্বভাব নাকি মরলেও যায় না। স্বভাবের কলঙ্ক নাকি দূরপনেয়। দেশের রাজধানী শহর দিল্লি ও তার প্রশাসন নিয়ে একটা জরুরি কথা বলার জন্যই শুরুর প্রবচনের কথা উল্লেখ করলাম। হাল আমলে দিল্লি নিয়ে এতো কথা বলা হয়েছে যে নতুন করে কিছু বলতে দ্বিধা হয়। দেশের রাজধানী আজ দুনিয়ার সবচেয়ে দূষিত মহানগরীতে পরিণত হয়েছে। এ নিশ্চয়ই আমাদের অস্মিতা বাড়ায় না, আমাদের মুখ লুকাতে বাধ্য করে। দিল্লির পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে আজ রীতিমতো ভয় হয় পাছে নতুন কোনো ফাঁক ফোকর সামনে বেরিয়ে আসে এবং সত্যিই তা বেরিয়ে এলো। শাক দিয়ে কি আর মাছ ঢাকা যায়! ধরা পড়তেই হয়।
ইদানিং দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে সবথেকে বেশি হৈচৈ হয়েছে। গোড়ায় বলা হচ্ছিল পার্শ্ববর্তী হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে ব্যাপক হারে ফসলের অবশিষ্টাংশ বা নাড়া পোড়ানোর কারণেই নাকি দিল্লির বাতাস দূষিত হয়েছে। সে দোষারোপ করার তত্ত্ব অবশ্য খারিজ হয়ে গেছে সাম্প্রতিক সমীক্ষায়। আসলে সর্ষের মধ্যেই যে ভূতের বাস, তার জ্বলন্ত প্রমাণ মিলল এক প্রতিবেদন থেকে।
অথচ এই বিষয়টি যে মোটেই আইনানুগ বা বিধিসম্মত নয় তা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখেনা। তবে এই মুহূর্তে জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে সেই সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অগ্নি দহনের পর্ব চলছে। একটু পিছিয়ে গেলে দেখবো ২০২৪ সালে দিল্লির দমকল বাহিনীর কর্মীরা ৪৯৩৩ টি এমন বেআইনি অগ্নিসংযোগের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আগুনে পুড়েছে বা জ্বলেছে নগরপালিকার নানান প্রান্ত থেকে সংগৃহীত আবর্জনা বা বর্জ্য পদার্থ। আধিকারিকরা জানিয়েছেন এই সংখ্যাটি বিগত ২০২৩ সালের তুলনায় (৩৫১১) অনেকটাই বেশি। এভাবেই আইনের তোয়াক্কা না করে, জনস্বাস্থ্যের ওপর তার তীব্র প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় না রেখেই চলছে ভয়ঙ্কর এক খেলা।
অবশ্য এই বিষয়টি কেবলমাত্র দিল্লিতেই ঘটে চলেছে তা মোটেই নয়। দেশের সর্বত্রই এমন দহন পর্ব চলছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে। এই ঘটনা ইঙ্গিত করে যে আমাদের দেশে এখনও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি। অথচ প্রতিদিন কঠিন বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে চলেছে একরকম লাফিয়ে লাফিয়ে। এমন অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো পরিকাঠামো গড়ে না তোলা হলে দিল্লির মতো অনাচার ঘটেই চলবে আর আমরা হাত পা গুটিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকায় অভিনয় করে যাব। ভাবতে হবে, আমরা সত্যিই কি এমন অবস্থা থেকে মুক্তি চাই?
তথ্যসূত্র –ডাউন টু আর্থ পত্রিকা।
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬












দিল্লির সবকিছুই কেমন যেন অদ্ভুত ঠেকে! সরকার, মন্ত্রী, প্রশাসন, জনগণ সবই। মুখ্যমন্ত্রী আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথা তো ছেড়েই দিলাম। সীমাহীন ঔদ্ধত্য সহকারে নিয়ম ভাঙ্গাটাই যেন নিয়ম! তবে দিল্লির ময়লা পোড়ানোর কথা বলতে গিয়ে নাড়া পোড়ানোর প্রভাবকে খাটো করলে চলবে না। যদি বা দিল্লিতে তার প্রভাব তেমন না’ও থাকে, স্থানীয় কুপ্রভাব তো আছে।