WEST BENGAL JUNIOR DOCTORS’ FRONT
প্রেস বিবৃতি, ২৩/০২/২০২৫
অভয়ার ন্যায়বিচারের জন্য যে ব্যাপক নাগরিক আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা দেশ এমনকি গোটা বিশ্ব কে আলোড়িত করেছে, তা বিশেষত আমাদের রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভয়ানক দুর্নীতি, সমস্যার দিক গুলিকে সবার চোখের সামনে আনতে পেরেছে। জনস্বাস্থ্য যে অধিকারের আন্দোলনের বিষয় তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সকল মানুষের এই অভূতপূর্ব লড়াই তে। বহু দাবি দাওয়া উঠে এসেছে যা আসলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন করতে পারে। চিকিৎসক – স্বাস্থ্যকর্মী -রোগী সকলেই আসলে যে একটাই পক্ষ এই দাবি গুলো আদায় করার শক্তি হিসেবে তাও প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আমাদের ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট এর যে দশ দফা দাবি তার অনেকটাই এই দাবি গুলোকে প্রতিফলিত করে।
কিন্তু আজ এতদিন পরেও বেশিরভাগ দাবির সামান্য অংশ ই পূরণ হয়েছে। ৬ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যে স্টেট টাস্ক ফোর্স মিটিং এর কথা মাসে একটা করে হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন সভাগৃহে, তা সুপরিকল্পিত ভাবেই আয়োজন করা হয়নি।
অথচ, ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পারছি প্রতিটি মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্য সচিব এর একটি নোটিশ মারফত জানানো হয়েছে যে আগামীকাল ধনধান্য অডিটোরিয়াম এ ‘চিকিৎসার অপর নাম সেবা ‘ শীর্ষক একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে। স্টেট গ্রিভেন্স রেড্রেসাল সেল এর তরফ থেকে যার মূল অতিথি মাননীয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী।
সেই অনুষ্ঠানে যাওয়ার ফতোয়া বিভিন্ন কমিটি মারফত মেডিক্যাল কলেজ তথা হাসপাতালে পৌঁছে গেছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কমিটি/ ব্যক্তিরাও বাধ্য ছেলেদের মতন তা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এনারা সেই প্রিন্সিপাল যাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্য সভায় জোর গলায় চুপ করিয়ে বসিয়ে প্রমাণ করেছিলেন আসলে থ্রেট কালচার এর মূল হলো ক্ষমতা। সেই ক্ষমতা ও ভয়ের প্রয়োগ করে কুপন মারফত আসন বুকিং করে চিকিৎসক, শিক্ষকদের ও সাথে ছাত্রদের শাসক অনুগামী প্রমাণ করার রাজনীতিকে আমরা ধিক্কার জানাই।
সভার আহ্বায়ক গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেল। অভয়া পরবর্তী আন্দোলনে নবান্ন সভাগৃহে আমাদের সাথে মিটিং এ আমাদের অন্যতম দাবী মেনে বড় মুখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলছিলেন জুনিয়র রেসিডেন্ট, সিনিয়র রেসিডেন্ট ও মহিলা ছাত্র প্রতিনিধি সহ সিনিয়র ডাক্তারদের নিয়ে স্টেট টাস্ক ফোর্স তৈরি হবে, আর প্রতি মাসে মাসে একাধিক মিটিং এর প্রতিশ্রুতি দিলেন। অক্টোবর থেকে নতুন বছরের ফেব্রুয়ারি এই ছয় মাসে সেই কমিটি গঠন হল না। এবং একাধিকবার মেল করা, এই গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেল কে জানানো সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে এই স্টেট টাস্ক ফোর্সের কোন মিটিং করা হয়নি। তাই কাল এই সরকারি সভাঘরের ‘ইভেন্ট’ এ আরো কিছু প্রতিশ্রুতি বার্তা দেওয়ার আগে যে দাবি গুলো মেনে নেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন সেই কথা গুলো আবার মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
দিকে দিকে এই মিটিংয়ে যোগদানের জন্য সব কলেজ ও হাসপাতাল প্রশাসন কে নোটিশ পাঠাচ্ছেন সেই স্বাস্থ্যসচিব যিনি অবৈধ ট্রান্সফার থেকে শুরু করে একাধিক দুর্নীতিতে প্রত্যক্ষ যুক্ত। যার ১৩৭ পাতার ফাইল আমরা মুখ্য সচিব মারফত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠালেও একবিন্দু তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো হয়নি বরং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক পদে বহাল থেকে প্রতিনিয়ত দুর্নীতিকে লালন পালন করতে সাহায্য করে চলেছেন।
প্রতিটি মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স, গ্রুপ ডি কর্মচারী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দের যে ব্যাপক শূন্যপদ রয়েছে তাতে দ্রুত, স্বচ্ছ নিয়োগের যে দাবি আমরা করেছিলাম তাকে সেই নবান্নের মিটিং এই মুখ্যমন্ত্রী কার্যত আদালতের জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে নস্যাৎ করে দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যকর্মীদের ট্রান্সফার পলিসি নিয়ে অভিযোগ ভুরি ভুরি। শাসকদলের স্নেহধন্য হলে বছরের পর বছর পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পাওয়া আর কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই প্রতিহিংসামূলক ট্রান্সফার হিসেবে দূর দূরান্তে পোস্টিং দিয়ে ‘সবক’ শেখানোর সংস্কৃতির শিকড় স্বাস্থ্যভবনের গভীরে। এমনকি সুবিধাজনক জায়গায় পোস্টিং পাইয়ে দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন মত ঘটনা গুলো কার্যত ওপেন সিক্রেট।
সাধারণ রোগীদের যাতে হয়রানি কমে, তারা যাতে হাসপাতালে শয্যা পাওয়ার জন্য একটা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত রেফারেল সিস্টেম এর সাহায্য পান সেটি ছিল আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি। আমাদের রাজ্যের ত্রিস্তরীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে যাতে যথাযথ পরিকাঠামো থাকে, দূর দূরান্তের মানুষদের কেবল শহরের টারশিয়ারি চিকিৎসা কেন্দ্র গুলোর মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকতে হয়, যে চিকিৎসা গ্রামের বা জেলা হাসপাতালে সম্ভব এবং যা তাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে তার জন্য যাতে অপ্রয়োজনে কলকাতাগামী না হতে হয়, বা আপৎকালীন কোনো রোগীকে কোন হাসপাতালের নিয়ে গেলে বেড পাওয়া যাবে এবং সেই ইমারজেন্সি চিকিৎসার পরিকাঠামো সেখানে আছে কিনা তা যাতে রোগীর বাড়ির লোকেরা স্পষ্ট জানতে পারেন তার জন্য আমরা দাবি করেছিলাম কেন্দ্রীয় রেফারেল সিস্টেম এর, যেখানে কেন্দ্রীয় হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে সমস্ত ব্যবস্থা করার কথা বলেছিলাম। যাতে দালাল চক্রের অবসান করা যায়, অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালে শয্যা পেতে বেআইনি ভাবে কাউকে টাকা দিতে না হয়, সেটার জন্য দাবি জানিয়েছিলাম প্রতি হাসপাতালে বিভিন্ন বিভাগের ফাঁকা শয্যা কত আছে তা স্বচ্ছ ভাবে বেড ভ্যাকেন্সি মনিটর বোর্ডের মাধ্যমে রোগীর আত্মীয়রা যাতে জানতে পারেন। আন্দোলন চলাকালীন কি অনায়াসে বারবার মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিব এরা বলেন এই দাবি গুলো মেনে নেয়া হয়েছে। অথচ হাসপাতাল গুলিতে আসলেই বোঝা যাবে এগুলোর কোনটারই কোনো অস্তিত্ব নেই।
ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল কাউন্সিল ও রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের ব্যাপক দুর্নীতি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। অথচ দেখা যাচ্ছে থ্রেট কালচার এর মাথারা সেখানে দিব্যি অবস্থান করছেন ও প্রতিহিংসামূলক কাজ করে চলেছেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। একই সাথে বিভিন্ন থানা মারফত নোটিশ পাঠিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারদের ভিত্তিহীন ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে অথচ ঠিক কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এই জরুরি তলব তা কোনবারই স্পষ্ট করা হচ্ছেনা।
অন্যদিকে প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন, কলেজ -ভিত্তিক বিভিন্ন কমিটি তে ( ICC , Anti Ragging, College টাস্ক ফোর্স) গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ছাত্র প্রতিনিধি রাখার প্রতিশ্রুতি এখনও অধরা।বরং দেখা যাচ্ছে প্রতিটা কলেজের হুমকি সংস্কৃতির ধারক বাহকরা একের পর এক নতুন নামে সংগঠন খুলে নিজেদের সংগঠিত করছে এবং তারাই আবার মুখ্যমন্ত্রীর এই সভাতে যোগদান করার কথা প্রেস বিবৃতি দিয়ে জানাচ্ছে।
যে সন্দীপ ঘোষ, আশীষ পান্ডেরা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করে (সরকারি হাসপাতালে নিম্নমানের ওষুধ, নিম্নমানের চিকিৎসার সরঞ্জাম এর টেন্ডার পাওয়ানো, মর্গের মৃতদেহ নিয়ে দুর্নীতি, হাউসস্টাফশিপ এর সিট কেনাবেচা সহ অসংখ্য অভিযোগ) জেলের ঘানি টানছে তাদের সঙ্গীসাথীদের উপস্থিতিতেই নাকি ‘ চিকিৎসার অপর নাম সেবা’ সভা হবে। একে প্রহসনের পরিহাস ছাড়া অন্য কিছু বলতে পারছিনা আমরা।
আসলে এই সভা অভয়া আন্দোলনের পর শাসক দলের রাজনৈতিক পেশী শক্তি প্রদর্শনের একটি জায়গা মাত্র। এই সভা ভরানোর জন্য বিভিন্ন কলেজ থেকে লোক নিয়ে যাওয়ার আয়োজন চলছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই, ঠিক যেভাবে রাজনৈতিক সভা ভরানোর জন্য তোড়জোড় চলে।
আমরা ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট সংগঠনগত ভাবে এই সভায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকব কারণ এটিকে আমরা স্বাস্থ্য দূর্নীতি ও অন্যান্য মূল ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর এই অপচেষ্টা হিসেবেই মনে করছি।আমরা আরও মনে করি স্বাস্থ্য কোনও সেবা-দানের বিষয় নয়, স্বাস্থ্য আসলে প্রত্যেক মানুষের অধিকার। আর সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা ভাবলে যেই প্রতিশ্রুতিগুলি ইতিমধ্যে সরকারের তরফ থেকে এসেছে সেগুলি নিয়ে উত্তর তারা দিতেন।
অনেক রেসিডেন্ট ডাক্তার, মেডিকেল ছাত্রছাত্রীই হয়তো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপের মুখে পরে সেখানে যেতে বাধ্য হবেন। সপ্তাহের প্রথমদিন সোমবার, ২৪০০ এরও বেশী ডাক্তারদের উপস্থিতির ফরমান জারি করা হয়েছে, হাসপাতাল শূন্য করে উত্তরবঙ্গ থেকে রাজ্যের দূরদূরান্ত থেকে ভয় দেখিয়ে আনা ডাক্তারদের অনুপস্থিতিতে সাধারণ রোগী মৃত্যু হলে বা পরিষেবা বিঘ্নিত হলে তদন্ত করে নিজেদের দায় অনায়াসে এড়িয়ে সেই জুনিয়র ও সিনিয়রদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে নাকি এক্ষেত্রে শাসকের স্নেহধন্য হওয়ার কারণে পরিষেবায় বুড়ো আঙুল দেখিয়েও সন্দীপ ঘোষের মতো প্রাইজ পোস্টিং এর বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হবে, তাতে নজর থাকবে।
ইভেন্ট-এর ফতোয়া ও তাতে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি আর নীচে ছোট্ট করে ‘must be ensured that patient care services are not affected’ লিখে অনায়াসে দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে, যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনার দায় যেমন ভাবে অতীতেও ডাক্তারদের ঘাড়ে এনে ফেলা হয়েছে এরপরেও তার অন্যথা হবেনা, একথা পরিষ্কার। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিষেবার বেহাল দশাকে আড়াল করতে ডাক্তারদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা চলবে, দুর্নীতিগ্রস্ত ডাক্তারদের ব্যবহার করে ভয়ের রাজনীতি চলবে এবং সেই ভয়কে হাতিয়ার করে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো থেকে যাবতীয় ভাবে হাত ঝেড়ে নিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের অধিকারকে সেবা ভিক্ষায় পর্যবসিত করা চলবে।
আমরা ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়ার ডক্টরস ফ্রন্ট তা মানিনা। আমরা জানি পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও ডাক্তাররা তা মানেননা। আমরা বিশ্বাস করি সাধারণ মানুষ তার হকের দাবিকে সেবায় বা দানে পরিণত হতে দেবেননা, যা কয়েকজন আমলা বা ডাক্তারদের মানবিকতার ওপর নির্ভর করে এবং সময়ে সময়ে ওপরমহলের নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে পরিমাণে বাড়বে বা কমবে।
আমরা আমাদের যে প্রশ্নগুলি এতবার এতদিন ধরে সরকারের কাছে জানিয়ে এসেছি এবং যার উত্তরে আমরা শুধু পেয়েছি মিথ্যে আশ্বাস আর সাধারণ মানুষ পেয়েছে শত্রু হিসেবে ছিনিয়ে দেওয়া এই ডাক্তার শ্রেণী। এর পরিবর্তন আসবে আমাদের হাত ধরেই। এই সভার প্রচারের কাজে কলেজে কলেজে গিয়ে অভিযোগ গ্রহণের নামে হয়েছে মিথ্যা প্রহসন এবং নতুন লবির ধমকানি চমকানি।
আমরা আগামী এক মাস বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অভিযোগ সংগ্রহ কর্মসূচি চালাব। যেখানে কেবল চিকিৎসক নয়, রোগীদেরও কি কি অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তা সামনে এনে রাখবো। বেশিরভাগ হাসপাতালেই রোগীরা বা রোগীর পরিজন কোনো অসুবিধায় পড়লে কীভাবে অভিযোগ জানাবেন, কোথায় অভিযোগ জানাবেন তা বুঝতে পারেন না। রেফার এর জটিলতা বুঝতেও সম্যক সমস্যা হয়। হাসপাতালে শয্যা না পাওয়া, দালাল চক্রের মাধ্যমে টাকা দিয়ে পেতে বাধ্য হওয়া, হাসপাতালের ফার্মাসি থেকে বহু প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া, একাধিক কোম্পানির স্যালাইন সহ বহু ওষুধ ব্ল্যাকলিস্ট হওয়ার কারণে ও হাসপাতাল গুলিতে বিকল্প ব্যবস্থা না করার ফলে বারবার বাইরে থেকে স্যালাইন, ওষুধ কিনতে বাধ্য হওয়া সহ আর যা যা অভিযোগ আমরা পাব নথিবদ্ধ করা হবে এবং তা থেকে আসল দাবিপত্র বানানো হবে। অন্যদিকে চিকিৎসক , মেডিকেল ছাত্র ছাত্রী, স্বাস্থ্যকর্মীদের যে অভিযোগ/ অসুবিধা তা নিয়েও অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হবে সার্ভের মাধ্যমে।
আমরা মনে করি যথাযথ ভাবে এই অভাব অভিযোগ এর কথা গুলো সকলের সামনে আসা উচিত। সেই জন্যেই আমাদের এই কর্মসূচি চলবে। আমরা জুনিয়ার ডক্টরস ফ্রন্টের তরফ থেকে সাধারণ রুগী, ডাক্তারি পড়ুয়া, জুনিয়ার ও সিনিয়র চিকিৎসকদের আসল “grievance” আপনাদের সামনে আনবো, এবং তারপর হবে “চিকিৎসা শুধু সেবা নয় চিকিৎসা আমাদের অধিকার”।
কিন্তু দিনশেষে আমরা ডাক্তার, রাজনীতি আমাদের পেশা নয়। অভয়ার সুবিচারের দাবিতে আন্দোলন চলবে এবং দীর্ঘমেয়াদী ভাবে অভয়ার স্মৃতিকে ও সুবিচারের দাবিকে আমাদের মনে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে প্রতিমাসে নিয়মিত অভয়া ক্লিনিক সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে আগামী ৯ই মার্চ সোদপুর অঞ্চলে একটি অভয়া ক্লিনিকের ঘোষণা করছি।









