আমার মনে হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে একটা অদ্ভুত অবস্থা তৈরি করা হয়েছে/ হচ্ছে —–শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামোর অবনমন, পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি করা, কলেজে ভর্তি নানা অজুহাতে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে বন্ধ করা, জয়েন্ট এন্ট্রান্স এর ফল প্রকাশ ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর কাউন্সেলিং বন্ধ রাখা সবই অতি ভয়ংকর পরিস্থিতি নির্মাণ করছে।
এসবের সঙ্গে পাড়ায় পাড়ায় নানা পূজো, ধর্মীয় মৌলবাদকে অবাধ প্রশ্রয় দেওয়া এক ভয়ঙ্কর লুম্পেন সংস্কৃতি নির্মাণ ও পরিপুষ্ট করার অতি পরিকল্পিত রাজনীতি। যদি মেধাবী ছাত্রদের সংখ্যা এ রাজ্যে কমিয়ে দেওয়া যায়। আর এরপর যারা নানা বাধ্যবাধকতায় এই রাজ্যের কলেজে কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করবে তারা এই রাজ্যের সামগ্ৰিক কলুষিত পরিস্থিতিতে হতাশায় ভুগতে ভুগতে হীনবল, নানাবিধ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে থাকবে। ছাত্রসমাজ ঐ লুম্পেন সংস্কৃতির নিষিদ্ধ জগতের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকবে। ফলত একদিকে হতাশা থেকে মাদকের নেশা, যৌন হিংসা বিকৃতির আধিপত্য বিস্তার লাভ করবে। বর্তমান সময়ে তার মহড়া শুরু হয়েছে। আর জি কর থেকে ল কলেজ থেকে গ্ৰাম শহরে ধর্ষণ খুন যা হয়েছে তা নেহাতই আনুষ্ঠানিক মহরত।
এই কথা যখন আমাদের বিক্ষোভ সমাবেশে বলতে চেয়েছি তখন একটি মহল থেকে নানা ধরনের অপ্রত্যক্ষ বাধা আসছে। আমার অনুমান মূল্যায়ন সঠিক এটা বলছি না। তবে আমার মনে হয় অভয়া মঞ্চের সবাই শুধুমাত্র অভয়ার বিচার চেয়ে সামিল হয় নি। অভয়া কাণ্ড ব্যাপক মানুষ জনকে পথে নামতে পেরেছে এক দীর্ঘ সময়ের অবদমিত ক্ষোভ প্রকাশের পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার জন্য। তাই অভয়ার বিচার চাওয়ার আন্দোলনের সঙ্গে এই কথা গুলো যদি না বলা হয় তাহলে অভয়া মঞ্চের উপর আস্থা রেখে আন্দোলনে মানুষের অংশগ্রহণ আরও কমে আসতে থাকবে। অভয়ার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার বা নিতান্তই না হওয়ার কারণে মানুষের হতাশা আরও বাড়বে। এটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। সেটিং এর রাজনীতি এই প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য ও বাধ্যবাধকতার অংশবিশেষ।
যে কোন কিছুকেই দেখতে হলে তার নৈর্ব্যক্তিক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কোন ঘটনা/দুর্ঘটনার একটা কার্যকারণ থাকে। সামাজিক পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষিত থাকে । একটা পথ দুর্ঘটনা ঘটলে তার কারণ খুঁজে পাওয়া যাবেই। ধরা যাক কোন একটা গাড়ি নির্জন রাস্তায় একজন পথচারীকে ধাক্কা মারল। পথচারী বেচারা সঙ্গে সঙ্গে মরেই গেল, আর চালক পালিয়ে গেল। কার দোষ বেশি কার কম অথবা একজনই দোষী বোঝা যাবে কি করে, প্রমাণই বা করা যাবে কি ভাবে? গাড়ির চালক ও অন্যান্য আরোহীদের আলাদা আলাদা করে এবং একসঙ্গে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে, অকুস্থলে গিয়ে, গাড়িটা খুঁজে বের করে পুঙ্খানুপুঙ্খ ফরেনসিক তদন্ত করে সেসব করা সম্ভব। তদন্তের মূল জায়গাটা হল নিরন্তর প্রশ্ন করে যাওয়া ও তার উত্তর খুঁজে পাওয়া। শিক্ষা প্রশ্ন করতে শেখায়। বিজ্ঞান, ইতিহাস যে কোন বিষয়ে নিরন্তর অনুসন্ধান সভ্যতার বিকাশের মূল জায়গা। প্রশ্ন করার মননকে, উত্তর খুঁজে পাওয়ার বাসনাকে পিষে মারার চেষ্টা চলছে অনেক দিন ধরে। নানা উপায়ে। যারা ধ্বংসের খেলায় মাতে তারা এই চিন্তার জগতে হানাদারির কাজটা করে অনেক পরিকল্পনা করেই। এখন এমন একটা সময় যখন কিছু প্রশ্ন করতে আমাদের দ্বিধা,হয়ত বা ভয়ও। আমাদের নিজেদের মধ্যে আমরা যারা নিজেদের বন্ধু সহযাত্রী সহযোগী ভাবছি তাদের মধ্যেও এই দ্বিধা ভয়, জানা অথবা অজানা আশঙ্কা। একসময় দেখা রাজনীতির পাঠশালাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। রাজনীতি শেখার সেই প্রাথমিক পাঠে আগ্ৰহী করার পাঠ্য বই ও শিক্ষকদের কোন বন্দীশালায় রাখা হল? কারা হুকুম করল?কোন মন্ত্রী সান্ত্রী,পাইক, বরকন্দাজ এদের বন্দীশালায় পৌঁছে দিল? এসব প্রশ্ন করা হলেই যারা রে রে করে তেড়ে আসে তারা কারা? কেন তেড়ে আসে? সেই প্রশ্নহীন সমাজ তৈরির উদ্যোগ কি এখনকার এই পরিব্যাপ্ত শিক্ষা সংকটের পরিবেশ, পরিস্থিতি নির্মাণ করার বীজতলা তৈরি করে দিয়েছিলো?









