স্বাস্থ্যের বৃত্ত, প্রণতি প্রকাশনী এবং ডক্টরস ডায়লগ-এর উদ্যোগে এবং অভয়া মঞ্চের সমর্থনে ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সুবর্ণ বণিক সমাজ সভা গৃহে অনুষ্ঠিত হল ভাষা দিবস ।
এই দিনটি ভাষা ও সংস্কৃতির অধিকার রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত হবার পিছনে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস আছে। হাজার হাজার অমূল্য প্রাণের বিনিময়ে যে দেশে অর্জিত হয়েছিল ভাষা সংস্কৃতির অধিকার, সে দেশে মৌলবাদী আগ্রাসনে মানুষের অধিকার আজ ভূলুণ্ঠিত। এপার বাংলায় স্বাস্থ্য শিক্ষা গণতন্ত্রে পাশবিক আক্রমণ আর তার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে প্রতিরোধের ঢেউ । এই পরিপ্রেক্ষিতকে মাথায় রেখে অভিনব অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ছিল উদ্যোক্তাদের।
বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ অনুষ্ঠানের সূচনা হয় স্বাস্থ্যকর্মী দীপক চক্রবর্তীর উদ্বোধনী সঙ্গীতের মাধ্যমে, যে গানে ঘোষিত সার্বজনীন স্বাস্থ্যের দাবি। এর পর সঙ্গীত পরিবেশনা করেন গানপন্থী গোষ্ঠীর স্বরজিত আর প্রলয়। ‘বাংলাভাষা উচ্চারিত হলে’ আর ‘বাংলা কখনও হয়না ভাগ’- এই দুইটি গানের বলিষ্ঠ পরিবেশনা সাংস্কৃতিক বন্ধনের সুর পৌঁছে দেয় শ্রোতাদের কাছে। গানপন্থীর শেষ পরিবেশনা ছিল ‘অভয়া – এক সূর্যের নাম’। বিগত সংগ্রামের রেশ নিয়ে জ্বলন্ত বর্তমানের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা ধ্বনিত হয় দৃপ্ত সুরে ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম অংশ ছিল বক্তৃতা মালা। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জনস্বাস্থ্য ইতিহাসবিদ সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় স্বাস্থ্য আন্দোলন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল হকিকৎ নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা করেন। স্বাস্থ্যের হাল ফেরাতে সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন প্রয়োজন এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ করেন বক্তা। পরবর্তী বক্তা অভয়া আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী এবং গুরুদাস কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপিকা গোপা মুখার্জি অভয়া আন্দোলনের শিক্ষা এবং ভবিষ্যতের পথনির্দেশ নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার শেষে একটি প্রশ্নোত্তর এবং মত বিনিময় পর্বে বক্তা এবং শ্রোতা উভয়েই ঋদ্ধ হন।
বিগত ৫ বছর ধরে স্বাস্থ্যের বৃত্ত, প্রণতি প্রকাশনী এবং ডক্টরস ডায়লগ এর উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে বই প্রকাশিত হয়। আন্দোলনের পাশাপাশি তত্ত্ব নির্মাণ এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনার আয়োজন করে উদ্যোক্তারা তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতাকে প্রমাণ করেন। এই দিন প্রকাশিত হল রুমঝুম ভট্টাচার্যের ‘দীপ জ্বেলে যাও’, শুভাংশু পালের ‘দ্রোহের দিনলিপি’, পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা সংকলন ‘লক্ষ মশাল জ্বলে’., সুকন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নিভৃত কথন’, বিষাণ বসুর ‘চিকিৎসা – বিজ্ঞান কান্ডজ্ঞান’, শুভাশিস চিরকল্যাণ পাত্রর ‘সুকুমার সাহিত্যে অটিজম’ এবং চিন্ময় নাথের ‘হাড়ের ব্যথার সাতকাহন’।
সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় এবং নটরাজ মালাকার তাঁদের ‘প্রসঙ্গ স্বাস্থ্য- পরিষেবা থেকে পণ্য’ বইটি এই দিন ডঃ পুণ্যব্রত গুণের হাতে তুলে দেন। এই বই তাঁরা উৎসর্গ করেছেন গণ স্বাস্থ্য আন্দোলনের নির্ভীক যোদ্ধা ডঃ গুণকে।
প্রণতি প্রকাশনী এবং সম্পর্কের বই-এর কাউন্টারে সাজান ছিল গুরুত্বপূর্ণ বই-এর সুলভ পসরা। অধিকার অর্জনে আহ্বান নামে একটি পুস্তিকা উপস্থিত সবাইকে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়. শ্রমজীবী ভাষা পত্রিকার তরফ থেকে অভয়া মঞ্চের তিন জন আহ্বায়ক – ডঃ পুণ্যব্রত গুণ , ডঃ তমোনাশ চৌধুরী এবং মনীষা আদকের সাক্ষাৎকার সংকলন।
সুদীপ দস্তিদারের গান এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রাপ্তি। কোন যন্ত্রানুষঙ্গ ছাড়া প্রয়াত শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলায় গান গাই’ এর সঙ্গে গলা মেলান উপস্থিত শ্রোতারা। অনুষ্ঠানের শেষ করেন ‘ডিঙ্গা ভাসাও’ গানটি গেয়ে। সাথিদের সঙ্গে নিয়ে দুস্তর সাগর পেরোবার শপথ নিয়ে শেষ হয় এই অনুষ্ঠান।।











সুন্দর বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ণ। ঋদ্ধ হয়েছি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে।