Skip to content
Facebook Twitter Google-plus Youtube Microphone
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Menu
  • Home
  • About Us
  • Contact Us
Swasthyer Britte Archive
Search
Generic filters
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Menu
  • আরোগ্যের সন্ধানে
  • ডক্টর অন কল
  • ছবিতে চিকিৎসা
  • মা ও শিশু
  • মন নিয়ে
  • ডক্টরস’ ডায়ালগ
  • ঘরোয়া চিকিৎসা
  • শরীর যখন সম্পদ
  • ডক্টর’স ডায়েরি
  • স্বাস্থ্য আন্দোলন
  • সরকারি কড়চা
  • বাংলার মুখ
  • বহির্বিশ্ব
  • তাহাদের কথা
  • অন্ধকারের উৎস হতে
  • সম্পাদকীয়
  • ইতিহাসের সরণি
Search
Generic filters

২২শে শ্রাবণ

FB_IMG_1786239235591
Dr. Sukanya Bandopadhyay

Dr. Sukanya Bandopadhyay

Medical Officer, Immuno-Hematology and Blood Bank, MCH
My Other Posts
  • August 20, 2026
  • 6:42 am
  • No Comments

এক

খিদিরপুরের ট্রামলাইন। প্রথম হেমন্তের ঝোড়ো বিকেল। পাতাঝরার বেলা এখন। প্যান্টের দু’পকেটে দু’হাত ঢুকিয়ে ছেলেটা হাঁটছে — এলোমেলো, উদ্দেশ্যহীন। পাশে ফোর্ট উইলিয়ামের সামনের রাস্তা দিয়ে হুশহুশ করে বেরিয়ে যাচ্ছে ভারী মিলিটারি ট্রাক, দীঘা আর মেদিনীপুরের বাস। কানে কানে ফিসফিস করে যাচ্ছে ফেরারি হাওয়া। কি বলে যাচ্ছে? ছেলেটা বুঝছে না। বুঝতে চেষ্টাও করছে না।

ওর সিগারেটে কালচে হয়ে যাওয়া ঠোঁট কাঁপছে তিরতিরে অভিমানে। মোটা চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়ে আসছে অসময়ের কান্নায়। গলার কাছে দলা পাকানো ব্যথা। ঠিক যেরকম ব্যথা করেছিল গুরুদত্তের ‘কাগজ কে ফুল’ দেখতে গিয়ে। তবে তার সঙ্গে ছিল অদ্ভুত একটা ভাল লাগা-ও। সেটা এখন নেই।

কানদুটো গরম হয়ে গেছে। লজ্জায়, অপমানে না রাগে? নাকি সব মিলিয়ে মিশিয়ে? বুঝতে পারে না ছেলেটা। ঘাসের মতো নরম দাড়ির মধ্যে আঙুল চালায় আনমনে।

বুকের ভেতর কালবৈশাখীর দাপাদাপির মতো গুমগুম করে ওঠে মণিকাকিমার বলা শেষ কথাগুলো — “শোনো বাবা, তুমি আর কখনো এসো না আমাদের বাড়িতে। মেয়ের সঙ্গে তুমি কোনও রকম সম্পর্ক রাখো, তা আমি বা ওর বাবা কেউ চাই না। কথায় বলে, তেলে জলে মিশ খায় না। তোমরা হলে বামুন, তায় নিকষ্যি বড়মানুষ। আমরা কলোনির লোক, সরকারের দয়ায় আছি জবরদখল জমিতে। কিসে আর কিসে?”

ছেলেটা আড়চোখে তাকিয়ে দেখেছিল, ভিতরের ঘরের ছিটের পর্দার নিচে আঙুল গুটিয়ে রাখা ভীরু একজোড়া পায়ের পাতা – গোল গোল নখে লালচে আভা, মাঝের আঙুলে তারই শখ করে কিনে দেওয়া রুপোর আঙট।

কি ভেবেছিল ছেলেটা? প্রতিবাদ আসবে ভিতরের ঘর থেকে? ছোট্ট একটা চড়াই পাখির তিরতিরে বুকের চেয়েও নরম যার মন, এক্কেবারে পাশে বসে বলা যার অস্ফুট কথাগুলোও কষ্ট করে শুনতে হয় তাকে – সে রুখে দাঁড়াবে মায়ের বিরুদ্ধে? বাবার বিরুদ্ধে? সিনেমা? না বাস্তব?

একটা গম্ভীর শাঁখের মতো জাহাজি ভোঁ-য়ের সঙ্গেই কমলা রঙা সূর্যটা টুপ করে ডুবে যায় কলকারখানার চিমনিওয়ালা ধূসর আকাশের ক্যানভাসে। সাক্ষী থাকে রক্তিম নদীর জল।

স্মৃতিরা হেলাফেলা করে ধুলোবালি মাখে ছেলেটার মনের আঙিনায়।
চাঁদপাল ঘাট। স্টিমার। বটানিকসে পিকনিক। ক্লাস কেটে ‘ব্লু লেগুন’— লাইটহাউসে। ফেরার সময় আমিনিয়ায় বিরিয়ানি। একটা নিয়ে দু’প্লেটে ভাগ। কলেজ ক্যান্টিনে টেবিল বাজিয়ে হেমন্ত-সন্ধ্যার ডুয়েট। বন্ধুদের হট্টগোলের মাঝে চুপিসারে চোখের ইশারা। ঠিক বুঝে যাওয়া যে আজ সন্ধেবেলা সাদার্ন এভিনিউ, লেকের পাশে দেখা হবে।

‘অতদূরে? বাড়িতে কি বলব?’ — ভিতু দ্বিধার উত্তরে বেপরোয়া জবাব –
‘জিওগ্রাফির নতুন স্যারের ট্যুইশন রয়েছে বলবে। ফেরার সময় আমি পৌঁছে দেব তো – ভয়ের কি আছে?’

আর সহ্য করতে পারে না ছেলেটা। ভূতগ্রস্তের মতো রাস্তা পেরিয়ে বাসে ওঠে। বাসটা নৈর্ব্যক্তিক অবহেলায় সারা শহর মাড়িয়ে তাকে যেখানে নামিয়ে দেয়, খানিক পরে ছেলেটা ঠাহর করে দেখে সেটা তার কলেজ।

সে পায়ে পায়ে এগোয় মেয়েদের হোস্টেলের দিকে। এখানে ইচ্ছেমতী থাকে। ইচ্ছেমতী সব পারে – সঅব। পারবে না তার ভালবাসাকে, তার জীবনকে তার কাছে ফিরিয়ে দিতে?

মেয়েদের হোস্টেলের রংচটা নোনাধরা দেওয়ালের ওয়েটিং রুম। আদ্যিকালের বেঞ্চিতে বসে দুহাতের মধ্যে মুখ ঢেকে হাউহাউ করে কেঁদে চলেছে ছেলেটা। আর তার পাশেই পাথরের মতো মুখে বসে আছে ছেলেটার ইচ্ছেমতী। তার ছোট্টবেলার খেলার সাথী।

‘ভুলে যা রে তুই! জানি, খুউব কষ্ট – তবু ভুলে যেতে চেষ্টা কর! যা হওয়ার নয় -‘

চোখের জলের পর্দার ওপার থেকে বিদ্রোহ ঝলকে ওঠে ছেলেটার গলায় – ‘কি করে জানলি হওয়ার নয়? হিংসুটি পাজি অসভ্য মেয়ে! তুই মণিকাকিমাকে বলে দেখতেও তো পারতিস! কিন্তু বলবি না। ঠিকই তো, কেন বলবি আমার জন্যে?’

ইচ্ছেমতীর মলিন গলা বাজে – ‘বললেও কিছু হবে না রে। ওরা পৃথিবীর অন্যপারে থাকে। সেখানে শুধু পেতল-সোনার ফারাক মাপে, জাতে ধর্মে নিত্য ঠোকাঠুকি। ওখানে কে বুঝবে অকারণের ভাষা?’

যে কথা বলতে চেয়েও বলতে পারে না ইচ্ছেমতী, সেই কথাটা তার মনের কন্দরে ডানা ঝাপটে ঝাপটে মরে — ঠোক্কর খায় বন্ধ গুহার এ দেয়ালে সে দেয়ালে। সে যে বড্ড ভালবাসে ছেলেটাকে। কিন্তু তার ভালবাসার কোনও ঘরবাড়ি হবে না কোনওদিন, পথে পথেই তার অনিকেত মাধুকরী — সে জানে।

ছেলেটা মাথা নিচু করে বেরিয়ে যায় লেডিজ় হোস্টেল থেকে। জোড়াগির্জার পেটা ঘন্টায় রাত দশটা বাজছে। ভারী পা টেনে টেনে এক আকাশ তারার আঁধারের নীচে, ধীরে ধীরে সে হেঁটে যায় বাসস্টপের দিকে — শেষ বাস ধরবে বলে।

একফোঁটা ইচ্ছে না করলেও ফিরতে হবে বাড়িতে, তার নিস্পৃহ অট্টালিকায়। হোস্টেলের লোহার ফটকের এপারে দাঁড়িয়ে ইচ্ছেমতী দেখে, বধ্যভূমিতে হেঁটে চলেছে পরাজিত সৈনিক।

নীরব প্রার্থনায় তার ঠোঁট নড়ে ওঠে – ওর ভাল হোক ভগবান, ওদের ভাল হোক!

দুই

এসি গাড়ির নরম গদি। এত নরম, যে বসামাত্র শরীর ডুবে যেতে চায় নন্দনবিলাসে। ঘষা কাঁচের বাইরে ঘোলাটে রোদ। প্রচন্ড ব্যস্ত শহর ছুটছে। শব্দহীন। তীব্রগতি। স্মৃতিরা দুদন্ড বসে জিরোবে, এমন রোয়াক নেই শহরবাড়িটায়।

ছেলেটা এখন বিয়াল্লিশ। ইচ্ছেমতীও।

‘খবর কি তোর? সেই পুরোনো স্কুলেই মাস্টারি করছিস এখনও?’ –
গ্রাম্ভারি মধ্যবয়স কথা বলে ওঠে ছেলেটার গলায়।

ঔদাসীন্য ঠোঁট ওল্টায় ইচ্ছেমতীর চোখে -.’ইচ্ছে থাকলেই খবর রাখা যায়। বল্, ইচ্ছে হয়নি, তাই এক শহরে থেকেও খবর রাখিসনি বন্ধুর।’
‘ব্যস, শুরু হয়ে গেল মেয়েলি অভিমান। পারিসও বাবা তুই!’

‘হ্যাঁ, পুরোনো ইশকুলেই মাস্টারি করছি এখনও। তুই তো বিরাট মাল্টিন্যাশনালের একজ়িকিউটিভ – বছরে ছ’মাস আকাশপথেই কাটে তোর – নয়?’

‘কোত্থেকে পাস এইসব গাঁজাখুরি খবর?’

‘গাঁজাখুরি হতে যাবে কেন? এই তো মাকে ডাক্তার দেখাতে এনেছিলাম ঢাকুরিয়া মণিপালে। সেখানেই দেখা মাসীমার সঙ্গে। কত্ত পুরোনো দিনের কথা হলো।’

‘তাই’? – একটু অন্যমনস্ক হয় ছেলেটা। একটু যেন উদাসও। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লক্ষ্য করে ইচ্ছেমতী। তারপরই প্রসঙ্গ বদলায়।

‘তোর বউ তো খুব ভাল হয়েছে। মাসীমা বলছিলেন। কি গুণী মেয়ে। এনজিও চালায় – আবার কত ভাল গানও করে। হ্যাঁরে, এবার পুজোয় না কি সিডি বেরোবে?’

ইচ্ছেমতী প্রসঙ্গ বদলায়, নাকি প্রসঙ্গে আসে, ঠিক বুঝতে পারে না ছেলেটা।

‘হ্যাঁ, ও খুব ট্যালেন্টেড’ – সংক্ষিপ্ত সাবধানী জবাব দেয় সে।

‘তা, তোর ব্যাপারস্যাপার কী? আর কাউক্কে বিয়ে করলি না? ওয়ান্স বিটেন, টোয়াইস শাই?’ –

স্বরে মুরুব্বিয়ানা ফোটায় বিয়াল্লিশের ছেলে — ‘আরে বাবা, সব ছেলেই একরকম হবে, এটা ভাবলি কেন? একটা চয়েস ভুল হয়েছে মানে সবাই মন্দ হবে?’

ইচ্ছেমতী অন্যমনস্কভাবে বলে — ‘চয়েস তো ছিল মা-বাবার। সেটা কখনও ভুল হতে পারে? আমার বরটা খারাপ মানুষ ছিল না, জানিস? শুধু আমার একটা একবগ্গা পাগলামির জন্য সে বেচারা বড্ড ভুগল — আমারই ভুলে নষ্ট হলো তার জীবনের কয়েকটা বছর। অবিশ্যি এখন ভালই আছে খবর পাই। ফের নাকি বিয়ে করেছে। একটা মেয়েও হয়েছে।’ — অনাবিল হাসে ইচ্ছেমতী।

‘তাহলে তোরও ভুল হয়?’ ছেলেটার গলায় তরল পরিহাস।

‘হ্যাঁ, যেমন তেমন নয়, একেবারে ঐতিহাসিক ভুল’ — পাথরের মেঝেতে ছিটকে পড়ে কাঁচের পেয়ালা ভেঙে যাওয়ার শব্দের মতো হাসি ঝরে পড়ে এসি গাড়ির শীতল অভ্যন্তরে।

তিন

শহরের শীর্ণ, প্রশস্ত শিরা-ধমনীর মতো রাস্তা চিরে চিরে সারাদিন ছুটে বেড়িয়ে সন্ধে নাগাদ গাড়িটা ক্লান্ত হয়ে জিরোতে চায়। প্রিন্সেপ ঘাটের গঙ্গার জল যেন কমলা রঙের ভাঙা আরশি। নদীর মাথার উপরে রাজকীয় মুকুটের মতো দ্বিতীয় হুগলি সেতুর কপালে ওয়েলকাম লেখা বোর্ড জ্বলে উঠেছে। ব্রিজের বাঁকানো ধনুকের মতো পথে খুদে খেলনা গাড়ির সারি দেখতে দেখতে হঠাৎই গভীর হয়ে আসে ছেলেটার স্বর –
‘তার খবর রাখিস কিছু?’

হ্যাঁ, এইটুকুর অপেক্ষাতেই ছিল ইচ্ছেমতী। সব নিমন্ত্রণ, গৌরচন্দ্রিকা, জলচৌকির উপরে আলপনার মতো কথার পিঠে কথা সাজানো, সবই এই প্রসঙ্গটির জন্য। একটুখানি চুপ করে থেকে বলে – ‘তুই কোথা থেকে খবর পেলি?’

‘আমি তো গোড়া থেকেই খবর রাখতাম। যোগাযোগ নয় রে। খবর। তার বিয়ে। ছেলে হওয়া। ক্যানসার ধরা পড়া। সব খবরই রাখতাম।’
ইচ্ছেমতীর জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে করে, এত খুঁটিয়ে আমার খবর রাখার তাগিদ কেন হয়নি তোর কখনও? মুখে বলে — ‘কে দিত তোকে এত খবর?’

‘হাওয়া’ — বিষণ্ণ হেসে তার প্রশ্নটা এড়িয়ে যায় ছেলেটা।

সেই তুলতুলে চড়াই পাখির মতো মেয়েটা না ফেরার দেশে চলে গিয়েছে আজ দশদিন হলো। বন্ধুরা শ্মশানে গিয়েছিল। ইচ্ছেমতীও। ছেলেটাকে ওর সহপাঠী বন্ধুবান্ধবরা জানিয়েছিল। সে তখন বিজনেস ট্যুরে জার্মানিতে।

চার

দামী সেডানে গা ডুবোনো দুই মধ্যবয়সী অবয়ব মূক হয়ে দেখে আবিল নদীর জলে ক্লান্ত সূর্য অস্ত যাচ্ছে অবহেলায়। ইচ্ছেমতীর কপালে চুঁইয়ে পড়ছে অবেলার পড়ন্ত রোদ। তার পাশে নিজের দুহাতের মধ্যে কাঁচাপাকা অবিন্যস্ত মাথাটা ডুবিয়ে হাউহাউ করে কেঁদে চলেছে ছেলেটা। ইচ্ছেমতীর দৃষ্টিতে গোধূলি, সে দেখছে, কঠিন রুক্ষ চামড়ার আঙুলগুলোর ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে নামছে অনাঘ্রাত শিশিরের মতো জলপাইরঙের কান্না। অবাক হয়ে ভাবছে ইচ্ছেমতী, দামী শহরবাড়ির আকাশে কোথায় জমেছিল এত মেঘ?

কাঁপা আঙুলে সে স্পর্শ করে ছেলেটার হাত। সান্ত্বনাই দিতে চায় হয়ত। ধীরে ধীরে কান্নাভেজা মুখ ফেরায় ছেলেটা। অশ্রু মানুষের মুখচ্ছবি ভীষণ পবিত্র করে দেয়। ইচ্ছেমতীর মনের কোণে একদলা কুয়াশার মতো মায়া জন্ম নিল। সে মরমী আঙুল ডুবিয়ে দিল তার বন্ধুর মাথার অবিন্যস্ত নুন মরিচ চুলে। আর ছেলেটা? সবলে অপ্রস্তুত ইচ্ছেমতীকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে মুখ ডুবিয়ে দিল তার ঠোঁটে – হঠাৎই। ইচ্ছেমতীর স্নায়ুতন্ত্রীতে প্রবল ঘা পড়ল — অতর্কিত, আকস্মিক ঘা। কানে বাজল কোনও মন্দিরের দূরাগত ঘন্টাধ্বনি। রক্তে তুফান উঠল, হৃদযন্ত্র তাল ভুলে শতধা হয়ে ফেটে পড়তে চাইল, রুদ্ধ হয়ে এলো শ্বাস।

অবশেষে বিযুক্ত হলো দু’টি ওষ্ঠাধর।

ছেলেটা পকেট থেকে রুমাল বের করে চশমার বাষ্প মোছে, খামখেয়ালি হেসে বলে — ‘আঠারো সেকেণ্ড’।

ইচ্ছেমতী চমকে মুখ তোলে।

বন্ধুর চোখের দুর্বোধ্য দৃষ্টি পড়তে পারে না সরকারি ইস্কুলের বাংলার শিক্ষয়িত্রী। শুনতে পায় ছেলেটা বলছে — ‘সেই আঠারো বছর বয়স থেকে যেটার জন্য আকুল অপেক্ষা ছিল তোর, শেষ পর্যন্ত তার আয়ু দাঁড়াল সাকুল্যে আঠারো সেকেণ্ড।’ মালটিন্যাশনালের এগজ়িকিউটিভ কবজি উঠিয়ে দেখায় — মণিবন্ধে আড়াইলাখি টাইটান নেবুলার ঝকঝকে ছায়াপথে ঘুরে চলেছে অক্ষয় কালচিহ্ন।

‘কোথায় নামিয়ে দেব তোকে?’ – থমথমে গলায় প্রশ্ন করে ছেলেটা – ‘মানে, কোথায় ড্রপ করলে বাড়ি ফিরতে সুবিধে হবে?’

‘রবীন্দ্রসদনে নামাস। মেট্রো ধরে নেব।’ — কেজো, শুকনো উত্তর দেয় ইচ্ছেমতী।

রবীন্দ্র সদন মেট্রো স্টেশনের সামনের থিকথিকে ভিড়াক্কার ফুটপাথে পা দেওয়ার আগে ইচ্ছেমতীর হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে ছেলেটা।
‘ভাল থাকিস রে।’

‘হুঁ। তুইও।’

দরজা বন্ধ হয়। জনারণ্যে একা হ’ন ঈশ্বর, প্রেমিক, পাগল।
ঠিক তখনই পৃথিবীর অন্যপার থেকে একটা তিরতিরে হীরামন অস্ফুটে বলে ওঠে – ‘ভাল থেকো। তোমরা সব্বাই খুব খুব ভাল থেকো।’

PrevPreviousআমরা স্তম্ভিত, শোকসন্তপ্ত এবং ভয়ঙ্কর ক্রুদ্ধ
Nextমা মনসার পূজাNext
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

সম্পর্কিত পোস্ট

এই আদিবাসী মেয়েটিও এক অভয়া, তার ন্যায়বিচারের দাবিতে অভয়া মঞ্চ আন্দোলন গড়ে তুলতে দায়বদ্ধ।

September 8, 2026 No Comments

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের খুন ও তার অভিঘাতে জন্ম নেওয়া অভয়া আন্দোলনের ফলে এই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে — সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নির্বাচনের

মুছে ফেলা যায় না

September 8, 2026 No Comments

আজ সকালে দেখলাম, দেয়ালের গায়ে সাদা চুন গড়িয়ে পড়ছে ফোঁটা ফোঁটা। যে মুখটা এতদিন এই দেয়াল থেকে তাকিয়ে ছিল, যার চারপাশে লেখা ছিল “Peace”, “Paix”,

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পোশাক বিধি

September 8, 2026 No Comments

সমালোচনা উপহাস করার আগে আসুন বিজ্ঞান চর্চা হতে যাক একটু। আমাদের গোটা শরীরটাকে যদি মশার কামড় এর লক্ষ্য বস্তু হিসেবে বিবেচনা করি তাহলে দেখবেন শরীরের

পাঠশালা… ফিরে আসুক

September 7, 2026 No Comments

আজ ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬। প্রত্যেক বছর এই দিনে অনেকেই ‘HAPPY TEACHER’S DAY’ মেসেজ পাঠায়! আমাকেও! উত্তরে লাভ ইমোজি আর ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলা ছাড়া কিছুই করতে

টিচার্স ডের গল্প

September 7, 2026 No Comments

টিচার্স ডে এলো, তাই টিচার্স ডের গল্পের পালা – প্রতি বছরের মতো এ বছরও শোনাবো, শুনতে চাইলে ভালো, নয়তো স্ক্রল করে নেমে যান। আমাদের বেলায়

সাম্প্রতিক পোস্ট

এই আদিবাসী মেয়েটিও এক অভয়া, তার ন্যায়বিচারের দাবিতে অভয়া মঞ্চ আন্দোলন গড়ে তুলতে দায়বদ্ধ।

Abhaya Mancha September 8, 2026

মুছে ফেলা যায় না

Dr. Arjun Dasgupta September 8, 2026

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পোশাক বিধি

Dr. Samudra Sengupta September 8, 2026

পাঠশালা… ফিরে আসুক

Smaran Mazumder September 7, 2026

টিচার্স ডের গল্প

Dr. Subhanshu Pal September 7, 2026

An Initiative of Swasthyer Britto society

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

Contact Us

Editorial Committee:
Dr. Punyabrata Gun
Dr. Jayanta Das
Dr. Chinmay Nath
Dr. Indranil Saha
Dr. Aindril Bhowmik
Executive Editor: Piyali Dey Biswas

Address: 

Shramajibi Swasthya Udyog
HA 44, Salt Lake, Sector-3, Kolkata-700097

Leave an audio message

নীচে Justori র মাধ্যমে আমাদের সদস্য হন  – নিজে বলুন আপনার প্রশ্ন, মতামত – সরাসরি উত্তর পান ডাক্তারের কাছ থেকে

Total Visitor

673708
Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on linkedin

Copyright © 2019 by Doctors’ Dialogue

wpDiscuz

আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্য আর সবার জন্য চিকিৎসা পরিষেবা। আমাদের আশা, এই লক্ষ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও আপামর মানুষ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমস্ত স্টেক হোল্ডারদের আলোচনা ও কর্মকাণ্ডের একটি মঞ্চ হয়ে উঠবে ডক্টরস ডায়ালগ।

[wppb-register]