‘যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই’ – বললেই কিছু লোকজন রে রে করে তেড়ে আসছেন। এটাই বোধহয় স্বাভাবিক হয়েছিল। আর যুদ্ধ কোনও খনি বাড়াবাড়ি তো জীবের আদিম প্রবৃত্তি, রূপান্তরের জন্য আণুবীক্ষণিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র। এক প্রকার যুদ্ধ করে নাকি জয়ী হতে হয় তাহলে যুদ্ধ হচ্ছে অস্তিত্ব রক্ষার একটা দিক সেই সঙ্গে আরেকটা কথা আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, আদিম মানুষেরা জোটবদ্ধ হয়ে থাকত বলেই নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পারত। দেখা যাচ্ছে যারা বা যাদের মধ্যে একা থাকার প্রবণতা বেশী ছিল তারাই কিন্তু পৃথিবী থেকে মুছে গেছে।
বাদ দিন এত তাত্ত্বিক কথাবার্তা। খুব সহজ করে বলা যাক, যে পরিবেশে দেখবেন যত বেশী হিংস্র মানসিকতা তারা কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়মে মুছে যায়। যেমন যার মধ্যে রাগ বেশী তার উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদয়ের সমস্যা নেই এটা বলার মত লোক পাঁচ শতাংশ পাবেন কিনা গ্যারান্টি দিতে পারবেন না। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে তার আয়ুক্ষয় হচ্ছে। এবার একটু মজার ছলে বললে বলা যেতে পারে, যদি বিষয়টি মজার নয়। যে পুরুষটি যখন স্বামী হিসেবে বউয়ের উপর শারীরিক নির্যাতন করেন, তাদের বউরাই কিন্তু অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে যান। কারণ রক্তাক্ত পৃথিবীতে কে বাঁচতে চায়!! আবার একটু খেয়াল করলে, দেখতে পাবেন ছোট থেকে মার খেয়ে বড় হওয়া শিশুটি, মনস্তাত্ত্বিক রোগের শিকার হয়। না হলে প্রচণ্ড মিথ্যাবাদী হয়ে ওঠে। এত গেল ক্ষুদ্র পরিসরের গল্প। আবার বড় পরিসরে দেখুন আফগানিস্তানে আমেরিকা কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করেও কিন্তু পরিস্থিতি বাগে আনতে পারেনি। কারণ তারা যুদ্ধ করে জয় করতে চেয়েছিল। অপরদিকে ভারত স্রেফ ভালবাসা দিয়ে আফগানিস্তানের পাঠানদের মন জয় করতে কিন্তু সক্ষম হয়েছে।
হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন আমি এখনকার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার জন্য এত গৌরচন্দ্রিকা করলাম। আচ্ছা সত্যি করে নিজের বুকে হাত রেখে বলুন তো, যুদ্ধ করে কার কী লাভ হয় বা আদিতে হয়েছে!!? মানুষ মারা যেত বা মারা গেছে, খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পড়াশোনার ক্ষতি হবে আর একটা প্রজন্মের শিক্ষায় বড় দাগ রয়ে যাবে। শুধু তাই নয় সমাজের প্রতিটি স্তরের লোকজনের মন মানসিক সমস্যার শিকার হয়। তাতে কি আখেরে লাভ হয়!? তাই যাদের যুদ্ধাস্ত্র বিক্রি করতে হয় তাদের দায় থাকে যুদ্ধের। আপনার বা আমার কিছু ক্ষতি ছাড়া কিছু লাভ হয় না।
ও আপনি তো এবার জাত পাতের কথা তুলবেন। তাহলে আপনাকে দুটো কথা বলি আপনি আমি হচ্ছি, ছাগলের তিন নম্বর সন্তান। তাই আমরা না বুঝে নেচে যাচ্ছি। আর যার জাত যাই হোক না কেন, সে কিন্তু মানুষ আর মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। একজন আরেকজনকে ছাড়া অপরিপূর্ণ। জাতের নামে যারা বজ্জাতি করে, বিশ্বাস করুন তাদেরও নিজস্ব হিসেবের অংক করা থাকে। একটু যদি খেয়াল করে দেখেন, দেখতে পাবেন তাদের গলায় এক সুর কখনোই শুনতে পাবেন না সব সময়। তারা সময়ে বিদ্বেষ ছড়ায় আবার সুযোগ বুঝে গলা জড়ায়। আপনি হিন্দু হোন বা মুসলিম হোন, জানবেন ধর্মের দালালরাই আসল শয়তান। যারা সাম্যের গান গাওয়া লোকেদের সহ্য করতে পারেনা সে ৫০০ বছর আগের সাম্যের গান গাওয়ার জন্য চৈতন্যদেবকে যেমন খুন হতে হয়েছিল। তেমনি আজ তোড় কমে গিয়ে হয়তো গালিগালাজ শুনতে হয়। কিন্তু বিষয়টা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। কারণ ধর্মের দালাল আর যুদ্ধাস্ত্রের বেনিয়াদের যুদ্ধকে বা বিদ্বেষকে মূলধন করে খেতে হয়। ভাবুন ভাবুন ভাবা প্র্যাকটিস করুন।
তাই বলি মনে বিদ্বেষের গাছে জল না দিয়ে একটা ভালবাসার চারাগাছ পুঁতুন, লাভবান হবেন।










