রোজ ভোরে উঠে ভাবি,
এবারে শুনতে পাবো দাবীগুলো মানা হয়ে গেছে,
ছেলেমেয়েগুলো আর অনশনে নেই,
সক্কলে অবশেষে বাবা মা’র কাছে ফিরেছে।
একটা সফ্টওয়্যার প্রোগ্রাম, কয়েকটা সি সি টি ভি
কিঞ্চিৎ কাজে স্বচ্ছতা,
তার সাথে মেয়েটা’র বিচারে দ্রুততা,
যে সব ভাববার কথা ছিলো রাষ্ট্রেরই,
সেই ভাবনার কাজটা তো করে দিয়েছে এরা ।ভুল সংশোধনে তবে কত আর দেরি!
রোজ ভোরে উঠে ভাবি,
আজকে শুনতে পাবো
অভয়া শুনানি হবে রোজ ফাস্ট ট্র্যাকে,
সুপ্রীম কোর্ট থেকে তাই নির্দেশ।
যে ক’জন জড়িত সব ধরা পড়ে গেছে একে একে,
সি বি আই নিশ্চিত করে দিয়েছেন অপরাধ নিশ্ছিদ্র
প্রমাণের পেশে,
রোজ ভোরে উঠে ভাবি,
বিচারের দ্রুততায় ভীষণ কাঁপছে ভয়ে ধর্ষক আছে যত দেশে।
রোজ ভোরে উঠে ভাবি,
দাবী মানবার পরে প্রত্যন্ত গাঁ থেকে রওনা দেওয়া ক্যান্সারাক্রান্ত কিশোরের বাবা,
আগে থেকেই জানবেন, অমুক হাসপাতালে ছেলের জন্য বেড আছে।
ক্রমশ আলগা হয়ে অবশেষে খসে গেছে দালালের থাবা,
প্রাইভেটে ‘সাথী’ হওয়া ছেড়ে,
লোকের ভরসা ফের ফিরেছে সরকারি হাসপাতালেই,
যেমন ট্রেনের রিজার্ভ, সেরকমই লহমায় বাড়ি থেকে রোগী নিয়ে বেরোনো মানুষ,
জেনে যায় কোথায় রয়েছে বেড, কোনখানে নেই।
আর সেই স্বচ্ছ স্বাস্থ্য-পরিষেবার জন্য সাধারণ লোক ধন্যবাদ দিচ্ছেন কোনো জুনিয়র ডাক্তারকে না,
যিনি দাবী মেনে নিয়ে সে ম্যাজিক সাকার করেছেন,
সেই নেতাটিকে।
রাজ্যের সকলেরই যার মুখ চেনা।
রোজ ভোরে উঠে ভাবি,
‘গোল্ড মেডালিস্ট’ লেখা ডাক্তারটি
মেধা নাকি থ্রেটের ফসল,
সন্দেহে থাকবে না আগামীর রোগী,
নম্বর তারই ভালো হবে নিশ্চিত,
পড়াশোনা রোগী দেখা দুটোতেই যে থাকবে খুব মনোযোগী,
সে কোনো দলের আর কোন দাদা’র ঘনিষ্ঠ সাথী কিনা, তাই নিয়ে ভাববেন না আর কোনো একজামিনার,
থ্রেট মুছে শিক্ষাতে গ্রেট হবে ফের বাংলা,
লোকে সম্মান দেবে শুনবে যখন,
অমুক কলেজ থেকে পাশ করেছেন সেই ডাক্তার।
রোজ ভোরে উঠে এইসব হাবিজাবি ভাবি,
তারপর…
তারপর..
তারপর…
তারপর গুনে নিই অনশনে হয়ে গেলো কতদিন পার।









