বিখ্যাত সব দুর্গাপূজায় এখন যেমন কোনো ‘থিম’ ছাড়া চলে না, তেমনি ভোটের আগে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোরও এক একটা ‘থিম’এর প্রয়োজন ঘটে। মানে, এটাই হবে আগামী নির্বাচনে ঐ দলের প্রচারের সবিশেষ নির্বন্ধ; বাকি বক্তব্যগুলো উঠে আসবে এইটাকে কেন্দ্র করে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচনের এখন অনেক দেরি থাকলেও, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোর ভোট সামনে। তাই, আগামী দিনে কেন্দ্রে শাসক দলের ‘থিম’ সাবজেক্ট হলো ‘illegal immigration with special emphasis on Rohingyas’। অবশ্য এই immigration এ কোনটা legal আর কোনটা illegal তা সবই ঠিক করবে কেন্দ্রীয় সরকার বা বলা ভালো শাসক দল। মাঝে মাঝেই নানা রকম আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়, সর্বশেষ হলো Immigration and foreigners law modification 2025 ; আর এই সংক্রান্ত একটি notificationও বিজ্ঞাপিত হয়েছে অতি সম্প্রতি। সেখানে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নাম থাকলেও একটি বিশেষ সম্প্রদায় কি যেন বলে, conspicuously absent, আর দুর্ভাগ্যবশতঃ রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই সেই সম্প্রদায়ের মধ্যে পড়ে। যদিও কিছু রোহিঙ্গা আছে যারা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ভুক্ত, তাতে করে তাদের ভাগ্য অন্য কিছু হওয়ার সম্ভাবনা বিন্দু মাত্র নেই। কিন্তু, এরা তো সকলেই ধর্মীয় ও সামাজিক উৎপীড়নের শিকার, মায়ানমারের সংখ্যাগুরু বুদ্ধিস্ট ও সামরিক বাহিনীর যৌথ আক্রমণের। তাহলে, ঠিক কী কী কারণে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে গণ্য করা দূরে থাকুক, রীতিমতো ভিলেন হিসেবেই চিহ্নিত করা হচ্ছে?
UNHCR (United Nations High Commission for Refugees) এর মতে, সারা পৃথিবীতে বলপূর্বক অপসারিত (forcefully displaced) মানুষের সংখ্যা ১২ কোটির কিছু বেশি আর রাষ্ট্রহীন মানুষের (Stateless People) সংখ্যা চুয়াল্লিশ লক্ষের মতো। রোহিঙ্গাদের দুর্ভাগ্য তারা এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যেই পড়ে। ১৯৪৮ সালে বার্মা (বর্তমান মায়ানমার) স্বাধীন হওয়ার পরে অবস্থা সেভাবে খারাপ ছিল না এবং রোহিঙ্গারা আইনসভাতেও অংশগ্রহণ করে। কিন্তু, অবস্থা পরিবর্তিত হতে থাকে ১৯৬২ সালে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে। আর, ১৯৮২ সালে নতুন নাগরিক আইনে দেশের ১৩৫টি জনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিলেও বাদ থাকে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়, অর্থাৎ তারা নাগরিক হওয়ার সমস্ত সুবিধা থেকেই রয়ে যায় বঞ্চিত। উচ্চ শিক্ষা, চাকরি, জমি ক্রয় বিক্রয় সবেতেই ঘোরতর সমস্যা। ২০১৪ সালে জনগণনায় তাদের অংশগ্রহণই করতে দেওয়া হয়নি, রাখিন প্রদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বুদ্ধিস্টদের (প্রদেশের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ) আপত্তিতে। বলা হয়, তাদের পরিচয় দিতে হবে ‘বাঙালি’ হিসেবে। মুশকিল হলো ঐ ১৩৫টি স্বীকৃত জনগোষ্ঠীর মধ্যে কিন্তু ‘বাঙালি’ও পড়ে না, বাঙালি হিন্দুরাও নয়। তবে, ঐ রাখিন প্রদেশেরই ‘কামেন’ নামে হাজার ত্রিশ মানুষের একটি ছোট মুসলিম গোষ্ঠী, সংখ্যায় সারা দেশে বোধহয় পঞ্চাশ হাজারের বেশি হবে না, তারা কিন্তু স্বীকৃত! আসলে, ধর্মীয় বিভেদ থাকলেও ভাষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের পার্থক্য বিশেষ নেই। অনুমোদন বা স্বীকৃতি সম্ভবতঃ সেই কারণেই! তাছাড়া, এতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার অভিযোগটাও হয়তো কিছুটা লঘু করা যায়!
এক সময় বার্মা মুলুকে দলে দলে মানুষ গেছে চাকরি, রোজগার ও ব্যবসার তাগিদে বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকে অন্ততঃ তিন দশক প্রতি বছর প্রায় দু আড়াই লাখ লোক যেতো বার্মায় মূল ভারত ভূখণ্ড থেকে যাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল বাঙালি। কিন্তু, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে থেকেই (১৯৩৮) ব্যাপক ভাবে শুরু হয় ‘ভারতীয় বিশেষতঃ বাঙালি বিতারণ’, হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে ; একটা বড় অজুহাত ছিল বুদ্ধের প্রতি অবমাননাকর এক পুস্তক। সেই একই গল্প, ধর্মের নামটা একটু এধার ওধার !
সহমর্মিতা (compassion) ও ক্ষমার প্রতিমূর্তির উপাসকরাও যে ক্ষেত্রবিশেষে কী রূপ ধারণ করতে পারে তা বার্মা মুলুক থেকে চলে আসতে বাধ্য হওয়া মানুষদের কাছে গেলেই জানতে পারা সম্ভব।
মায়ানমার (১৯৮৯ সালে নাম পরিবর্তিত বার্মা থেকে) সরকার ও সংখ্যাগুরু বুদ্ধিস্টদের বক্তব্য এই রোহিঙ্গারাও বাঙালি,তাই তাদের সেখানে থাকার কোনো অধিকার বা বৈধতা নেই।
তাহলে, মায়ানমারের তৎকালীন পনেরো লক্ষ রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় পরিচয় কী? সেটাই হলো, সবচেয়ে বড় সমস্যা।
প্রশ্ন দুটি, এক রোহিঙ্গারা কি সত্যিই বাঙালি, আর দুই বাঙালি হলেই তার কোনো দেশে থাকার অধিকার থাকবে না কেন?
সরকার ও বুদ্ধিস্টদের বক্তব্য, ব্রিটিশ এদের পূর্ব বাংলা ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে নিয়ে এসেছে চাষবাসের জন্য। এটা ঘটনা ব্রিটিশ রাজত্বে বিরাট জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তরিত করা হয়েছিলো তাদের আর্থিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থে। মরিশাস, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরাট সংখ্যক মানুষ গেছে এদেশ থেকে। সাঁওতাল পরগণা ও বিহারের বহু শ্রমিক গেছে উত্তর বঙ্গ ও আসামের চা বাগিচায়। তাতে সেই মানুষগুলোর অপরাধটা কোথায়?
আসামে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চাষের জন্য বাংলাদেশের চাষীদের বসিয়েছিল ব্রিটিশ নিজেদের ‘রেভেন্যু’ বাড়ানোর জন্য, যাদের বেশিরভাগই ছিল মুসলিম। স্বাধীনতার পর জমিতে অধিকার পাওয়ার ইচ্ছায় তারাই নিজেদের পরিচয় দেয় ‘অসমীয়া ভাষা ব্যবহারকারী’ হিসেবে (Na Assmiya বা নয়া অসমীয়া)। তৎকালীন অসম সমাজ কিন্তু তাদের সাগ্রহে গ্রহণ করে, নাহলে বাংলাভাষীর সংখ্যা তাদের ছাপিয়ে যেতো। সে উপাখ্যান সম্ভবতঃ বর্তমান শাসকরা আরাম করে বিস্মৃত হয়েছে।
যাক, সেটা অন্য প্রসঙ্গ। কিন্তু, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে সেটাই পুরোপুরি ঘটনা নয়, আংশিক মাত্র। আসলে, আলাদা দেশ হিসেবে চিহ্নিত হবার আগে চট্টগ্রাম ও আরাকান অঞ্চলের মধ্যে মানুষের যাতায়াতে তো সীমারেখা পাঁচিল হয়ে দাঁড়ায় নি। উত্তর পূর্ব ভারত, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল(বিশেষতঃ চট্টগ্রাম) ও মায়ানমারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষ। ভারতে তো মিজো-কুকি-চিন প্রভৃতি গোষ্ঠীর লোকজন ও তাদের আত্মীয় স্বজন এখনো বিয়ে -মৃত্যু- সামাজিক অনুষ্ঠানে ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে যাতায়াত করে। তাদের জন্য FMR(Free Movement Regime) এখনো চালু আছে, যদিও মণিপুরের ঘটনার পর কিছুটা নিয়ন্ত্রিত। আসলে, মানুষ কি কোনো দিন স্থির ভাবে কোথাও স্থায়ী আস্তানা গেড়েছে না সেটা সম্ভব হয়েছে? গোটা মানব সভ্যতার ইতিহাসই হলো বিভিন্ন গোষ্ঠীর স্থান পরিবর্তন, সংঘাত, বিভিন্ন গোষ্ঠীর সম্মিলন, নতুন গোষ্ঠীর উদ্ভবের মধ্যে দিয়ে। কোথাও কোনো স্থায়ী ও বিশুদ্ধ জনগোষ্ঠী কি আদৌ থাকা সম্ভব? চট্টগ্রাম-আরাকান অঞ্চলে তো আরও কয়েকটা জনগোষ্ঠী আছে, যাদের বিস্তৃতির পরিধি রয়েছে এলাকার বাইরেও, যেমন চাকমা, মার্মা (এককালে যারা ‘মগ’ হিসাবে কুখ্যাত ছিল)। তবে যেহেতু তারা মূলতঃ বুদ্ধিস্ট, তাই মায়ানমারে অসুবিধেয় পড়ে না যদিও বাংলাদেশে আবার চিত্রটা ঠিক উল্টো। মুশকিলটা এখানেই, যখন শাসকের পরিচয় হয় বিশেষ ধর্মীয় আনুগত্যের। তখন যুক্তি তর্কের বদলে মূল প্রতিপাদ্য হয় রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিজস্ব ও পক্ষপাতদুষ্ট বয়ান, যা তৈরি করতে সচেষ্ট হয় তার স্বতন্ত্র narrative।
আরাকান অঞ্চল আরব বণিকদের কাছে ‘রোহাঙ’ বলে পরিচিত ছিল, সম্ভবতঃ রোহিঙ্গা শব্দের উৎপত্তি তা থেকেই,অর্থাৎ ‘আরাকানের বাসিন্দা’।
রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর উদ্ভব সম্ভবতঃ যখন আরব ও পারসিক বণিকদের একটা অংশ ও তাদের সহযোগীরা থেকে যায় চট্টগ্রাম ও আরাকান অঞ্চলে। সংসার পাতে স্থানীয়দের সঙ্গে, চট্টগ্রাম বন্দর তখন দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক বন্দর। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইবনে বতুতা চট্টগ্রাম ও সোনারগাঁওয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আরাকান রাজদরবারে এদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল, সম্ভবতঃ ফার্সি ভাষায় ব্যুৎপত্তির কারণে। সেই সময়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ফার্সিতে দলিল লেখার একটা চল ছিল।
পরবর্তী কালে সাজাহান পুত্র শাহ সুজার সঙ্গে আসা মোগল বাহিনীর একটা অংশও সম্ভবতঃ এদের সঙ্গে যোগ দেয়। আর, তার সাথে নিশ্চিত ভাবে ছিল আরাকান অঞ্চলে ব্রিটিশ কর্তৃক প্রেরিত কৃষককুল। সব মিলিয়ে আরাকান অঞ্চলে( রাখিন প্রদেশে) তৈরি হয় এক জনগোষ্ঠী যারা প্রধানতঃ মুসলিম, যাদের ভাষা আরবি-ফার্সি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংমিশ্রণ। লেখার হরফ বর্তমানে পরিবর্তিত ( modified) আরবি (হানিফি হরফ), কিংবা কিছু ক্ষেত্রে ল্যাটিন বর্ণমালা।
আসলে প্রশ্নটা যতটা না জাতিগত, সম্ভবতঃ তার থেকে বেশি ধর্মীয় আনুগত্যের। সে আর কী করা যাবে? তবে,বারে বারে আক্রান্ত হলেও মারাত্মক আঘাত নেমে আসে ২০১৭ সালে। তিনশোর বেশি গ্রাম ভস্মীভূত হয় সম্পূর্ণ বা আংশিক ভাবে, কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ যায় এবং উৎপাটিত হয় ১৫ লক্ষের মধ্যে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ। যারা পড়েছিল তারাও বিতাড়িত হয়েছে পরবর্তী কালে, অল্প কিছু দেশের মধ্যে, বেশিরভাগই বাইরে। মূল অংশ এসেছে বাংলাদেশে, তাছাড়া থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশেও গিয়ে পৌঁছেছে অতি বিপজ্জনক ভাবে অনেক ক্ষেত্রে নৌকায় আরোহী হয়ে। নিঃসন্দেহে, তাদের একটা ভালো অংশ হারিয়ে গেছে চিরতরে। সারা পৃথিবীতে ethnic cleansing এতো বড় উদাহরণ আর কটা আছে বলতে পারেন?
ভারতে ঠিক কতজন রোহিঙ্গা আছে? সুপ্রিম কোর্টে সাম্প্রতিক কালে একটি জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়, এই বছরের মে মাসে চল্লিশ জন রোহিঙ্গা যাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধও ছিল, তাদের দিল্লি থেকে প্রথমে আন্দামান ও পরে নৌবাহিনীর জাহাজে নিয়ে গিয়ে মায়ানমার উপকুলের কিছু দূরত্বে লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে জলে ফেলে দেওয়া হয়। অভিযোগ রাখেন প্রবীণ আইনজীবী কলিন গনসালভেস। প্রাথমিক ভাবে সুপ্রিম কোর্ট অভিযোগকে পুরো উড়িয়ে দেয়। বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, beautifully crafted story! তবে, United Nations এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে খোঁজ খবর করায় এবং BBC প্রতিবেদন রাখায়, মামলা পরে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চে পাঠানো হয়। কোর্টে ভারত সরকার থেকে জানানো হয়, চুয়াল্লিশ হাজারের মতো রোহিঙ্গা ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। ভারত সরকারের ক্ষেত্রবিশেষে উদ্বাস্তুদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়, এবং এ ক্ষেত্রে সরকার এদের ‘টেররিস্ট’ হিসেবেই গণ্য করছে। তাই এদের ভারতে থাকার অধিকার নেই। প্রসঙ্গতঃ, এটা উল্লেখ করা উচিত, ১৯৫১ সালে UNHCR(United Nations High Commission for Refugees) তৈরির সময়ে এবং পরে ১৯৬৭ তার বিশেষ অধিবেশনের গৃহীত প্রস্তাবের কোনোটাতেই ভারত সরকার signatory নয়। নেহরু ও পরবর্তী কংগ্রেস সরকারের এই কাজে অন্ততঃ বর্তমান সরকারের যথেষ্ট খুশি হওয়া উচিত। ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের প্রায় ২২ হাজার UNHCR রেজিস্ট্রার্ড হলেও (কোর্টে বলা হয় ৮ হাজার), ভারতে তার কোনো আইনি গুরুত্ব নেই। যেমন ১৯৬৭ সালের প্রস্তাবে আছে, কোনো উদ্বাস্তুকে তার শত্রু স্থানীয় দেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়।
তবে, এই সব উচিত-অনুচিত নিয়ে কে মাথা ঘামায়?! ডিটেনশনে থাকা রোহিঙ্গাদের জোর করে বাংলাদেশ এ মায়ানমার সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগও অব্যাহত, কোর্টের শুনানি হোক বা না হোক !!
প্রশ্নটা হলো, ভারত সরকারের কাছে কি এমন কোনো তথ্য আছে যে এদেশে রোহিঙ্গারা কোনো বিশেষ ষড়যন্ত্রে জড়িত? যদি থাকে তাহলে তো তা অবশ্যই সামনে নিয়ে আসা দরকার। নাহলে, সেই ব্রিটিশ শাসনের ট্র্যাডিশন অনুসারে একটা পুরো জাতি বা গোষ্ঠীকে ‘অপরাধী’ তকমা লাগানো কতটা যুক্তিযুক্ত হবে বলতে পারেন?
এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তো যেখানে সেখানে রোহিঙ্গা দেখতে পাচ্ছেন। হতেই পারে, তৃণমূল দল কিছু রোহিঙ্গার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে যথারীতি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে লাগাচ্ছে। কিন্তু, সেগুলো তো সুনির্দিষ্ট ভাবেই বিরোধী দলনেতার জানার কথা, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে ; বরং সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যগুলোই তুলে ধরুন। সারা ভারতে জম্মু কাশ্মীর, দিল্লি, হায়দ্রাবাদ, কেরালা, আসাম ও পঃ বাঙলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আছে খুব বেশি হলে আশি হাজারের কিছু বেশি রোহিঙ্গা(latest estimate by UNHCR)। তাহলে, এই রাজ্যে কতো থাকতে পারে, আট থেকে দশ হাজার, কিংবা আর একটু বেশি?! তারাই সর্বত্র দৃশ্যমান আর সব নষ্টের মূলেও সেই তারাই??!
একটা বিষয়ে আমার খুব আশ্চর্য লাগে যে কেন রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রগতিশীল বা বামপন্থীদের সেরকম কোনো প্রতিক্রিয়া নেই! হতে পারে ওদের মধ্যে প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা বা শিল্প সাহিত্য সেভাবে অগ্রসর নয়, কিংবা এই সব বিতর্ক থেকে হয়তো সযত্ন দূরত্ব রাখাই শ্রেয় অন্ততঃ বর্তমান পরিস্থিতিতে!!
রাজনৈতিক সমীকরণ বোঝা শক্ত। তবে,রোহিঙ্গারা ভালো না খারাপ এই বিতর্কে না ঢুকেও একটা কথা বোধহয় পরিষ্কার করে বলা যায়, এদের মতো হতভাগ্য গোষ্ঠী খুব কম আছে। না, এদের জন্য চোখের জলও ফেলতে হবে না, বা সহানুভূতিও দেখাতে হবে না; শুধু দয়া করে এদের একটা আতঙ্কের বিষয়বস্তু ভূত প্রেত দত্যি দানোর মতো কিছু তৈরি করার চেষ্টা করবেন না। এমন যেন না হয় যে মায়েরা বাচ্চাদের খাওয়ানো বা ঘুম পাড়ানোর সময় বলতে থাকে, ‘ঐ দেখো রোহিঙ্গা আসছে’ !!










