একটা অ্যাপ্রন আর একটা স্টেথো,
প্রতিটি মণ্ডপে যেন থাকে।
তুমি তো জানো না, মেয়েটা থাকলে বেঁচে,
কোন পুজো দেখতে সে যেতো।
মরে গেলে সব শেষ, বস্তুবাদীর দাবী,
বিজ্ঞান আত্মা মানে না।
পুজোর ওই কটা দিন, যুক্তি চুলোয় দিয়ে
পরকাল বলে কিছু আছে বলে ভাবি,
বিজ্ঞান তো সমস্ত জানে না!
তাছাড়া,
নয়ই আগস্ট থেকে এতগুলো দিন তো পেরলো
মেয়েটাকে তবু বলো তিল ভোলা গেলো?
কে করো না মনে বলো আজও তাকে,
রুটিনের ফাঁকে ফাঁকে এসে বসে থাকে
স্টেথো হাতে অ্যাপ্রন পরা যে মুখহীন মেয়েটি,
এড়িয়ে সে অবয়ব কোনখানে যাবে?
দেহ গিয়ে দুনিয়ায় গিয়েছে ছড়িয়ে যে ডাক্তার বেটি,
চলো না,
এবার তাকে ঠাকুর দেখাবে!
না না, দুর্গা গড়ো না বাপু অভয়া-আদলে,
অ্যাপ্রন পরিয়ো না জননীকে যেন,
হাতে যদি স্টেথো দাও,
বলা তো যায় না, ত্রিনয়ন যদি ওঠে জ্বলে,
অসুরদলনী তিনি গর্জে ওঠেন যদি বলে,
‘মেয়ে গেছে, চারদিকে তবু আলো-উৎসব কেন!’
ন্যায্য সে প্রশ্নের কী দেবে জবাব’
‘যেহেতু নিয়ম মা গো, পঞ্জিকা মেনে তাই ..’
সাবধান , সাবধান, যুক্তিতে ভিতের অভাব
মা যদি গর্জান ‘ঘটে কেন সারোনি বালাই?’
বাণী ও কমলা যদি তার সাথে ছুঁড়ে দেন
‘বলো, আর কবে!’
উত্তরে তারই বা বলবে কী তবে..
দেবীরা ছাড়েন যদি, তবু নয় অভয়া’র থিম,
পঁচাশি পোচিং হয়ে পাবে তবে অশ্বের ডিম,
বলা তো যায়না ,
আরো কী কী হতে পারে ক্ষতি
যতই পুরনো পুজো হোক,
পুলিশ আর ফায়ারের লাগে অনুমতি,
সেদিকেও রাখা চাই চোখ,
সুতরাং.. We want just peace,
প্রতিমা বা থিমে দাবী নয় জাস্টিস।
আমরা যেখানে যাবো,
অষ্টমী অঞ্জলি দিয়ে নেবো দেহি বলে রূপ ধন চেয়ে,
ঠাকুর দেখতে গিয়ে লাইন লাগাবো..
সেইখানে আমাদের সাথে,
হাত রেখে হাতে থাক আমাদের মেয়ে,
তুমি আমি তিনি সে,
সকলের সংসারে একজন সে তো,
খিচুড়ি অষ্টমীতে, নবমীতে বিরিয়ানি
আমাদেরই মতো সেও নিশ্চিত খেতো ।
প্রতি মণ্ডপে এক কোণ নিয়ে বেছে
একটা চেয়ারে যেন মেয়ে থাকে বেঁচে,
রেখো এক অ্যাপ্রন, আর একটা স্টেথো।











Apurbo dada.. ami apnar lekhar khub e bhakto sabsamay e…