পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিলকে স্বয়ংশাসিত ও স্বাধিকার সম্পন্ন স্বাধীন সংস্থায় পরিণত করতে হবেঃ হেলথ সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশনের দাবী
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য-শিক্ষা ব্যবস্থার গত কয়েক দশক ধরে চূড়ান্ত অনাচার ও দুর্নীতি রাজ্যের গণচিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসক তৈরীর বুনিয়াদি কাঠামোতে আঘাত হেনেছে। রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের চূড়ান্ত অব্যবস্থা, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি এবং স্বজন পোষণের পাশাপাশি যে দুটি তথাকথিত স্বয়ংশাসিত সাংবিধানিক সংস্থার অপপ্রয়োগ এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তা হল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালযয় এবং পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিল। এই দুটি সংস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক স্বয়ংশাসনের অনুপস্থিতি, এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি ছিল।। আরজি কর কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, হুমকি সংস্কৃতির যে ভয়াবহ চিত্র সর্বসমক্ষে উদঘাটিত হয়েছে, তার মূল বুনিয়াদ এই দুটি সংস্থার অনিয়ম ও অনাচার।
২০০২ সালে স্থাপিত পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনগতভাবেই কোন স্বশাসন ও স্বাধিকার নেই। জন্ম লগ্ন থেকেই এটি সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। জেনারেল কাউন্সিল, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল সহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি সংস্থায় সরাসরি কেবলমাত্র সরকার মনোনীত ব্যাক্তিরাই থেকেছে, আজও আছে। ফলতঃ এটি সরকারি শাসক দলের পরিচালনায়, তাদের অনুগমনে ও অনুমোদনে রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা নিয়ন্ত্রণের কাজটি করে। অতীতের ইতিহাস থেকে আমরা দেখেছি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারের প্রশ্নটি ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন, সেদিন বাংলা সারা দেশকে সঠিক পথ দেখিয়েছিল। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারের আমলে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার বিলোপের নানা রকম আইনি সংশোধনী আনা হয়, কিন্তু তৎসত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটের আপেক্ষিক এবং আংশিক স্বাধিকারের ক্ষমতা বলে সদ্য প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপিকা শান্তা দত্তর তৃণমূল কংগ্রেসের দূর্বীণীত ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে অনমনীয় লড়াই ও নৈতিক জয় আমরা দেখেছি।
১৯১৪ সালের বেঙ্গল মেডিকেল এক্ট মাফিক প্রতিষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিল আপাত অর্থে স্বয়ংশাসিত হলেও, ১৯৯৪ সালের মেডিকেল কাউন্সিলের চূড়ান্ত ভ্রান্ত নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে স্বাভাবিকভাবেই কোন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয় এবং অদ্যাবধি পশ্চিমবঙ্গ মেডিকেল কাউন্সিলে শাসকদলের অনুমোদিত প্যানেলের বাইরে কেউই নির্বাচিত হননি। ফলতঃ এটিও সরকারি শাসক দলের পরিচালনায়, তাদের অনুগমনে ও অনুমোদনে রাজ্যের চিকিৎসকদের পঞ্জিকরন ও মাণ নিয়ন্ত্রণের কাজটি করে থাকে। এছাড়াও, প্রাচীন এই আইন কালের নিয়মে অচল হয়ে গেছে। মেডিকেল কলেজগুলির সংখ্যা বেড়েছে বহু গুণ, পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বাস্থ্য-শিক্ষা বিভাগগুলি বিলোপ হয়েছে, স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হয়েছে ইত্যাদি; এসব কিছুর কোন সংস্থান এই আইনে নেই। এর ফলে কাউন্সিলের সর্ব প্রকার কার্যকলাপই অসিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই এই আইনের সংশোধন অনতিবিলম্বে প্রয়োজন।
আমরা চাই,
১) পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পরিবর্তন করে, তাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বুনিয়াদি স্বাধিকারের বিষয়টির বাধ্যতামূলক আইনি ধারার Statutory provision অঙ্গীভূত করা হোক।
২) পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের আইনের আমূল সংশোধন করে তাকে যুগোপযোগী ও প্রাসঙ্গিক করতে হবে, এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বশাসন ও স্বাধিকারের সংস্থানটি কঠোর নিয়মানুবর্তিতায় প্রয়োগ করতে হবে। ১৯৯৪ সালের ভ্রান্ত নির্বাচনী বিধি সংশোধন করে, সঠিক বিধি প্রণয়ন করতে হবে, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু কাউন্সিল নির্বাচন সম্ভব হতে পারে।
হেলথ সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন, পশ্চিমবঙ্গ
২৫ ডিক্সন লেন কলিকাতা ১৪
১০ মে, ২০২৬











