২০২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। একে একে সমস্ত দেশের খেলোয়ারেরা এবং তাদের কর্মকর্তারা হাজির হচ্ছেন প্রধানত আমেরিকায় কিংবা মেক্সিকো বা কানাডায় – যে দেশে যার যেমন খেলা আছে।
এই বিশ্বকাপ অর্থ এবং ক্ষমতারও বিশ্বকাপ – দল এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছাড়াও। কয়েকটি উদাহরণ পরপর তুলে ধরা যাক –
(১) ইংলিশ লিগে খেলা এ সিজনের নজরকাড়া ইরানি খেলোয়ার মেহদি তারেমিকে আমেরিকা ঢোকার মুখে অভিবাসন দপ্তর ১০ ঘন্টা আটকে রেখে, জিজ্ঞাসাবাদ করে অবশেষে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।
(২) ইএসপিএন সংবাদসংস্থা এবং স্পোর্টস চ্যানেল জানাচ্ছে “Iran players: U.S. visa policies creating World Cup ‘tension’” (https://www.espn.in/football/story/_/id/49017941/iran-players-say-us-visa-policies-create-world-cup-tension)।
আরও ভয়ঙ্কর ঔদ্ধত্যেরর বিষয় হল – যেদিন ইরানের খেলা শেষ হবে সেদিনই তাদের ইরান ফিরে যেতে হবে – “Under the conditions of their visas, the squad will have to enter and leave the US on the same day as their matches, Iran’s ambassador to Mexico said on Saturday. ”(https://www.bbc.com/news/articles/cy8286nqz87o)
(৩) “Players, head coach Amir Ghalenoi, and some members of the technical staff received visas, but 13 members of the administrative and technical team were denied entry.” (https://www.turkiyetoday.com/sports/world-cup-teams-face-us-visa-denials-security-checks-3221601)
(৪) আমরা সবাই জানি, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যে ইরানের খেলোয়াড়েরা প্রস্তুতি নিয়েছে তুরস্কে। দেশের মাটিতে অনুশীলন করতে পারেনি।
(ইরানিয়ান ফুটবলারা)
(৫) আফ্রিকা তথা সোমালিয়ার শ্রেষ্ঠ এবং পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রেফারি ওমর আবদুলকাদির আর্তান ফিফা যে ৫২ জন রেফারিকে বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত করেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। যেহেতু সোমালিয়া আমেরিকার ভিসা নীতিতে “ব্ল্যাক্লিস্টেড” দেশ এজন্য তাঁকে ভিসা দেওয়া হয়নি।
নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সংবাদ হচ্ছে “Somali Referee Says His World Cup Dream Is Dashed After U.S. Denies Entry” (https://www.nytimes.com/2026/06/09/world/africa/somali-referee-world-cup-us-entry-omar-artan.html)।
(৬) আবার, গার্ডিয়ান-এর সংবাদ অনুযায়ী, “Omar Artan given hero’s welcome in Somalia after referee’s US entry blocked” (https://www.theguardian.com/football/2026/jun/10/referee-omar-artan-given-heros-welcome-somalia-after-us-entry-blocked)
(সোমালিয়ার রেফারি ওমর আর্তান)
(৭) এই প্রেক্ষিতে বিবিসি সংবাদসংস্থা তাদের প্রকাশিত খবরে প্রশ্ন তুলেছে “Does referee case show Fifa has lost control of its own World Cup?” (https://www.bbc.com/sport/football/articles/clyr6drdl79o)। এদের সংবাদ অনুযায়ী, বিশ্বকাপে সেরার সেরাদের খেলা হয় – শুধুমাত্র খেলোয়াড় নয়, কোচেদের এবং কর্মকর্তাদের বাহিনীরও। আরও বলা হয়েছে – “Omar Artan is the number one referee from Africa. He will not be allowed to officiate at the World Cup. Artan, from Somalia, flew into Miami to join up with the other 51 referees. After what he says was an 11-hour grilling by immigration officials, he was put back on a plane.”
অদ্ভুত বিষয় হল যে এ বিষয়ে ফিফার কোন বক্তব্য নেই। ফিফা সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী স্পোর্টস সংস্থা। এদের সম্পদের মোট পরিমাণ আমেরিকান ডলারে ৯.৪৮ বিলিয়ন ডলার – ভারতীয় টাকায় ৯,০৩,১১,৪৫,৭০,০০০ টাকা। এত সম্পদের অধিকারী হয়েও খুব দৃষ্টিকটু এবং নির্লজ্জভাবে ফিফা মাথা নোয়ালো ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে।
ক্ষমতার শক্তি কাকে বলে ২০২৬-এর বিশ্বকাপ আরেকবার বুঝিয়ে দিল। অন্তত বিশ্ববাসীর কাছে এ ঘটনা একটি কালো অধ্যায় হিসেবে থাকা উচিত।
এবার ভারতের কথায় আসি। দৈনিক দ্য ট্রিবিউন সংবাদপত্রের (৮ জুন ২০২৬) একটি সংবাদ জানাচ্ছে – “Law ministry sets up lawyers-judges badminton match in London, activists frown upon back home” (https://www.tribuneindia.com/news/diaspora/law-ministry-sets-up-lawyers-judges-badminton-match-in-london-activists-frown-upon-back-home/)।
প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় অবন্তিকা ডেকা এবং কিছু কর্পোরেট সংস্থা এই ইভেন্টের সংগঠক। একে স্পনসর করেছেন ভারতের আইনমন্ত্রক। পূর্বোক্ত সংবাদ জানাচ্ছে – “A good number of judges and lawyers reportedly travelled to the UK to take part in the 2nd International Bar & Bench Badminton Championship.” কিন্তু প্রখ্যাত আইনজীবী প্রশান্তভূষণ প্রশ্ন তুলেছেন, যখন ভারত সরকার বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতবাসীকে মিতব্যায়ী হতে বলছেন তখন এরকম একটি ঘটনা ঘটল কেন? কী করে? সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি এই ইভেন্টের প্রধান অতিথি ছিলেন।
বিচারপতিরা ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২১০ দিনের মতো ছুটি ভোগ করেন। কিন্তু নিয়তির পরিহাস হল, ভারতের কোন কোর্টে এ টুর্নামেন্ট হতে পারত না! যথেষ্ট উপযুক্ত নয় বলে? এবং আরও মজার হল, বহু দেশের তুলনায় ভারতে বিচারাধীন কেসের সংখ্যা বহুগুণ বেশি – যেগুলোর নিষ্পত্তি হতে বছরের পর বছর লেগে যায়।
অ্যাডভোকেট ভি কে দুবে এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন (https://www.aninews.in/news/business/advocate-v-k-dubey-honoured-at-2nd-international-bar-amp-bench-badminton-championship-in-london20260609160319/)। নিঃসংশয়ে আহ্লাদিত হওয়া ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে আমাদের কাছে?













