৯ ই জুলাই অভয়া হত্যার বিচারহীন এগারো মাস। কেন্দ্র রাজ্যের গোপন বোঝাপড়ায় বিচার এখনো অধরা। গোপন আঁতাতকে চ্যালেঞ্জ করে দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে অসম লড়াই ঘোষণা করেছে অভয়া মঞ্চ। বিকেল সাড়ে চারটেয় মৌলালির রামলীলা ময়দান থেকে রাজাবাজার পর্যন্ত মিছিলে আবার জ্বলে উঠল নতুন আশার রংমশাল।
এক আশ্চর্য সমাপতনে এই দিন সর্বভারতীয় শ্রমিক কর্মচারী ধর্মঘট। শ্রম কোড বাতিল, মজুরি বৃদ্ধি, সম কাজে সম বেতন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য অগণতান্ত্রিক নীতির বিরুদ্ধে ডাকা এই বন্ধ সমর্থকদের উপর রাজ্য পুলিশের নির্লজ্জ আক্রমণ কেন্দ্র – রাজ্য সেটিং তত্ত্বকে মান্যতা দিয়ে দৃঢ় ভিত্তিতে স্থাপন করল।
বৃষ্টিমুখর ধর্মঘটের দিনে কলকাতার জনজোয়ারে বজ্র মেঘের দুন্দুভি নিনাদ। অভয়া মঞ্চের রাজপথ থেকে আলপথে যাবার শপথ পূরণ এখনো বাকি, তবু এই মিছিলে আলপথ এসে মিশে গিয়েছিল রাজপথে। মফস্বল, গ্রাম, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সপ্রাণ অংশগ্রহণে স্পন্দিত হয়েছে এই নাগরিক মিছিল। প্রকৃতির ভ্রূকুটিকে অগ্রাহ্য করে জনসংস্কৃতি, জনচেতনা মঞ্চ, বিজ্ঞানমনস্ক, বৃহত্তর বারাসাত অভয়া মঞ্চ এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের বহু সদস্য গ্রাম এবং মফস্বল থেকে এসে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। মিছিলের সমস্ত পথ ধরে, মিছিল শেষে রাজাবাজারের পথ সভায় বাংলা ইংরেজি হিন্দি ও উর্দু চারটি ভাষায় লিফলেট বিতরণ করা হয় পথচারী মানুষদের মধ্যে। স্থানীয় মানুষের সমর্থনপ্লাবিত জনসভায় অভয়ার বিচার, নারী সুরক্ষা আর শ্রমজীবী মানুষের দাবি একই সঙ্গে উচ্চারিত হয়।
এই সভায় বক্তব্য রাখেন ডাক্তার গৌতম মুখোপাধ্যায়, জনসংস্কৃতি সংগঠনের পক্ষে থেকে অম্বিকা চক্রবর্তী এবং অন্বেষা মন্ডল, সমাজকর্মী রুকসানা খাতুন, সগুফতা খান, শিক্ষিকা সংগীতা শ্রীবাস্তব, বৃহত্তর বিধান নগর অভয়া মঞ্চের পক্ষ সুতনুকা বন্দ্যোপাধ্যায়, জনচেতনা মঞ্চ থেকে সন্দীপ রায় এবং অভয়া মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক তমোনাশ চৌধুরী। ডাক্তার তরুণ কান্তি কর সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রম আর সংগ্রামের শপথ নিয়ে –
জব মাঙ্গ না হোগা পুরা
ও মেহনত করনেওয়ালে,
হম একসাথ দেঙ্গে নাড়া
বন্ধ্ হোঙ্গে কল্ কে চক্কে।
পথে এবার নামো সাথীর আহবান দিয়ে শেষ করেন ডাক্তার কর। আগামী ৯ আগস্ট-এর কর্মসূচি এবং অবিলম্বে সিজিও কমপ্লেক্স অভিযানের কথা ঘোষণা করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন ডাক্তার তমোনাশ চৌধুরী। সমগ্র পথসভাটি পরিচালনা করেন ডাক্তার পুণ্যব্রত গুণ।









