তড়িঘড়ি পোড়ানো মেয়েটার দেহ শিগগিরই এক মালসা ছাই হয়ে বেরিয়ে এলো।
সে ছাই বালাই বলে ফেলে দেওয়া হলো জলে।
ওরা মুখ ঘোরাতেই .. ও কি! ভস্মের কণাগুলো দপ করে জ্বলে…
আগুন নেভেনি তবে কি? ধিকি ধিকি জ্বলা ওরা পাখি না
জোনাকি,
তা বোঝা গেলো না। যেটা দেখা গেলো, জল ছেড়ে বেরোলো অগুন্তি আলোর ফুলকি..
ওরা উড়লো , শ্মশানেই সব শেষ ধারণা পেরিয়ে,
তড়িঘড়ি-তোড়জোড়কারীদের নজর এড়িয়ে ওরা ছড়িয়ে গেলো শহরে, গ্রামে, প্রদেশে, রাজ্যে ,দেশে .. সারা বিশ্বে।
ফুলকিরা পৌঁছালো সেই কম্প্যুটারে,
যেখানে পর্নসাইটে সার্চ করা হচ্ছিলো মেয়েটার নাম।
ছেলেগুলো দেখলো , কে যেন দখল নিয়েছে স্ক্রিনের,
যেভাবে সাইবার-ডাকাতেরা নেয়,
আর ওদের চোখের সামনে কোনো এক ডিজিটাল ম্যাজিকে
যে সিনেমাটা চলছে,
তাতে ওরা সবাই আছে, তবে ধর্ষক নয়, ধর্ষিত হিসেবে।
গুহ্যতে ঢোকা প্রতি লিঙ্গের প্রহারে পর্দার ‘অবতার’এর সাথে ওদেরও সমান ব্যথা লাগছে,
ওরা কাতরাচ্ছে , প্রাণপণ চেষ্টা করছে, কিন্তু ল্যাপটপ বন্ধ হচ্ছে না..
যতবার বন্ধ করতে যাচ্ছে, স্ক্রিনে ভেসে উঠছে ‘ অভয়া’।
রোজ নাকি নব্বইটা ধর্ষণ হয়।
যারা সে সংখ্যাটা বলে, তারা জানে না বা এড়িয়ে যায়,
প্রতি একটা অভিযোগে দশটা করা হয় না,
করা যায় না।
আর প্রতি একটা ধর্ষণে কমপক্ষে একশোটা শ্লীলতাহানি থাকে,
প্রতি শ্লীলতাহানিতে এক হাজারটা ইভটিজিং,
প্রতি ইভটিজিংয়ে কত ‘মন্দ ছোঁয়া’ থাকে,
সেটা গোনার ক্যালকুলেটর তৈরি হয়নি ।
অথচ সেটাই হিসেব করে ফুলকিগুলো নিখুঁত ভাবে ঢুকে গেলো এমন প্রতিটি ঘটনার মধ্যে,
প্রতি সম্ভাব্য শিকারের চোখের জ্যোতি
যেন সুপারম্যানের লেজার চোখ ,
ধর্ষক, মলেস্টার, ইভটিজার ছোঁয়ার আগেই কুঁকড়ে গেলো তাদের হুংকার শুনে ‘ অভয়া! ‘
সাড়ে তিন বছরের একটি মেয়েকে ক্ষতবিক্ষত পেয়ে বাবা মা দাঁড়িয়েছিলো থানার বড়বাবুর সামনে, করজোড়ে।
ঘটনাস্থল পশ্চিমবঙ্গ, কিংবা উত্তরাখণ্ড,
কিংবা মহারাষ্ট্র, কিংবা আসাম,
কিংবা তামিলনাডু..
মানে পাঞ্জাব-সিন্ধু-গুজরাট-মারাঠা-বঙ্গের যে কোনো জায়গায়,
দৃশ্যটি অবিকল এক।
ক্ষমতাহীন মা বাবা, ধর্ষিত নাবালিকা,
পুলিশের এফ আই আর করতে অস্বীকার…
তবে আজ নয়।
কোত্থেকে যেন পৌঁছে গেছে ফুলকিরা সেই সব থানায়,
ওই দেখো, বাঙালী, বিহারী, তামিল, গুজরাটি, হিমাচলি মেয়ের বাবা মা’রা একজোটে চিৎকার করে উঠলো
‘ অভয়া! ‘
পুলিশ শশব্যস্ত হয়ে রিপোর্ট লিখেই গাড়ি বের করলো..
ধর্ষক কে তা তো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জানা ।
আদালতে বাদী ও বিবাদী সওয়াল করছিলেন,
মেয়েটা গ্যাংরেপড হয়ে মরে গেছে বছর পাঁচেক আগে,
বাবা মা আসেন, উকিলের ফি দেন,
বসে থাকেন,
তারপর আবার ফিরে যান পরের তারিখে আসার জন্য।
আজকেও জজসাহেব পরের ডেটের জন্য সবে কলম ধরেছেন,
হঠাৎই ফুলকিগুলো এসে তাঁর চোখ আর মন ,
দুটোই ধাঁধিয়ে দিলো।
তিনি বলে উঠলেন, এই মোকদ্দমা আজকেই শেষ হবে।
আদালতের নীরবতা আইন ভেঙে
মেয়েটির মা হঠাৎই হুংকারের মতো চেঁচিয়ে উঠলেন ‘ অভয়া! ‘
গলির মোড়ের ক্লাবে ভয়ের বাসা যে কিশোরী জানতো,
ফুলকি তাকে শিখিয়ে দিলো অভয়া-মন্ত্র,
বসের রোজের ছোঁয়া প্রাণপণ সহ্য করতো যে পরিবারের অন্নদাত্রী, ফুলকি তাকে দিলো অভয়া-দীক্ষা,
যে উঠতি অভিনেতা মেয়েটিকে আজ সন্ধ্যায় প্রযোজকের বাড়ি হাজিরা দিতে হবে,
ফুলকি তাকে দিলো অভয়া-বর্ম,
সোনাগাছি’র যে মেয়েটিকে কিনে রোজ স্যাডিস্ট খদ্দের
ছিঁড়েকুটে তছনছ করতো,
ফুলকি তাকে দিলো অভয়া-অস্ত্র।
সংসদে তখন তুমুল আলোচনা চলছিলো এবারে তাঁদের মাইনে কত বাড়ানো হবে,
মূল্যবৃদ্ধির সাথে তাল রাখতে গিয়ে দ্বিগুণ না তিনগুণ তাই নিয়ে সবে ধ্বনিভোট হতে যাবে,
হঠাৎই ফুলকির উজ্জ্বলতায় চোখ ধাঁধিয়ে স্পিকার বলে উঠলেন ‘ অভয়া!’
কেন্নোর মতো গুটানো শিরদাঁড়ারা টানটান হলো,
শোনা যাচ্ছে বিচার একমাসের মধ্যে শেষের আইন প্রণয়ন হলেই,
তার সমর্থন ‘ নারীর আগামী সংরক্ষণ’ রেকর্ড ভেঙে দেবে।
ফুলকিরা থমকালো এক আটপৌরে বাড়ির ভেতরে।
সেখানে মেয়ের সদ্য বাঁধানো মালা দেওয়া ছবির দিকে তাকিয়ে আছেন এক দম্পতি।
ফুলকিরা মায়ের কোলে বসলো, বাবার কাঁধে মাথা রাখলো।
তারপর আলোর অক্ষরে লিখে দিলো ফটোটার ওপরে,
‘ এখন তোমাদের কোটি কোটি মেয়ে, শুধু অভয়া বলে ডাকলেই হবে’।
অভয়া।
নারীর অজপা হোক এই নাম। যুদ্ধ তো শুরু হলো সবে।











Jadi hoto dada…. Asha e kore jai jeno ekdin erakam hay… 5 yrs er meyeta keo school e pathate bhoy kore dada… Jani na.. ki kore baro korbo…