Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

আঁধারের শেষ যেখানে (চা বাগান পর্ব, কার্শিয়ং)

martyrs
Gopa Mukherjee

Gopa Mukherjee

Teacher of History, Social activist
My Other Posts
  • June 19, 2026
  • 8:14 am
  • 2 Comments

মাথাভাঙ্গার মাসিক স্বাস্থ্য শিবির শেষ করে শ্রমজীবীর টিম রওয়ানা হল মাথাভাঙ্গা স্টেশনের দিকে। আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে’ রাঙা হয়ে উঠেছে পশ্চিমাকাশ। রাস্তার দু ধারে ঘন সবুজের আস্তরণে অস্তরাগের রক্তিমাভা- লাল সবুজের আলিঙ্গন। ‘ছত্তিশগড় মুক্তি মোর্চার পতাকার রঙ লাল সবুজ।  রঙিন প্রকৃতি যেন বিদায় সম্ভাষণ জানায় ছত্তিশগড়ের আদর্শে গড়ে ওঠা শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের প্রতিনিধিদের। শ্রমিক কৃষক মৈত্রীর পতাকাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ।

শিলিগুড়িতে রাত কাটিয়ে পরের দিন ভোরে কার্শিয়ং এর উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লাম। মার্গারেটস হোপ  আর রিংটং চা বাগানের মাঝে ফোরপোলে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের স্বাস্থ্য ক্লিনিক। শেয়ারের গাড়িতে গোরাবাড়ি। গোরাবাড়িতে গাড়ি নিয়ে হাজির ছিলেন সংগ্রামের সাথি শৈলেশ ছেত্রী। সরু পাহাড়ি পথে গাড়ি চলেছে মেঘ পিওনের দেশে। “মেঘ পিওনের ব্যাগে এবার মন খারাপের দিস্তা/সেই মন খারাপের স্রোতের টানে চলছে বয়ে তিস্তা”

মেঘপাহাড়ের টানে বারো মাস পর্যটকের আগমন। চা রপ্তানি আর পর্যটনে সরকারের বিপুল আয়। বিদেশি মুদ্রার হাতছানি। কিন্তু এই স্বপ্নলোকের মানুষরা কেউ ভাল নেই। উদয়াস্ত কঠিন পরিশ্রম করে যারা সরকারি ভাণ্ডার ভরছেন বিদেশি টাকায়, তাঁদের  সামান্য হকের টাকা আদায় করতে অনশনে বসতে হয়, কখনো প্রাণ দিতে হয় পুলিশের গুলিতে। একদিকে প্রকৃতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম, চড়া দামে অত্যাবশ্যক পণ্য কিনে দৈনন্দিন জীবনধারণের সংগ্রাম, অন্য দিকে মালিকের সঙ্গে গ্রাসাচ্ছাদনের সম্বল আদায়ের লড়াই। চা বাগানের শ্রমিকদের শুধু কাজ নয়, সমগ্র জীবনযাপনের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে মালিকের। কারণ শ্রমিকের বাসস্থান, স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মস্থান- সব কিছু মালিকরাই তৈরি করে দেয়।

“In the plantation, to a greater extent than in the factory, the management exercise direct control over the labourers not only at work but also outside work…this created condition for the paternalism characteristic of the plantation system…As such, it was far more oppressive in nature than the paternalism characteristic of the traditional village community” (Andre Beteille, Forward to the book ‘Class Formation in the Plantation System’ by Sarit Bhowmik)

২০১৬ র শেষের দিকে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে তিনধারিয়া, মার্গারেটস হোপ   আর রিংটং চা বাগানে সবার জন্য স্বাস্থ্য আন্দোলনের প্রচারে আসে। চা বাগানের হাসপাতালে পরিষেবার মান খারাপ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। ক্লিনিক তৈরির পরিকল্পনা তখন থেকেই, কিন্তু বাস্তবায়িত করা যায়নি নানা কারণে। বিগত কয়েক বছর ধরে লালিগুরাস পত্রিকাগোষ্ঠীর কিছু সংগঠক পাহাড় এবং ডুয়ার্সের চা বাগানে কাজ করছেন। ২০১৭ সাল থেকে ডক্টর রাহুলদেব বর্মন এই চা বাগানে হেলথ ক্যাম্প শুরু করেন। লালিগুরাস (রডোডেনড্রন এর নেপালি নাম) পত্রিকা, হিল প্ল্যান্টেশন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (HPEU) এবং শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের সহায়তায় চলত এই ক্যাম্প। বছরে একবার দুবারের বেশি ক্যাম্প করা সম্ভব হত না। নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করা যায়নি। ২০২৫ এর ৬ জুলাই থেকে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ ফোরপোলে মার্গারেটস হোপ আর রিংটং চা বাগানে মাসে দুবার ক্লিনিক চালু করে। প্রথম দিকে ডক্টর রাহুলদেব বর্মন একাই ক্লিনিক চালাতেন।  ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে ডক্টর পুণ্যব্রত গুণ ফোরপোলের ক্লিনিকে যেতে শুরু করেন। মার্গারেটস হোপ আর রিংটং চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য নিয়মিতভাবে মাসে দুবার করে হেলথ ক্লিনিক হয়। শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের স্বাস্থ্যকর্মী কপিলদেব বর্মন ক্লিনিকে সহায়তা করেন। ডক্টর গুণ প্রতি মাসে ক্লিনিক শেষ করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য নিয়মিত ক্লাস নেওয়া শুরু করেছেন। আশা করা যায় আর কয়েক মাসের মধ্যেই শ্রমজীবীর অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির মতই ফোরপোলের কেন্দ্রেও দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীবাহিনী তৈরি হয়ে যাবে।সকাল থেকে বৃষ্টির ঘনঘটায় ১৪ জুন, সকালের দিকে রোগীর সংখ্যা কম। ডক্টর রাহুলদেব বর্মনকে পথপ্রদর্শক করে পাহাড়ি পথে পদব্রজে রওয়ানা হলাম শহীদবেদীর উদ্দেশে। চা বাগানের সবুজ সমারোহে লুকিয়ে আছে নিদারুণ যন্ত্রণা শোষণ নির্যাতন আর হত্যার ইতিহাস।

সাইরেন বাজার আগে পোঁছাতে না পারা, বাগান থেকে তুলে আনা পাতার ওজন দেখতে চাওয়া বা অন্যান্য নানা অজুহাতে শ্রমিকরা দৈহিক নির্যাতনের শিকার হতেন।

ভারতের রাজনৈতিক স্বাধীনতা চা বাগানের শ্রমিকদের কাছে কোন নতুন মুক্তির আশ্বাস নিয়ে আসেনি। রাষ্ট্রের মিত্রস্থানীয় দেশি মালিকরা বিদেশি মালিকদের মতই শোষণ চালাত। দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় এক দশক পরও চা শ্রমিকরা ঔপনিবেশিক নিয়মের অধীনেই ছিল।

১৯৫২/৫৩ সালে কুখ্যাত ‘হাত্তাবাহার’ প্রথা বাতিল (সামান্য ভুলের জন্যও ম্যানেজমেন্ট চাইলে কোনো  শ্রমিককে ছাঁটাই করতে পারত এবং সেই চাকরিহারা ব্যক্তি পাহাড়ে বা ডুয়ার্সে আর কোনো বাগানে কাজ পেত না) এবং আরো কিছু দাবি নিয়ে বন্ধ চা বাগানের তিরিশ হাজারের বেশি শ্রমিক শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলেন। বিরপাড়া চা বাগানে গুলি চলে, যদিও কেউ হতাহত হয়নি। আন্দোলনের চাপে বোনাস, মাতৃত্ব কালীন ছুটি ইত্যাদি বেশ কিছু দাবি মানতে বাধ্য হয় মালিক পক্ষ। কিন্তু এই দাবি আদায় স্থায়ী হয় না। শ্রমিক আন্দোলন স্তিমিত হলেই মালিক পক্ষ বঞ্চনা আর নির্যাতনের পাল্লা ভারি করতে থাকে।

৭১ বছর আগে ১৯৫৫ সালে মার্গারেটস হোপ বাগানে এক ঐতিহাসিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ছয়জন শ্রমিক মারা যান। জিতমান তামাং, কালে লিম্বু, ইচ্ছা সানোয়ার,অমৃত কামিনি, মৌলীশোভা রাইনি এবং পদমলাল কামি পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। ১৪ বছরের কালে লিম্বু গাছের মাথায় চড়ে মিছিল দেখছিল। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হয়। মৌলিসোভা রাই গর্ভবতী ছিলেন। স্বাধীন ভারতে চা বাগানে পুলিশি গুলিচালনার প্রথম শহিদ এই ছয় জন শ্রমিক। প্রায় ২৪০ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। নেপালি কবি আগম সিং গিরিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

এই আন্দোলনে এক বাঙালি ডাক্তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এই আন্দোলন শুধু বাগানের শ্রমিক অধিকারের ইতিহাসই নয়, পশ্চিমবঙ্গের কমিউনিস্ট আন্দোলনের গতিপথেও এক নাটকীয় পরিবর্তন আনে। ডা. অবনী রঞ্জন তলাপাত্র ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ নামে বেশি পরিচিত ছিলেন।

শ্রমিকদের জুতো, হাতঘড়ি, ফুলপ্যান্ট, ছাতা ব্যবহার করতে দেওয়া হতো না। এগুলো ছিল কেবল অফিসারদের জন্য। বৃষ্টির দিনে শ্রমিকরা বাঁশের ডগায় পাতা লাগানো হস্তনির্মিত ছাতা ব্যবহার করত, যাকে বলা হত ‘ঘুম’। আধপ্যান্ট পরে গুল্মের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে তাদের চামড়ায় ঘা হয়ে যেত। ডা. তলাপাত্র আইডিন মিশ্রিত জল রাখার একটি ট্যাংক তৈরি করেছিলেন যাতে শ্রমিকরা কাজ শেষে পা ধুতে পারত এবং সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পারত। সন্ধ্যায় তিনি শ্রমিকদের ঝুপড়ি-ঘরে গিয়ে চিকিৎসা করতেন – এতে ম্যানেজমেন্ট সন্দেহ করত না। তবে তিনি শুধু চিকিৎসা করতেন না, শ্রমিকদের মধ্যে অধিকার সচেতনতা  জাগানোর চেষ্টা করতেন। এতে ধীরে ধীরে শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয় এবং বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ১৯৫৫ সালে এআইজিএল-এর শ্রমিক সংগঠন ও সিপিআই এর মজদুর ইউনিয়ন ৮ই মে ১৪ দফা দাবি সম্বলিত একটি চার্টার প্ল্যান্টার ও সরকারের কাছে জমা দেয়। গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলির মধ্যে ছিল –

  • হাত্তাবাহার প্রথা তুলে দেওয়া
  • শ্রমিকদের ৩ মাসের মজুরি ও বোনাস দেওয়া
  • দার্জিলিং চা শ্রমিকদের মজুরি ডুয়ার্স শ্রমিকদের সমান করা (১ টাকা ১১ আনা)
  • অফিস স্টাফের সংখ্যা বাড়ানো
  • মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা করা
  • ১৯৫২-৫৩ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাগানের শ্রমিকদের জন্য অনুদানের ব্যবস্থা করা

এই দাবিগুলো আগে থেকেই ১৯৪৬ সালে সি পি আই প্রার্থী রতনলাল ব্রাহ্মণের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল। রতনলাল ব্রাহ্মণ, ডা. তলাপাত্র ও নদিয়ার আরেক কমিউনিস্ট নেতা সুশীল চ্যাটার্জি আন্দোলন গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এরপর স্থানীয় সংগঠকেরা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন – হরিলাল সারদার, সমানে সারদার, রামজিত রাই, শৈলা তামাং প্রমুখ।

একসময় সিপিআই ও গোরখা লীগের নেতৃত্বে ধর্মঘট ডাকা হয়। কিন্তু সরকার ইউনিয়ন নেতাদের গ্রেপ্তার করা শুরু করে। ২৫শে জুন ১৯৫৫ সালে শ্রমিকরা মার্গারেটস হোপে জড়ো হয়। খবর আসে যে নিকটবর্তী বেল্টার বাগানে পুলিশ শ্রমিকদের জোর করে কাজে পাঠাচ্ছে। শ্রমিকরা বেল্টারের দিকে মিছিল শুরু করে। সেই সময় ম্যানেজারের নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায়। ছয়জন শ্রমিক শহীদ হন।

এই নৃশংসতার ফলে পাহাড়-ডুয়ার্সের শ্রমিকরা ও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। প্রবল জনমতের চাপে সরকার ২৭শে জুন সমস্ত দাবি মেনে নেয় – বোনাস এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান ও হাত্তাবাহার প্রথা বাতিল।

১৯৫৫ সালের আন্দোলন চা শ্রমিকদের জীবনে ও অধিকারের ইতিহাসে এক জলবিভাজিকা।  শ্রমিকদের যৌথ শক্তি জয়লাভ করেছিল এবং আজও এটি ভারতের সংগ্রামী মানুষদের অনুপ্রেরণা যোগায়।

শত সহস্র শ্রমিকের রক্তে ঘামে অর্জিত অধিকার বার বার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে মালিকের খেয়াল খুশিতে। এত লড়াই এর পর শ্রমিকের হাজিরা বেতন মাত্র ২৫০ টাকা। যারা একসময় আন্দোলন সংগঠিত করেছিল তারা ক্ষমতায় গিয়ে শিবির বদল করে ফেলল। শ্রমিকের বদলে মালিকের বন্ধু হয়ে উঠল সরকার। চা বাগান যে তিমিরে সে তিমিরেই।

তাই ২০২৬ সালেও লং ভিউ চা বাগানের শ্রমিকদের অনশনে বসতে হয় ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য। বছরের পর বছর ধরে শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং গ্র্যাচুইটি বাবদ বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে পাওনা মেটাতে অস্বীকার করছে মালিক পক্ষ।২১ শে এপ্রিল থেকে রিলে অনশন চলছে লং ভিউ চা বাগানে। ১১ জুন থেকে ৭২ ঘণ্টার রিলে অনশন চলছে। প্রথম পর্যায়ে অনশনে বসেন  চা বাগানের তিনজন মহিলা শ্রমিক- বিন্দিয়া থাপা, কবিতা পাখরিন ও ছুনু বল এবং HPEU এর দুজন সংগঠক সুমেন্দ্র তামাং আর সুমিত দেওয়ান।শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের টিম ফোরপোলের ক্লিনিক সেরে শিলিগুড়ি যাবার পথে লং ভিউ চা বাগানে অনশনকারী এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করে। ডক্টর পুণ্যব্রত গুণ অনশনকারী দের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। ডক্টর রাহুলদেব বর্মন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে আছেন।

১৬ জুন ৭২ ঘণ্টা রিলে অনশনের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে ১৬ তারিখ  সকাল ১১ টা থেকে অনশনে বসেছেন HPEU এর সেন্ট্রাল কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি চিউয়াং  ইয়নজোন, কোষাধ্যক্ষ এবং উকিল অনুপা তামাং এর সঙ্গে তিন জন শ্রমিক- লং ভিউ ইউনিট সেক্রেটারি তনুজা লামা, লাবিন বিশ্বকর্মা এবং দেবিকা ইয়নজোন। এখনো পর্যন্ত মালিক গোবিন্দ গর্গ এবং সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার কোন প্রস্তাব আসেনি। কোন সংবাদ মাধ্যম বা মিডিয়া চ্যানেলে এই খবর আসেনি। প্রচার মাধ্যম এখন সরকারের নির্দেশে অনুপ্রবেশ, অবৈধ নির্মাণ আর হকার উচ্ছেদ নিয়ে চিন্তিত, পুশ ব্যাক আর বুলডোজারের মাহাত্ম্যে মুগ্ধ!

প্রচারের আলো থেকে বহু দূরে থেকেও চা বাগানের লড়াই চলছে। মুক্তির জন্য অবিরাম সংগ্রাম চলবে। ঠিক যেমন চলবে সকলের জন্য স্বাস্থ্য আর শোষণমুক্ত সমাজের দাবিতে  শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগের সংগ্রাম –

“জীবনের জন্য ভালোবাসার জন্য

আমাদের এ গান গাওয়া

সূর্যমুখী মানুষ সূর্য সন্ধানে সূর্য অভিযানে যাওয়া”


কৃতজ্ঞতা

ডক্টর পুণ্যব্রত গুণ, ডক্টর রাহুলদেব বর্মন, অমল রায়, অজিত বন্ধু ধর, বাচ্চু পাণ্ডে, সঞ্জয় চক্রবর্তী, গৌতম গুহ রায়, কমল কৃষ্ণ ব্যানার্জি, বরুণ সাহা, তন্ময় চক্রবর্তী, কপিলদেব বর্মন, অধ্যাপক কাঞ্চন সরকার, রূপম দেব এবং সালিম সুব্বা।

PrevPreviousভোটুরে রাজনীতির সার্কাস বেশ জমে উঠেছে!
Nextঅ-দেশ মানুষNext
5 2 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Kanchan Sarker
Kanchan Sarker
1 month ago

Excellent. আন্দোলনের কথা এতো সুন্দর ভাবে খুব কম জন লিখতে পারে । তোমার লেখায় ইতিহাস প্রাণ পায়। আরও লেখো ।

0
Reply
Amit Bhattacharyya
Amit Bhattacharyya
1 month ago

বহুদিনের বন্ধু ও ছাত্রী গোপার লেখা পড়লাম। উত্তর বাংলার মাথাভাঙগা অঞ্চলের মাসিক স্বাস্থ্য শিবির এর এই তথ্য সমৃদ্ধ বিশ্লেষণাতমক লেখা পড়ে সেখানকার শ্রমজীবী মানুষদের প্রতিদিনের জীবন ধারণের সংগ্রাম ও জনহিতকর বিভিন্ন কাজ ও সংগ্রামের পরিচয় পেলাম।
প্রশংসনীয় নিবন্ধ। এই ধরণের নিবন্ধ যত বেশি সংখ্যায় প্রকাশিত হয় তত ভাল। শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদোগ, Dr. Punnabrata Goon, গোপা ও সহযোগী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

0
Reply

সম্পর্কিত পোস্ট

বিচার না হওয়া পর্যন্ত পথ চলা থামবে না।

August 5, 2026 No Comments

সরকারি হাসপাতাল তথা শিক্ষাপ্রাঙ্গণের বুকে সংঘটিত ৯ আগস্টের সেই নৃশংস অপরাধ আজও বিচারহীন। সময় পেরিয়েছে, ক্যালেন্ডারের পাতা বদলেছে, কিন্তু ন্যায়বিচারের পথ আজও অধরা। তদন্তভার গ্রহণের

“গল্প কিন্তু গল্প নয়”

August 5, 2026 No Comments

উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন বাড়ি তৈরি হওয়ায় খুশি হয়ে সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মী হেলথ এসিস্ট্যান্ট দিদি আমাকে মেসেজ করে জানাচ্ছেন, “খুব খুশি। এত বছর কাজ করার পর

৯ আগস্ট ২০২৬-এর প্রাককালে জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস, ওয়েস্ট বেঙ্গল-এর আহ্বান

August 5, 2026 No Comments

আবার একটা ৯ আগস্ট। দু বছর আগে অভয়া খুন হয়েছিল তার নিজের কাজের জায়গায়, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তারপর সারা কলকাতা, সারা বাংলা,

Bacteria Sacrifice Themselves for Each Other?

August 4, 2026 No Comments

কে গুণ্ডা? কাকে দমন করতে চায় রাজ্য?

August 4, 2026 No Comments

রাজ্যে নতুন সরকার গড়তে না গড়তেই নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে এক নতুন ভয়ঙ্কর গুণ্ডা দমন আইন এনেছে বিজেপি সরকার। আপাতত সেটি আদালতের বিচারাধীন। আইনটির

সাম্প্রতিক পোস্ট

বিচার না হওয়া পর্যন্ত পথ চলা থামবে না।

West Bengal Junior Doctors Front August 5, 2026

“গল্প কিন্তু গল্প নয়”

Dr. Samudra Sengupta August 5, 2026

৯ আগস্ট ২০২৬-এর প্রাককালে জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টরস, ওয়েস্ট বেঙ্গল-এর আহ্বান

The Joint Platform of Doctors West Bengal August 5, 2026

Bacteria Sacrifice Themselves for Each Other?

Satya Sagar August 4, 2026

কে গুণ্ডা? কাকে দমন করতে চায় রাজ্য?

Parichay Gupta August 4, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

658273
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]