যেসব চিকিৎসকরা এরপরও শাসকদলের চাটুকারিতা করে চলবেন, তাঁদের মনে করিয়ে দিই : তেল মেরে ডাক্তারদের দীর্ঘমেয়াদী সুবিধে হওয়া মুশকিল, কেননা ডাক্তার, তিনি যে পদেই থাকুন না কেন, তাঁদের ছেঁটে ফেলা সম্ভব। সহজেই সম্ভব। সরকার-বাহাদুর একেবারে অনায়াসে তাঁদের ছেঁটে ফেলতে পারে। রাজনৈতিক সমীকরণ ও পাব্লিক হ্যান্ডলিং-এর মুহূর্তে ডাক্তারদের উপস্থিতি কাম্য হলেও হতে পারে, কিন্তু সেই উপস্থিতি র সমীকরণ খুব সহজেই বদলে যেতে পারে। নিতান্তই সহজেই বদলে যেতে পারে। কিন্তু আমলা? নৈব নৈব চ!
অতএব, এদিক-সেদিক খুচরো ধান্দাবাজি ছেড়ে, মন দিয়ে ডাক্তারিটাই করুন। আপনি তো আইএএস নন, এমনকি তুষারকান্তি পাঠকের মতো ডব্লিউবিসিএস আমলাও নন। কাজেই…
এই তো দেখুন না, ডিএমই (স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা) ও ডিএচএস (স্বাস্থ্য-অধিকর্তা) – এই দুজনকে সরিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু স্বাস্থ্যসচিব, অর্থাৎ হেলথ সেক্রেটারি? নাহ্!
সুতরাং, শাসক দলকে তেল-টেল দিতে চাইলে দিন – ভালো অভ্যেস বজায় রাখাটা কাজ হিসেবে আরামের – প্লাস, অনেকেরই এই অভ্যেস অনেকদিনের পুরনো – কিন্তু আবারও বলি, তার চাইতে মন দিয়ে ডাক্তারিটাই করুন, কেননা বিপদে পড়লে…
ও হ্যাঁ, পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল ও ডিসি নর্থকেও সরানো হয়েছে। সরানো হতো না। কিন্তু দিনকাল খারাপ। যেকোনও মুহূর্তে তাঁদের ডেকে গ্রেফতার করা না হোক, নিদেনপক্ষে জেরার জন্য ডাক তো পড়বেই। এই বাজারে আগেভাগেই পদ থেকে সরিয়ে অন্যত্র গ্যারেজ করলে, আর কিছু না হোক, সরকারের অন্তত চক্ষুলজ্জাটকু রক্ষিত হয়। কাজেই..
যাক গে, আরও একট্য কথা লিখি। ডা কৌস্তভ নায়েক (ডিএমই)-কে দেখে শিক্ষা নিন। ভদ্রলোক সুচিকিৎসক, সম্ভবত অধ্যাপক হিসেবে ভালো। কিন্তু তাতে আর কী লাভ হলো? বর্ধমানের অধ্যক্ষ পদে সামান্য কিছুদিন কাটতে না কাটতেই সটান ডিএমই… সেই জার্নি, উল্কার মতো সেই উত্থান, অবশেষে, ফুরোলো৷ একরাশ অপমান নিয়ে তাঁকে পদ থেকে সরে যেতে হলো। তিনি খুব সম্ভবত পয়সা মারতে স্বাস্থ্যভবনে আসেননি। এসেছিলেন শুধুই পদের লোভে আর ক্ষমতার ওম পোয়াতে। গত কয়েকবছর ধরেই, তিনি অভীক দে-র কথায় ওঠবোস করে ক্ষমতার একটা বিকৃত রূপ পেশ করেছেন।
আজ ছাত্রছাত্রীদের দাবির মুখে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ডিএমই-কে সরিয়ে দিলেন।
তা এত তেল মেরে, এত ধান্দার লোভ – তাতে হলোটা কী?
শেষমেশ তো দাবি মেনে সেই সরেই যেতে হচ্ছে। তৃণমূল হতে হলে চামড়া বেশ পুরু হতে হয়, এটা সবাই জানে – আস্ত দলটাই চলছে চুরি আর চুরি চাপা দেওয়ার জন্য পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে – মানে, ওই দলে সেটাই দস্তুর – কিন্তু তাই বলে এতখানি!! ডা নায়েক, এরপরও, সসম্মানে চাকরি করে যেতে পারবেন?
তবে স্বাস্থ্যভবনে এই এত দুর্নীতি অনাচারের পরেও স্বাস্থ্যসচিব কেন সরলেন না? কেন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সরাতে রাজি হলেন না? স্বাস্থ্যসচিব স্রেফ আইএএস বলে?? নাকি অন্য কোনও গভীরতর রহস্য?
.
তো ওসব কূট কথা থাক। আপাতত মাননীয় চিকিৎসক-মহোদয়, আপনি কি ঠিক করলেন?
আবারও যে-কে-সে-ই অবস্থায় ফিরে যেতে চাইবেন? আর যেনতেনপ্রকরেণ আপস করে নিজেরটুকু সামলে-সুমলে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করবেন?
.
.নাকি স্বাস্থ্যভবন সাফাইয়ের যে কাজ বাচ্চা বাচ্চা ছেলেময়েগুলো করে ফেলল, তার পরের ধাপ হিসেবে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিল সাফাইয়ের কাজটা শুরু করবেন?
মানে, সেই অতি জরুরি সাফাই অভিযান যদি আমরা শুরু করি, আপনি পাশে থাকবেন তো?









