কোন একটা হিন্দি সিনেমার একটা দৃশ্য মনে পড়ল। খোলা গর্তের পাশে দাঁড়িয়ে এক মাতাল গর্তের দিকে আঙুল তুলে জড়ানো গলায় বলছে – পঁচ্চিশ, পঁচ্চিশ… কোনও কৌতূহলী ব্যক্তি ব্যাপারটা কী জানার আগ্রহে গর্তের দিকে ঝুঁকলেই মাতাল তাকে পশ্চাদ্দেশে এক লাথি মেরে গর্তে ফেলে দিচ্ছে… এবং কাউন্টিং শুরু করছে… ছাব্বিশ…ছাব্বিশ…
রোববারের একটি চমৎকার দুপুর ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ দেখে কাটানোর পর সিনেমাটা নিয়ে দু’কথা লিখব ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম অন্তত এটুকু লিখব যে, খারাপ ছবি বানানোর দক্ষতার ক্ষেত্রে এই ছবিতে নন্দিতা-শিবপ্রসাদ জুটি নিজেদেরও ছাপিয়ে গেছেন। যদিও শুধুই সোহিনী সেনগুপ্তকে দেখার জন্যই হলে যাওয়া যায়। এবং খানিকটা রজতাভর জন্যও – আর রজতাভর সাগরেদ কনস্টেবলের জন্যও (অভিনেতার নাম জানি না)। এঁদের পাশাপাশি অতনু বর্মন চমৎকার, এবং অর্জুন চক্রবর্তী অভিনয়ে-গানে অনবদ্য। তবে সবকিছু ছাপিয়ে খারাপ চিত্রনাট্যের দুর্গন্ধ ও সম্পাদনার নিদারুণ ব্যর্থতা এতখানিই সর্বময় যে বসে থাকাটাই কষ্টকর। আর শেষটুকু তো অনির্বচনীয়!
কিন্তু এর আগে একটি খুব-খারাপ বাংলা ছবিকে খারাপ বলায় বড়রা বকে দিয়েছিল। বলেছিল, বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এই খারাপ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না স্রেফ আমাদের মতো আঁতেল লোকদের জন্যই (মাইরি বলছি, আমাকে এতখানি ইম্পর্ট্যান্ট ভাবার মতো শুভানুধ্যায়ী আজও রয়েছেন, এই মর-পৃথিবীতেই রয়েছেন) – এমত ভর্ৎসনার পর কোন হিন্দি ছবি কতখানি অ্যাবসার্ড, তার তালিকাও দিয়েছিলেন – তো যা-ই হোক, আজকাল আমি বাংলা ছবি নিয়ে কিচ্ছুটি বলি/লিখি না – পাছে লিখে/বলে ফেলি, সেই ভয়ে দেখতেই যাই না। আর মাথার উপর যখন এমনকি স্বরূপ বিশ্বাসও নেই, তখন অনাথ বাংলা ফিল্ম ইণ্ডাষ্ট্রির উপর মায়াদয়া করাটাই মানবিকতা।
তারপরও, আজ সকালের কাগজে যখন দেখলাম যে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে এই ছবি দেখে ফেলেছেন এক লাখ তিরিশ হাজার মানুষ – তখন উপরের ওই মাতালের গল্পটা মনে পড়ে গেল। এটুকুই। বলাই বাহুল্য, ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ নিয়ে আমি কিছুই বলছি না। ভালো বা খারাপ, কিচ্ছুটি বলছি না। সোক্রাতেসের কথার রকমফের করে বলতে পারি : দেখতে যেতে পারেন – ভালো লাগলে তো মিটেই গেল, আর ভালো যদি না-ও লাগে, তাহলে বাংলা ফিল্ম ইণ্ডাষ্ট্রির পাশে দাঁড়ানো হবে, সেও কিছু কম ভালো কাজ নয়। কিন্তু আমি তা-ও বলছি না, কেননা আমি কিচ্ছু বলতে চাইছি না।
ও হ্যাঁ, সিনেমার ওই মাতালের গল্পটা আরও এক কারণে মনে পড়ে গেল। হকার উচ্ছেদ বা উচ্ছেদের রাজনীতি দেখে একশ্রেণীর মানুষের উচ্ছ্বাস ও উল্লাস দেখে বলা-ই যেত… কিন্তু ওই একই ব্যাপার। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়েও আমি কিচ্ছু বলছি না। মানে, কিছুই বলতে চাইছি না।









