ছোট স্কুল পড়ুয়া ক্যানিংয়ের মেয়েটি পঁচিশে বৈশাখে রবীন্দ্রনাথের ছবির সামনে ফুল দিয়ে রবীন্দ্রনৃত্য করত। লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে। থিয়েটারের দলে হৈ হৈ করে রিহার্সাল দিত। কলকাতায় এসে বড় মঞ্চে অভিনয় করে হাততালি ও পেয়েছে।
তারপর একদিন ভোরবেলা নিজের ঘরের বিছানায় তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া গেলো। ছোটো দুই ভাইবোন থাকতো ঘরে। ভাই গিয়েছিল নাইটের একটা কাজ পেয়ে রোজগার করতে। বোন ঘরে একা। ফুলের মত কিশোরীর গলায়, মুখে, শরীরে যে সব নির্যাতনের দাগ ছবিতে ধরা পড়েছে,পুলিশ বলল ওগুলো গলার হারের দাগ, পিঁপড়ে কামড়ানোর দাগ,এরকম সব আশ্চর্য কথা। এমনকি পুলিশ সুপারও বললেন একই কথা। যা স্পষ্ট সবাই দেখতে পায়, প্রশাসনের ইচ্ছায় অন্ধচোখে সবই অদৃশ্য হয়ে যায়।
আমরা হাল ছাড়িনি। মামলা করা হয়। আইনজীবী শামীমের নেতৃত্বে, রেশমা, নাসিম এজাজ, গুলশান আরো বহু আইনজীবীরা পাশে দাঁড়ান এই বিচার আদায়ের লড়াইতে। বিচারে রায় হয় তদন্ত নতুন করে করতে হবে। অনেক গোলমাল আছে। মেয়ের দাহ হওয়া পর্যন্ত দাদা, মাকে কেন থানায় আটকে রাখা হয়েছিল সে প্রশ্ন উঠেছে আদালতে। পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে অসঙ্গতির আশঙ্কা থেকে ডক্টর অজয় কুমার গুপ্তকে কোর্ট দায়িত্ব দিয়েছে পুনর্বার পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট পর্যবেক্ষণের ।
সত্যের খোঁজ এবং নৃশংস হত্যাকারীদের শাস্তি সুনিশ্চিত করতে অভয়া মঞ্চ রাস্তায় এবং আদালতে শেষতক লড়াই করবে। আদালত ডক্টর অজয় গুপ্তর পারিশ্রমিক ৫০০০০ টাকা ধার্য করেছেন, যার মধ্যে অর্ধেক দেবে স্টেট আর অর্ধেক দেবে মামলাকারী অর্থাৎ নির্যাতিতার পরিবার।
ওই ছোট স্কুল পড়ুয়া আমাদের মেয়ের, আমরাই পরিবার। তাই এই অর্থ আমরাই দেবো। হয়তো হারিয়ে যাওয়া মেয়ের কাছে এ আমাদের,এই সমাজের প্রায়শ্চিত্ত। একসাথে সকলে মিলে এই অর্থ সংগ্রহ করতে পারবো না? নিশ্চিত পারবো। ধর্ষক হত্যাকারী রা ঘুরে বেড়াচ্ছে।প্রশাসন তাদের মদত দিচ্ছে। এ চলতে পারে না কিছুতেই। মনে রাখবো আমরা “You can commit injustice, by doing nothing”.
আইনী লড়াইয়ে সহায়তা করতে চাইলে দান করুন অভয়া মঞ্চের একাউন্টে।











