এই মুহূর্তে অভয়ার ন্যায়বিচারের আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ইতিমধ্যে আমরা জানি কলকাতা হাই কোর্টে অভয়ার খুন ধর্ষণ মামলার শুনানি শুরু হয়েছে, প্রথম শুনানিতে মাননীয় বিচারপতি সিবিআই এর কাছে তদন্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন, যা দীর্ঘদিন ধরে আপামর সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হিসেবে থেকেছে। পরবর্তী শুনানির দিন অর্থাৎ ২৮ তারিখ তিনি সিবিআই এর কাছে তদন্তের সম্পূর্ণ কেস ডায়রি তলব করেছেন।
সময়ের দাবি মেনে যখন ঐক্যবদ্ধ আইনি লড়াই ও রাস্তার লড়াইকে জোরদার করার প্রস্তুতি চলছে, ঠিক সেই সময়েই আন্দোলনকারীদের ব্যতিব্যস্ত করতে ও আন্দোলনকে অঙ্কুরে বিনাশ করতে পুলিশি হেনস্থা চরম আকার ধারণ করেছে।
সকলেই জানেন যে ডাঃ আসফাকুল্লা নাইয়ার গ্রামের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে বেআইনি ভাবে হেনস্থার পর তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং সেখানে বিচারপতি বিধাননগর পুলিশকে তাদের এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অতিসক্রিয়তার কারণে ভর্ৎসনা করেন। কোর্টের হস্তক্ষেপে এই অযথা হয়রানি বন্ধ হয়।
কিন্তু তার পর পরই নতুন একটা জিনিস শুরু হয়, জনৈক রাজু ঘোষ এর কোনো এক অভিযোগের ভিত্তি তে জিজ্ঞাসাবাদের নামে রাজ্যের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসক দের কখনও বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা, কখনও টালা থানায় ডেকে পাঠানো হতে থাকে।
গত দেড়মাস জুড়ে বিভিন্ন সময় আর জি কর , এস এস কে এম, কলকাতা মেডিকেল কলেজ, মেদিনীপুর মেডিকেল সহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত জুনিয়ার ডাক্তারদের কখনও এমনকি এক দিনের নোটিশে হাজিরা দিতে বলা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ জনই নিজেদের ডিউটি সামলে পুলিশের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে হাজিরা দিয়েছেন এক/ একাধিক বার কখনও সশরীরে কখনও বা ভিডিও কনফারেন্সে।
ডাঃ অনিকেত মাহাতো, ডাঃ অর্ণব মুখোপাধ্যায়, ডাঃ রাজদীপ শ, ডাঃ শুভদীপ সর্দার, ডাঃ স্পন্দন চৌধুরী, ডাঃ প্রিয়া লকরা, ডাঃ শিবম সহ বহুজন এর বাড়িতে একাধিক বার ( কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন/ চার বার) পুলিশ যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ডেকে পাঠানোর চিঠি নিয়ে।
এমনকি সপ্তাহ দুয়েক আগে ডাঃ দেবাশিস হালদারের গ্রামের বাড়িতে রাত দেড়টার সময় পুলিশ গিয়ে বাবা মার হাতে চিঠি ধরিয়ে আসে যে ওইদিন দুপুর দুটোয় ছেলে যাতে বিধাননগর থানায় গিয়ে দেখা করে। ডাঃ কিঞ্জল নন্দের বাড়িতে ভোর সাড়ে ছ টায় গিয়ে একই রকম ভাবে চিঠি দিয়ে আসা হয়।
এই বিষয় গুলো থেকে মোটামুটি পরিষ্কার যে হেনস্থা করা ও ভয় দেখানোর মানসিকতা নিয়েই পুলিশ মূলত কাজ করছে, নাহলে কেবল থানায় ডেকে পাঠানোর জন্য কারুর বাড়িতে এরকম সময়ে এতজন মিলে উপস্থিত হতে পারে না।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের ধরন ও ছিল বেশ আশ্চর্যজনক। ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এই জিজ্ঞাসাবাদ তা কখনোই জানানো হয় নি, কিন্তু যে ধরনের প্রশ্ন করা হয় তাতে মূলত বোঝা যায় যে আন্দোলনের জন্য যে ফান্ড উঠেছে ও ব্যবহার হয়েছে/ হচ্ছে তাকে ঘিরেই মূল প্রশ্ন।
কিভাবে টাকা উঠল, বিদেশী ফান্ড থেকে কত টাকা পেলেন, কেন টাকা তুলতে হল ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে, ন্যায়বিচার তো হয়েই গেছে এবার আপনারা এই ফান্ড নিয়ে কি করবেন? আন্দোলন তো শেষ – এই হচ্ছে মূল দিক জিজ্ঞাসাবাদের। আরো কিছু প্রশ্ন রীতিমতো অবাক করে আমাদের। বার বার জিজ্ঞাসা করা হয় খুন ধর্ষণের তদন্ত প্রক্রিয়ার ( ইনভেস্টিগেশন) জন্য আমরা কত টাকা খরচ করেছি? ( ঠিকই পড়ছেন) এর মানে টাই আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় নি,যেখানে দেশের সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা ও রাজ্যের পুলিশ তদন্ত করছে তাদের তদন্তকে প্রভাবিত করতে কি আমাদের এই ফান্ড খরচ করতে হতো? এটাই কি নিয়ম?
জিজ্ঞাসাবাদের আরেকটি মূল দিক যে আপনারা অভয়ার বিচারের দাবির আন্দোলনের জন্য ফান্ড তুললেন তারপর সেই টাকা দিয়ে স্টেজ বাঁধলেন কেন? মিছিল আয়োজনের ব্যবস্থা করলেন কেন? জল কিনলেন কেন? পোস্টার লিফলেট ফ্লেক্স ছাপালেন কেন? ডেকরেটার্স কে টাকা দিলেন কেন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে টাকা কেন দিলেন? ড্রোন ভাড়া করে ছবি কেন তুললেন? বন্যা দুর্গত দের ত্রাণ ও ‘অভয়া ক্লিনিক,: এ কেন এই ফান্ড ব্যবহৃত হল?
স্পষ্টই বলা হয় যে আমরা নিজেদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ভরানোর জন্য তো টাকা সংগ্রহ করিনি, ফলে আন্দোলনের বিভিন্ন কাজে এই ফান্ড ব্যবহৃত হবে এটাই স্বাভাবিক। জানিনা অন্যান্য সংগঠনের নেতাদের ক্ষেত্রে জনগণের টাকা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার বিষয়টিকেই তারা সাধারণ প্রতিপন্ন করতে চাইলেন কিনা?
আর বন্যাত্রাণ ও অভয়া ক্লিনিক সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট জানানো হয় যে আমরা তো ডাক্তার হিসেবে আমাদের কর্তব্য পালন করেছি মাত্র, আমাদের অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে আর্তদের সেবার কাজকেও আমাদের আন্দোলনের কথা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বলে এসেছি আমরা। জনগণের সেবায় তো আমাদের মতো পুলিশ প্রশাসনও অষ্টপ্রহর নিয়োজিত, তাহলে কি নেতা নেত্রীদের হুকুম তামিল করতে করতে তাদের মূলগত চরিত্রই পরিবর্তিত হয়েছে?
এই প্রশ্নগুলি অন্তত নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসনের বদলে দলদাস পদলেহনকারীর বক্তব্য হিসেবে কল্পনা করা অনেক বেশি সহজ। যাই হোক, এই সমস্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন বহুবার আমাদের তরফ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এই জিজ্ঞাসাবাদ চলছে? পুলিশের তরফে এ বিষয়ে কখনোই কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। তারপর আইনজীবী মারফত অভিযোগ পত্রের নাগাল পেলে আমরা দেখি, জনৈক রাজু ঘোষ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, তিনি অভয়ার ন্যায়বিচারের আন্দোলনের সমর্থনে গত ৫ই অক্টোবর ৫০০০ টাকা আমাদের অর্থাৎ WBJDF-এর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরে তিনি বুঝতে পারেন যে এই টাকা অভয়ার বিচারের দাবিতে নয় বরং নানারকম সমাজবিরোধী, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ইত্যাদি কার্যকলাপে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এরকম মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সমস্ত অভিযোগ দেখে আমরাও অবাক হয়ে যাই ও খুঁজতে শুরু করি কে এই রাজু ঘোষ? খুঁজে পেতে অবশ্য খুব বেগ পেতে হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তিনি বেশ পরিচিত মুখ, সমাজমাধ্যমে তার বক্তব্যগুলি স্পষ্টভাবেই জানান দেয় যে তিনি শাসক দলের একজন সক্রিয় সমর্থক এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সরকারপক্ষের দলের হয়ে তিনি নানান কথা বলেন। তার সমাজমাধ্যমে করা পোস্টগুলির টাইমলাইন দেখলেও খুব স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায় অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবির আন্দোলনের বিরুদ্ধে তিনি শুরু থেকেই বিষোদগার করে চলেছেন।
কিন্তু এই বিদ্বেষের প্রথম নিদর্শন আমরা দেখতে পাই ১লা অক্টোবর রাজু ঘোষ তার সংগঠন ‘হিউম্যান প্রোটেকশান অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস অর্গানাইজেশন’এর মারফত মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের প্রাতিষ্ঠানিক কর্তাব্যক্তিদের মেল করে আন্দোলনরত জুনিয়ার ডাক্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এরপর ৩রা অক্টোবর সেই একই অভিযোগকারী তার পূর্বোক্ত সংগঠনের মাধ্যমে আবার জুনিয়ার ডাক্তারদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেন ও মাননীয় হাইকোর্টের চৌহদ্দির মধ্যে থেকে তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে জনগণের মনে আন্দোলন সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বেশকিছু বিভ্রান্তিকর বিবৃতি সংবাদ মাধ্যমে পেশ করেন। তার উদাহরণ স্বরূপ এই ভিডিওটি রইলো, https://youtu.be/6oCDJnL-tIk?si=wYZwEmHAtpAFssTL.
কিন্তু ঠিক তার দুদিন পরে অর্থাৎ ৫ই অক্টোবর জনৈকা মুনমুন ঘোষের তরফ থেকে WBJDF-এর অ্যাকাউন্টে একটি আর্থিক লেনদেনের উল্লেখ পাওয়া যায়। কে এই মুনমুন ঘোষ? জুনিয়ার ডাক্তারদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা সেই অভিযোগকারী রাজু ঘোষের স্ত্রী তিনি (এবং স্বামীর সাথে ওই পূর্বোক্ত সংগঠনের জয়েন্ট ডিরেক্টর ও বটে)। রাজু ঘোষ তার অভিযোগপত্রে এই লেনদেনের কথা উল্লেখ করেই বলেছেন, এই ৫০০০ টাকা তিনি জুনিয়ার ডাক্তারদের আন্দোলনের সমর্থনে দিয়েছিলেন এবং দৃশ্যতই এই অভিসন্ধিমূলক মিথ্যে কথাটির উপর ভিত্তি করেই যাবতীয় তদন্ত চলছে।
এবার এই ঘটনা ও অভিযোগের উপর ভিত্তি করেই আরেকটু বিশদে জেনে নেওয়া যাক রাজু ঘোষের সম্পর্কে? রাজ্যের শাসক দলের একনিষ্ঠ সমর্থক এই রাজু ঘোষের নামে এর আগে একাধিক অর্থনৈতিক প্রমাণিত হয়েছে, ভারতের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষাকারী সংস্থা SEBI ৬.৫ কোটি টাকা আর্থিক দুর্নীতির দায়ে ২০১৯ এর ৯ই এপ্রিল থেকে চার বছরের জন্য সিকিউরিটিজ মার্কেটে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। ( ছবি ৩) সেটির লিঙ্ক দেওয়া রইল এখানে
https://www.sebi.gov.in/enforcement/orders/apr-2019/order-in-the-matter-of-g-r-agro-project-limited_42647.html
এরকম সন্দেহজনক একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের অতিসক্রিয়তা ও তদন্তের নামে একাধিক ব্যক্তিকে হেনস্থা করার পদক্ষেপও আজ আমাদের সামনে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
ইতিমধ্যে গতকাল আমরা জানতে পেরেছি যে, পুলিশ এই জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি রিপোর্ট বিধাননগর কোর্টে পেশ করেছে ও সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, আর্থিক প্রতারণা সহ বিভিন্ন ধারায় এফ আই আর করার অনুমতি চেয়েছে। ( যার শুনানির দিন ও ২৮ তারিখ, ঠিক যেদিন কলকাতা হাইকোর্টে অভয়ার খুন ধর্ষণ মামলার দ্বিতীয় শুনানি হতে চলেছে। )
সেই রিপোর্ট এর কিছু অংশ আমরা হাতে পেয়েছি। সেই রিপোর্ট পড়লে মনে হওয়া অস্বাভাবিক না যে ওই রিপোর্ট আসলে পুলিশ লেখে নি, শাসক দলের রাজনৈতিক কলাকুশলীরা ও শাসকদলের উচ্ছিষ্টভোগী ইয়েলো জার্নালিস্ট দের টিম মিলে বসে সেই রিপোর্ট বানিয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, নির্যাতিতার দুর্ভাগ্য ও সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে বহু টাকা তোলা হয়েছে এবং সেই টাকা তদন্ত (!) ও বিচার প্রক্রিয়ায় ব্যবহার না করে আন্দোলনের নানা কর্মসূচি তে ব্যবহার করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ আমাদের যে টাকা দিয়েছিলেন তা নাকি আমরা কেবল আইনি প্রক্রিয়ার জন্য খরচ করব বলেছিলাম কিন্তু এক টাকাও আইনি কাজে খরচ হয়নি ( যদিও এই তথ্য টিও সর্বৈব মিথ্যা, আর্থিক বর্ষের শেষে অডিট পেশ করা হলে সেখানেই তার প্রমাণ আছে, সকলে দেখতে পারবেন)
এছাড়া পুরো আন্দোলন চালানোর জন্য যে খরচ, তার মধ্যে স্টেজ বাঁধা থেকে গনকনভেনশন আয়োজন করা, মিছিল, সমাবেশ, অবস্থান বিক্ষোভ, জমায়েত আয়োজন করা সবটাই তারা রিপোর্টে Criminal conspiracy বা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এমনকি বলা হয়েছে সাধারণ মানুষ কে কর্মসূচির আপডেট দেওয়ার জন্যে যে মেসেজ বা রেকর্ডেড ভয়েস কল পাঠানো হয়েছে তার জন্য খরচ করাটাও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা।
অথচ, পুলিশ কে কিন্তু আমাদের জানানো হয় যে এই রাজু ঘোষ, (যিনি নিজেই নানা আর্থিক দুর্নীতি তে অতীতে দোষী প্রমাণিত) আসলে অভিসন্ধি মূলক ভাবে অভিযোগ করেছেন এবং এমনকি নিজে কোনো টাকা পাঠান ই নি, ফলত আগে তার অভিযোগের ভিত্তি সম্পর্কে তদন্ত করে আগে নিশ্চিত হোক পুলিশ। ( ছবি ৪) কিন্তু তার কোনো প্রতিফলন এই পুলিশি রিপোর্টে নেই, আমরা জানি না কেন।
এতটা বিষদে এটা সকলকে জানানোর কারণ হল আমরা খুব স্পষ্ট ভাষায় বলার প্রয়োজন মনে করছি যে, এই ভাবে পুলিশি হেনস্থা করে আন্দোলনের গতিরোধ করা যাবেনা, বরং যত এই ধরনের ঘটনা ঘটবে আমরা বুঝব যে আমরা ঠিক পথে আছি, লড়াই তে আছি। তাই মুখ বন্ধ করার অপচেষ্টা করে কোনো লাভ হবে না।
আমরা আইনি ভাবে এর বিরুদ্ধে তো লড়াই করবই, কিন্তু আমরা মনে করি আমাদের মূল জোর সাধারণ মানুষের সমর্থন ও আন্দোলনের সাথে ব্যাপক গণ সমাজের সম্পৃক্ততা। তাই, এই খবর দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুক। সিনিয়র চিকিৎসক দের প্রতিহিংসামূলক বদলি থেকে শুরু করে জুনিয়র চিকিৎসক দের পুলিশি হেনস্থা – প্রতিরোধ হোক প্রতিটি অন্যায় আক্রমণের। একটাই কথা বলার, অভয়ার ন্যায়বিচার এর লড়াইতে সর্বশক্তি দিয়ে থাকার অঙ্গীকার এত সহজে হামলা মামলা করে ভেঙে ফেলা যাবে না।










