চোর্কুণালবাবু, মুখ্যমন্ত্রী না বুঝলেও আমাদের আন্দোলনের মূল দাবি আপনি বুঝেছেন ও মেনে নিয়েছেন- এটা দেখে বলা যায় আপনি মুখ্যমন্ত্রীর বাছুর হলেও ওনার মতো ‘এঁড়ে বাছুর’ নন। আপনার ১৩ দফা দাবি বৈধ, আমরা এক্ষুণি মেনে নিতে রাজি- কীভাবে একটু বলে নি…
১. নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কথা আপনি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু যে পুলিশ আপনাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেছিলো, তারা হাসপাতালের এই দুর্বৃত্তদের গায়ে হাতও দেয়না। আর আপনি হয়তো জানেন না ডাক্তারদের উপস্থিতি দেখার দায়িত্ব এনএমসি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে- বায়োমেট্রিক চালু হয়েছে। আমরাও চাই নেতামন্ত্রীর ছেলেপুলেগুলো, যারা নেপটিসমের দয়ায় চাকরি পেয়েছে, তারা সার্ভিসটুকুও দিক। অভীক দে শুনলাম ৮ আগস্ট থেকে আসছে না, কোথায় আছে বলুন তো!!
২. কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক চাকরিই নন-প্র্যাকটিসিং। রাজ্য সরকারও ন্যায্য মাইনে, ডিএ এবং নন প্র্যাকটিসিং ভাতা দিয়ে সরকারি ডাক্তারদের বেসরকারি প্র্যাকটিস বন্ধ করুক। কাগজে কলমে সেটা করার ক্ষমতা না থাকলে সন্দীপ ঘোষ অধ্যক্ষ হয়েও প্র্যাকটিস করবেন। নয়তো সরকারের নামমাত্র মাইনের চাকরি সবাই ছেড়ে দিলে, কয়েকটা গণ্ডমূর্খ নেতামন্ত্রীর ছেলেমেয়ে ডাক্তার দিয়ে হাসপাতাল চলবে তো!! অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী বা নীলাঞ্জনবাবুও ডাক্তারির অনেক কিছু জানেন, ওঁদের লাইসেন্স দিয়ে দিলে একটু অভাব মিটতে পারে।
৩. জেনেরিক আমরা লিখতে চাই, সেরকম নির্দেশও আছে। তবে আপনার রাজ্য সরকার সিন্ডিকেটরাজের মাধ্যমে সেই ওষুধের গুণমানের চোদ্দটা বাজিয়েছেন বলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই ওষুধে কোনো কাজ হয়না। আপনিও বোধ হয় ওই ওষুধ খুব একটা খান না। কারণ দামটার আগে প্রাণটা- এটা আপনিও বোঝেন।
৪. কাটমানি নিয়ে কথা বলছে তৃণমূল!!! তাও সারদার প্রিজন ভ্যান বাজানো দাগী আসামী- ভালো লাগলো। আমরাও ওষুধ/পেসমেকারের টেন্ডারে কাটমানি বন্ধ করার জন্য সরব হয়েছি- পাশে দাঁড়ানোর জন্য ধন্যবাদ। নিম্নমানের পেসমেকারে রোগিমৃত্যুর খবর বেশিদিন পুরোনো নয়, দেখা হয়নি বুঝি!!
৫. ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের রমরমা কমাতে সরকারি ল্যাবগুলো উন্নত করতে হবে। রোগী হয়রানি কমিয়ে কীভাবে ডায়াগনোস্টিক পরিষেবা উন্নত করা যায়, সে ব্যাপারে মতামত আমরা রেখেছি, প্রয়োজনে শুনে নেবেন।
৬. চাল-ডাল-আলু-পেট্রোলের দাম নিয়ন্ত্রণ করুন। রাজ্যে খাবার চালের দাম নিয়ন্ত্রণে নেই, আপনি একজন বেসরকারি ডাক্তারের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে আসেন কীকরে!! সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পরিষেবা তো সবসময় খোলা আছে- সবাই সেখানে যাক। চাহিদাই জিনিসের দাম বাড়ায়, চাহিদা না থাকলে দাম কমতে বাধ্য।
৭. দু’নম্বর পয়েন্টটাই আবার লিখেছেন পয়েন্ট বাড়াতে, মাধ্যমিকের খাতা নয় এটা- তাই এক্সট্রা নম্বর পাবেন না।
৮. করের টাকায় ডাক্তারি পড়ে সরকারি চাকরির জন্য এখনো বহু লোক বসে- মেডিক্যাল অফিসার রিক্রুটমেন্ট বহুযুগ ধরে বন্ধ। আপনার পরিচিতদের ব্যাকডোর এন্ট্রি হচ্ছে বলে আপনি সেই খবরটা এখনো পাননি বোধ হয়! স্নাতকোত্তর পড়াশোনায় তিন বছর বন্ডের কথাও আপনি জানেন না বোধ হয়, নাকি জেনেও ন্যাকা সাজছেন?
৯. লবি করে ট্রান্সফার আটকানো ইত্যাদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইতে আপনি বারবার আমাদের হয়ে কথা বলে এসেছেন, এবারো নিজেদের সরকারের দুর্নীতিকে মান্যতা দিয়েছেন- মমতাদি রেগে গেলে আবার প্রিজন ভ্যান বাজাতে হবে কিন্তু!!
১০. স্বাধীন দেশে কেও কাউকে টানাটানি করতে পারেনা। আপনার সরকার সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের নামে বিল্ডিং খাড়া করে তাতে যন্ত্রপাতি বা ম্যানপাওয়ার কিছু দিতে পারেন না বলেই মানুষজন বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন। জেলের বাইরে থাকার সময় তো কখনো সরকারি হাসপাতালে একদিনও ভর্তি হন না আপনারা- রোগীবন্ধু কে আপনি জানবেন কীভাবে!!
১১. সরকারি মেডিক্যাল কলেজেও টাকা দিয়ে পাশ হচ্ছে, সরকারের হয়ে কাজকর্ম করলে পড়াশোনা না করেও পাশ হচ্ছে- এসব ব্যাপারে স্বচ্ছতার দাবি আমরাও করেছি। প্রশাসন এভাবে অযোগ্য ডাক্তার দিয়ে সমাজটা ভরে দিচ্ছে, এতে আগামী দিনে মানুষের স্বাস্থ্য বিপন্ন হবে। আপনার এই দাবিতে আমরাও একমত।
১২. কোটা বন্ধ করুন, আমরাও বলছি। কোভিড কোটায় অভীক দে সার্জারি পড়ছে। এ কেমন কোটা!! জীবনে নাম শুনিনি। শুধু ছাত্র ভর্তিতেই না, রোগী ভর্তিতেও সবুজ কাগজের কোটা বন্ধ হোক- তাই দরকার সেন্ট্রাল রেফারাল ও বেড ভ্যাকানসি।
১৩. চিকিৎসার গাফিলতিতে এফআইআর হোক, কিন্তু সেই গাফিলতি প্রমাণ করবে কোর্ট- কোনো তৃণমূলী গুণ্ডা নয়। রোগীমৃত্যু হলেই ডাক্তারের উপর চড়াও হওয়ার যে কালচার মুখ্যমন্ত্রী লাই দিয়ে দিয়ে তৈরি করেছেন, সেই কালচার বন্ধ হওয়া দরকার। নয়তো প্রশাসনিক গাফিলতির জন্য আপনাদের যদি এরপর রাস্তাঘাটে উত্তম-মধ্যম জোটে, অবাক হবোনা একদমই।








