মূলে ফিরে এসো এইবারে। একবার একসাথে লড়ি
ওখানে কাজ আছে মান নেই, এখানে উল্টো ঠিক,
রোজগার খাড়া বড়ি থোড় থেকে থোড় খাড়া বড়ি,
তবুও ফেরত এসো। অন্তত এইখানে তুমি নাগরিক।
দেশটা ধর্মশালা কোন শালা বলে! বিদেশী অবাঞ্ছিত,
আপনি পাইনা শুতে , কেন বা শঙ্করাকে দেবো ডাক,
তবু ঠিক নাগরিককে বিদেশি দাগানো হলে শাস্তিরহিত,
তাও ঘোর অন্যায় । ভুল বুকে কেন হবে বন্দুক তাক?
এদিকে বাংলাভূমি কাজহীন, বাঁজা। কারখানা ভরা আগাছায়
যে কটি রয়েছে কাজ পার্টির দাদা আর চাঁদা নির্ভর,
লাল, সাদা নীল পরে হয়তো গেরুয়া,
কী রং রাজার তাতে কার আসে যায়,
এখানে শুকিয়ে গেছে যোগ্যতা মেধা। চাকরির ভিত গড়া ঘুষের ওপর।
তোমার ক্ষমতা নেই জানি । সংসারে হালে নেই পানি,
নয়তো কে খামোখা খাটতে যেতো বিদেশ বিভুঁই, অবাংলা-প্রদেশে?
অশন-বসন-ভাষা আলাদা সেখানে, গালি সয়ে তাও টেনে যেতে হয় ঘানি,
শেকড়ে যে রস নেই, ঘর ভেসে গেলে কে বা ডাকে ভালোবেসে!
এই সব গায়ে নিয়ে কাজ করা যেতো, বাঙালির সাথে তুমি ভারতীয় বটে,
সংবিধানের মতে গোটা দেশে কাজ আর বসবাস করতেই পারো,
তবে যারা গদিধারী, সে বই পড়ে না তারা। কোনো বিভাজনে পেলে ফুটেজ ফোকটে,
সেইমতো কাজ করে, ধর্ম প্রদেশ ভাষা..
কত কী যে আরো!
আপাতত তুমি টার্গেট।
গোটা দেশে বেড়েছে বেকার,যুবদের চাকরি উধাও,
দেড়শো কোটির ভিড়ে বাংলাদেশীর ভিড় অত নয় কিছু আহামরি,
যাতে এত কাজ যেতে পারে।
কার দোষে তারা এই দেশে, চিৎকারে ঢাকা পড়ে উত্তরটাও,
যত ভিত নড়ে তত মারা ভোটে দাঁও,
তাই হয়ে নাগরিক ঠিক তাও কাঁপো থরহরি।
তুমি ভুল নও ওহে পরিযায়ী বাঙালী,
তবুও চোখ-শূল কেন বোঝো আশা করি,
নজর ঘোরাতে হবে আজ যেন তেন।
হতমানে ওইখানে আর থাকা কেন,
ফিরে এসো মূলে।
এসো একসাথে লড়ি,
পুরনো দিনের মতো বাংলার নাম নিয়ে ,
দরকারে এসো আজ একসাথে মরি।
যে বাংলা মুছে গেছে নানা তেল-রঙে,
এ সুযোগে সেই মা’কে পুনরায় গড়ি।











