যাঁরা কটাক্ষ করেন, সরকারের চোর-চামাররা উডবার্ন ওয়ার্ডে এত আতিথেয়তা কেন পান…
যাঁরা বুঝতে পারেন না ভোটের আগেই মমতা ব্যানার্জির পায়ে প্লাস্টার লেগে যায় কী করে…
যাঁরা ইডি সিবিআই এর হাত থেকে সরকারি গুণ্ডাদের শেল্টার দেওয়া নিয়ে ডাক্তারদের দোষারোপ করেন…
যাঁরা অবাক হয়ে যান সন্দীপ ঘোষের বেপরোয়া দুর্নীতি দেখে…
তাঁরা চিনে রাখুন এই সরকারের রূপটা। সিনিয়র রেসিডেন্ট পোস্টিংয়ের কাউন্সেলিং করিয়ে নিজেরা তাতে সিলমোহর দিয়েও, নির্লজ্জের মত বেছে বেছে আন্দোলনের নেতাদের অন্যত্র পোস্টিং দেওয়ার যে খোলাখুলি নোংরামো সরকার করলো, এই রূপটা খালি দেখে রাখুন। দু- তিনবছরের পোস্টিংয়েই যদি এত দাঁত-নখ বের করা হয়, তাহলে চাকরিরত ডাক্তারেরা কোন সাহসে প্লাস্টার না করে পাঠাবেন!!এই নির্লজ্জ বেহায়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিকার ডা শ্যামাপদ গড়াই, ডা অরুণাচল দত্ত চৌধুরী – বলতে শুরু করলে নামের শেষ থাকবে না।
তৃণমূল সরকার ডাক্তারদের অপছন্দ করে এমনটা নয়। যে ডাক্তারেরা জমির দালালি করেন, স্কয়ার ফুটে তোলা তুলে কালীঘাটে পাঠান, মৃতদেহ পাচার করে পয়সা পাঠান – এসব ডাক্তারদের তৃণমূল মাথায় করে রাখে। যদি বা এসব না করতে পারে, যদি অন্তত চোরগুলোকে বিজেপির সাময়িক হেনস্তা থেকে সেটেলমেন্ট হওয়া অব্দি শেল্টারটুকু দেয়, নিজের দায়িত্বে দিনের পর দিন হাসপাতালে ভর্তি রাখে, তাতেও হবে। যদি তাও না হয়, অন্তত তৃণমূলের নিরক্ষর ডাক্তারগুলোকে, যাদের পেটে লাথ মারলেও দুটো ডাক্তারি টার্ম বেরোবেনা, অন্তত তাদের অনার্স দিয়ে পাশটুকু করিয়ে দিক….
না কিছুই করবেনা, সরকারের কোনো কাজে লাগবেনা, তায় আবার আন্দোলন করবে আর ভাববে মুখ্যমন্ত্রী কোলে বসিয়ে আদর করবে – এটা ভাবা কষ্টকল্পনা। সরকার যা করার তাই করেছে, আর পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, সরকার যা ইচ্ছা, তাই করবে। করছেও তো!! ২৬০০০ চাকরিহারা আজ, সরকারের দুর্নীতির প্রত্যক্ষ প্রভাবে। মহিলার চোখে কোনো অনুশোচনা আছে? চোখের চামড়া আছে মহিলার? আপনার জন্য ২৬০০০ পরিবার শেষ হয়ে যাচ্ছে – এই ভাবনা নিয়ে আপনি ঘুমোতে পারতেন! মহিলা সেখানে মাইক হাতে এখনো ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন নির্দ্বিধায়। তার সাথে আছে কেনা পা-চাটা মিডিয়া, আছে বেকার দু’টাকায় কমেন্ট করার সোশ্যাল মিডিয়া বাহিনী। দিল্লির পার্টনার ইন ক্রাইমের মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ভালোই শিখেছেন মহিলা।
আজ যাঁরা বুঝতে পারছেন না এই দানবীয় সরকারের কুপ্রভাব কাদের উপর সবচেয়ে বেশি পড়বে, তাঁদের জানিয়ে রাখি উত্তরটা সাধারণ জনগণ। কাকে দু তিন বছর কোথায় পোস্টিং দেওয়া হলো, আজ এই অন্যায় অর্ডার নিয়ে গাত্রদাহ হচ্ছে বটে। এসব সাময়িক, চাইলে ছেড়েও দিতে পারে টাকা দিয়ে। কিন্তু মনে রাখবেন, এই মানুষগুলো রাজ্যের সবচেয়ে মেধাবী মুখগুলোর মধ্যে অন্যতম। এরকম বহু বহু উজ্জ্বল ছাত্রছাত্রী রাজ্য ছেড়েছে, দেশ ছেড়েছে, ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। এরাও একদিন হয়তো সেই রাস্তা বেছে নেবে। সরকার ডাক্তার নিয়োগ তো বন্ধই রেখেছে। রাজ্যে থাকলেও প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবে হয়তো বা, সরকারি হাসপাতালের দশটা গরীব মানুষ এদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিতই থাকবেন। মানুষ ডা গড়াই, ডা অরুণাচলের চিকিৎসা পায়নি, ওনাদের কিন্তু দিন কেটে গেছে নিশ্চিন্তে। শেষে সরকারকেই আদালতে কান ধরতে হয়েছে! রাজ্যের লোকের ট্যাক্সের টাকায় কেস লড়ে গোহারা হেরে আবার নবদ্যোমে অন্য দুর্নীতিতে নেমেছে আর কি!!সরকারি হাসপাতালের ক্লাসের অবস্থাও তথৈবচ। পশ্চিমবঙ্গের মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারদের যে গরিমা বিশ্বব্যাপী ছিল, সেই জিনিসটাকেই এরা গলা টিপে মারছে।
তারপর আপনারা একটা চৌকোনা কার্ড নিয়ে ছুটতে থাকবেন, কোথায় একটা ভালো ডাক্তার পাওয়া যায়!! অবশ্য না পেলেও ক্ষতি নেই। ভেলোর বেশি দূর নয়।










