রাজ্যে রাজ্যে বাঙালিদের বাংলাদেশী হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া, বিবিধ প্রকার হেনস্থা, এমনকি বাঙালি খেদানো ইত্যাদির প্রতিবাদে বাংলা ও বাঙালির একমাত্র সর্বভারতীয় দলটি প্রতিবাদে গর্জে উঠেছে। খুবই আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ, নিঃসন্দেহে।
এই গুরুগম্ভীর পরিবেশে কেন্দ্রের শাসকদলের পশ্চিমবঙ্গীয় সভাপতি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে এমন একটি প্রতিবাদস্থলে, দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ছবিও পোড়ানো চলছে।
ভিডিওটি অবাক করার মতো। বিধাতার কাছে রবীন্দ্রনাথ সাতকোটি সন্তান যে বাঙালি হয়েই রইল, মানুষ হলো না, এই মর্মে আক্ষেপ করলেও তিনি কোনও ভাবে বাঙালি-বিদ্বেষী এমন খবর পাইনি – সুতরাং বাঙালি-‘অস্মিতা’-র পক্ষে যে বিক্ষোভ-সমাবেশ, সেখানে রবি ঠাকুরের ছবি পোড়ানোর যুক্তিটা বুঝতে পারছিলাম না।
স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিয়েছিলাম, ভিডিওটি ভুয়ো। কেন্দ্রের শাসক দলের যা রেকর্ড, তাতে তাঁদের তরফে পোস্ট করা ভিডিও সাধারণত ভুয়োই হয় – অতএব, এ নিয়ে অবাক হওয়ার মানে হয় না।
কিন্তু এক্ষেত্রে আমার ভুল ভেঙে দিলেন “খেলা হবে”-র মতো কালজয়ী গানের বলিষ্ঠ সঙ্গীতকার। রাজ্যের শাসকদলের তরুণ নক্ষত্র জানালেন – রবীন্দ্রনাথের ছবিটিকে নরেন্দ্র মোদী-র (নাকি অমিত শাহ-র?) ছবি বলে ধরে নেবার কারণেই এই ভুল। আর যেহেতু নরেন্দ্র মোদী একদা দাড়ি রেখেছিলেন (এবং দাড়িহীন রবীন্দ্রনাথের ছবি কেউই দেখেনি), সুতরাং এই গুলিয়ে যাওয়াটা নিতান্তই স্বাভাবিক। অন্তত অস্বাভাবিক তো নয়ই। হ্যাঁ, বিশ্বাস করুন, দেবাংশুবাবু সত্যিই এই যুক্তিটা দিয়েছেন!
দেখুন, তৃণমূলের যা-ই সমালোচনা করি, স্থানীয় স্তরে সেই দলের কর্মীদের বঙ্গসংস্কৃতি-প্রেমের আন্তরিকতা থেকে শুরু করে দেবাংশুবাবুর মতো উঠতি নেতার উদ্ভাবনী চেতনা – আচমকা বয়ে আসা বসন্তের বাতাসের মতো করে – আপনি পছন্দ করুন বা না করুন, তারা ঠিকই তাদের মতো করে একান্ত বিরোধীকেও আপন করে নেয়, এমনকি তাদের এই অকুণ্ঠ সারল্যের চোটে প্রেমে পড়ে যেতে বাধ্য করে।
সুতরাং… জয় বাংলা!











